স্পোর্টস: ওয়াশিংটনে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের ড্র অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ ডিসেম্বর। কিন্তু অনুষ্ঠানের ঠিক আগে তা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। প্রতিনিধি দলের কয়েকজনকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এমন সিদ্ধান্ত জানায় দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। তেহরান টাইমস, ভারজেশ থ্রি এবং ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ভিসা না-পাওয়া সদস্যদের মধ্যে আছেন ফেডারেশন সভাপতি মেহদি তাজসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের মুখপাত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে খেলাধুলার কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁদের দাবি, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেছে যে ড্র অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের প্রশ্নই ওঠে না। ভিসা প্রত্যাখ্যান ইস্যু প্রকাশ্যে আসার পরই এই অবস্থান আরও দৃঢ় হয়।
ইরানি ক্রীড়া ওয়েবসাইট ভারজেশ থ্রি জানায়, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন কর্মকর্তার ভিসা আবেদন যুক্তরাষ্ট্র ফিরিয়ে দিয়েছে। এ সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক বলে আখ্যা দেন মেহদি তাজ। তিনি বলেন, বিষয়টি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে তোলা হলেও কোনো কার্যকর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তেহরান টাইমস জানায়, চারজনকে ভিসা দেওয়া হয়েছে, যাঁদের মধ্যে আছেন জাতীয় দলের কোচ আমির ঘালেনোয়ি। কিন্তু শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ভিসা না পাওয়ায় পুরো দলই ড্র থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র আশ্বস্ত করেছিল যে কোনো অংশগ্রহণকারী দল ভিসা সমস্যায় পড়বে না। ইনফান্তিনোও আগেই বলেছিলেন, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে তাঁদের আলোচনা চলছে। পরে ফিফা টিকিটধারীদের জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক ‘ফিফা পাস’ চালু করে, যদিও এতে অনুমোদনের নিশ্চয়তা নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক চার দশকের বেশি সময় ধরে উত্তেজনাপূর্ণ। পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক রাজনীতি নিয়ে দুই দেশের মতবিরোধ দীর্ঘদিনের। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চললেও জুনে ইসরায়েলের নজিরবিহীন হামলা পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রও স্বল্প সময়ের জন্য জড়ালে আলোচনাও থেমে যায়। এরই প্রতিফলন এবার দেখা গেল ফুটবলের মঞ্চে।
ইরান টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে উঠেছে, মোট সাতবার খেলেছে। নকআউট পর্বে উঠতে না পারলেও ১৯৯৮ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ২-১ গোলের ঐতিহাসিক জয়ের স্মৃতি এখনও উজ্জ্বল। ২০২২ আসরে অবশ্য সেই হারের প্রতিশোধ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এবার নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনার ছায়া পড়ল ড্র অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে।