রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীতে ১০ শ্রেণি পড়ুয়া তরুণী ফাতেমা আক্তার লিলিকে গলাকেটে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন গ্রেপ্তার সন্দিগ্ধ হোটেল কর্মী মিলন। মূলত তার ভাষ্য অনুযায়, তিনি লিলিকে তাঁর সাথে পালিয়ে যেতে বললে লিলি যেতে চাই না। একপর্যায়ে লিলি বলেন হোটেলের মালিকের মেয়ে হয়ে কর্মচারীর সাথে কেন যাবো? এভাবে বাকবিতণ্ডা হতে থাকে। এক সময় মিলন লিলিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে।
মিলনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র্যাব-৩ জানায়,
গ্রেপ্তার মিলন মল্লিকের সঙ্গে নিহত স্কুলছাত্রী লিলির সু-সম্পর্ক ছিল। তবে এই সম্পর্কের সুবাদে সে বিভিন্ন সময় আকার-ইঙ্গিতে লিলির কাছে প্রেমের বহিঃপ্রকাশ করত এবং লিলির পরিবার বাসা থেকে গ্রামের বাড়িতে গেলে মিলন লিলিকে নিয়ে পালিয়ে যাবে বলে তাকে জানায়। পরবর্তীতে সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর ২টা ২৫ মিনিটের দিকে বাসায় একা পেয়ে মিলন লিলিকে তার সঙ্গে পালিয়ে যেতে প্রস্তাব দেয়।
কিন্তু সেই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে লিলি তাকে জানায়, রেস্তোরাঁ মালিকের মেয়ে হয়ে সে কর্মচারীর সঙ্গে যাবে না। সেই সঙ্গে লিলি মিলনকে ‘বামন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়াতে’ নিষেধ করে। একপর্যায়ে নিজের এমন অনৈতিক প্রস্তাবে সহযোগিতা না করার কারণে মিলন এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। তবে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ ও বিস্তর তদন্তে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে বলেও জানিয়েছে র্যাব।
এ আগে সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে র্যাব সদর দপ্তর থেকে এক ক্ষুদেবার্তায় মিলনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানায় র্যাব। বাগেরহাট সদর থানা এলাকায় র্যাব-৩ ও র্যাব-৬ এর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীর ভাড়া বাসায় দশম শ্রেণি পড়ুয়া ফাতেমা আক্তার লিলিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলাকেটে হত্যার ঘটনা ঘটে। ওইদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
স্কুলছাত্রী লিলি হবিগঞ্জের লাখাই থানার বামৈন গ্রামের সজিব মিয়ার মেয়ে। তার বয়স আনুমানিক ১৬ বছর। বাবা-মা ও বোনের সঙ্গে দক্ষিণ বনশ্রীর ওই বাসায় থাকত সে। তবে ঘটনার সময় লিলির পরিবারের কেউ বাসায় ছিলেন না। তার বাবা-মা এক আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। আর তার বড় বোন ঘটনার সময় জিমে ছিলেন।