বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে শপথ নিয়েছেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে শপথগ্রহণের পর তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ঢাকার মার্কিন দূতাবাস শনিবার (১০ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনা ও সম্পদবিষয়ক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল জে রিগাস শপথ অনুষ্ঠানে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে শপথবাক্য পাঠ করান। নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে তাকে স্বাগত জানিয়ে দূতাবাস আশাবাদ ব্যক্ত করে যে, তার অভিজ্ঞতা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন গতি দেবে।
শপথ নেওয়ার পর ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, “যে দেশটির সঙ্গে আমি খুব ভালোভাবে পরিচিত, সেই বাংলাদেশে ফিরতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত।” তিনি বলেন, ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে আমেরিকান ও স্থানীয় কর্মীদের নিয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী দলের নেতৃত্ব দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে তিনি কাজ করতে চান। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন।
মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন সোমবার (১২ জানুয়ারি) ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তার যোগদান উপলক্ষে ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন গত ডিসেম্বরে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন চূড়ান্ত করে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট তার নিয়োগ অনুমোদন দেয়। গত ১৯ ডিসেম্বর লিংকডইনে দেওয়া এক পোস্টে ক্রিস্টেনসেন নিজেই সেই অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন সার্ভিসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তিনি এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকায় তার আগমনকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক মহল।
ঢাকায় সবশেষ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন পিটার হাস। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবেই ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।