ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য দেশ ও দেশের বাইরে নিবন্ধনের সময় শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সোমবার (৫ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টায় অ্যাপভিত্তিক এই নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ হয়। নির্বাচন কমিশনের হিসাবে, শেষ সময় পর্যন্ত মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে দেশের ভেতর থেকে আবেদন করেছেন ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪০ জন। এদের মধ্যে নিজ এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবী রয়েছেন ৫ লাখ ৭৫ হাজার ২০০ জন। নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত ভোটার ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪২ জন। আনসার ভিডিপির সদস্য ১০ হাজার ১০ জন। এছাড়া কারাগারে থাকা অবস্থায় ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন ৬ হাজার ২৮৩ জন।
বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণও এবার উল্লেখযোগ্য। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১২৩টি দেশে থাকা প্রবাসীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন। প্রবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন হয়েছে সৌদি আরব থেকে। দেশটি থেকে আবেদন করেছেন ২ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৬ জন ভোটার। মোট প্রবাসী নিবন্ধনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪২ জনে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসীদের জন্য নিবন্ধন শুরু হয় ১৯ নভেম্বর। একই অ্যাপের মাধ্যমে দেশের ভেতরে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি, নিজ এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবী এবং আইনি হেফাজতে থাকা ভোটারদেরও নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়।
ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর নিবন্ধিত ভোটাররা নিজ নিজ আসনের প্রার্থী তালিকা দেখতে পারবেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রার্থীর নাম ও প্রতীক দেখে ‘টিক’ চিহ্ন দিয়ে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়া যাবে। প্রতীক বরাদ্দের পরদিন থেকেই ভোট দেওয়া ব্যালট ডাকযোগে পাঠানো যাবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছাতে না পারলে তা গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে না বলেও জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের বাইরে থাকা এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে থাকা ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় উদ্যোগ। নিবন্ধনের এই সংখ্যা সেই আগ্রহেরই প্রতিফলন।