বিদেশ : ইরানে ব্যাপক যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার সুযোগ নিয়ে সরকার হত্যাযজ্ঞ চালাতে পারে। গত শুক্রবার এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ইরানি মানবাধিকার আইনজীবী শিরিন এবাদি। এ বিষয়ে পশ্চিমা সরকারগুলোকে দ্রুত ও প্রকাশ্যে মুখ খুলতে আহ্বান জানিয়েছেন। ইসরায়েল ভিত্তিক অনলাইন সংবাদ মাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল এ খবর জানিয়েছে। শিরিন এবাদি প্রকাশিত বিবৃতিতে বলেছেন, আজ রাতে আমি জরুরি অবস্থার কথা জানাতে বাধ্য হচ্ছি। আজ রাতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ব্যাপক যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার আড়ালে একটি হত্যাযজ্ঞ পরিচালনার করার চেষ্টা করতে পারে। তিনি আরও বলেছেন, ইরানের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় নেমেছে। কিন্তু তাদের জবাব গুলিতে দেওয়া হয়েছে । ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ হওয়া কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়। এটি একটি কৌশল মাএ। তিনি পশ্চিমা সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তারা যেন অবিলম্বে সরকারের উপরে প্রকাশ্য চাপ সৃষ্টি করে, যাতে বেসামরিক মানুষের ওপর সরাসরি গুলি চালানো বন্ধ হয়, হাসপাতাল গুলো সুরক্ষিত থাকে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা হয়। দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে, নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস এর তথ্য অনুযায়ী, সামপ্রতিক দেশজুড়ে বিক্ষোভে অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নয়জন শিশু। এই সহিংসতার মধ্যেই কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়। গত শুক্রবার দেওয়া এক ভাষণে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বর্তমান বিক্ষোভ দমনে সরকার ছাড় নয়, বরং শক্তি প্রয়োগের পথেই হাঁটবে। তার এই বক্তব্যে চলমান দমন-পীড়ন আরও জোরালো হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। ফলে ইরানে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট শাটডাউন রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামপ্রতিক দিনগুলোতে তেহরানকে একাধিকবার প্রকাশ্যে সতর্ক করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা অব্যাহত রাখে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ নিতে পারে।তবে এই হুঁশিয়ারি বাস্তব নীতিতে রূপ নেবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ইরানের ভেতরের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়ার দিকে আন্তর্জাতিক বিশ্ব তাকিয়ে রয়েছে ।