ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিল ও গ্রহণ নিয়ে যেসব প্রার্থী আপিল করছেন, তারা ন্যায়বিচার পাবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। তাঁর ভাষায়, নির্বাচন কমিশন ইনসাফে বিশ্বাসী এবং আইন ও বিধি অনুযায়ীই প্রতিটি আপিলের নিষ্পত্তি হবে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, এবার কোনো পাতানো নির্বাচন হবে না এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের প্রাঙ্গণে আপিল আবেদনের বুথ পরিদর্শনে গিয়ে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সিইসি। তিনি বলেন, “আমরা ইনসাফে বিশ্বাসী, আমরা ইনসাফ করবো। শুনানির পরে আইন ও বিধি অনুযায়ী যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা, সেটাই হবে। আইন সবার জন্য সমান এবং সবাইকে তা মানতে হবে।”
এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র ও দলীয় মিলিয়ে আড়াই হাজারের বেশি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল করেন। ফলে বর্তমানে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৪২ জনে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ঋণখেলাপি হওয়া, দ্বৈত নাগরিকত্ব, মামলার তথ্য গোপন, এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন তালিকায় অসঙ্গতিসহ বিভিন্ন কারণে প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন গ্রহণ শুরু হয় সোমবার থেকে। বৃহস্পতিবার ছিল আপিল আবেদনের চতুর্থ দিন। এ পর্যন্ত তিন দিনে মোট ২৯৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। আপিল আবেদন জমা নেওয়া চলবে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) পর্যন্ত।
সিইসি জানান, নির্বাচন কমিশনই আপিল কর্তৃপক্ষ। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে কেউ ক্ষুব্ধ হলে কিংবা কারও মনোনয়ন বৈধ হলেও আপত্তি থাকলে আইন অনুযায়ী আপিল করা যাবে। তিনি বলেন, “রিটার্নিং কর্মকর্তারা আইন অনুযায়ী তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন। এখন যারা আপিল করবেন, কমিশন আইন মেনেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।”
রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে উদ্বেগের কথা বলা হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এবারের মনোনয়ন জমা প্রক্রিয়া ছিল ব্যতিক্রম। তাঁর কথায়, “আগে মনোনয়ন জমার সময় অনেক সহিংসতা হতো। এবার কোথাও মারামারি, বোমা বা বড় ধরনের গোলযোগের তথ্য পাইনি। এটা ইতিবাচক দিক।”
তিনি আরও বলেন, আপিল করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যেভাবে মানুষ আসছেন, তা নির্বাচনের প্রতি আগ্রহেরই প্রতিফলন। নির্বাচন কমিশন এই আগ্রহকে ইতিবাচকভাবে দেখছে।
নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, আপিল আবেদনের শুনানি শুরু হবে শনিবার (১০ জানুয়ারি) এবং চলবে রোববার (১৮ জানুয়ারি) পর্যন্ত। এরপর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় সোমবার (২০ জানুয়ারি)। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি)। নির্বাচনি প্রচার শুরু হবে বুধবার (২২ জানুয়ারি) এবং চলবে সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি)।