Dhaka ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছয় সন্তান, দুই স্ত্রী-কার ভাগে যাবে ধর্মেন্দ্রর ৪০০ কোটি রুপি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৪৪:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • ৭৪ Time View

বিনোদন: বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র গত সোমবার না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার পর তার রেখে যাওয়া বিপুল সম্পদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ৯০তম জন্মদিনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে পৃথিবীকে বিদায় জানালেন তিনি। রেখে গেলেন দুই স্ত্রী প্রকাশ কৌর ও হেমা মালিনী এবং ছয় সন্তান সানি দেওল, ববি দেওল, অজিতা দেওল, বিজেতা দেওল, এষা দেওল ও অহনা দেওলকে। এখন ভক্তদের মূল কৌতূহল এই প্রায় ৪০০ কোটি রুপির সম্পত্তি কীভাবে ভাগ হবে। ধর্মেন্দ্রর সম্পদের তালিকা বেশ দীর্ঘ। মুম্বাইয়ের একটি বিলাসবহুল বাংলো, লোনাওয়ালার ১০০ একরের বিশাল ফার্মহাউস, প্রায় ১৭ কোটি রুপির আবাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পদ, জনপ্রিয় গরম ধরম ধাবা চেইন, হরিয়ানার হি ম্যান রেস্তোরাঁ, দামি গাড়ির সংগ্রহ এবং বড় মেয়ে বিজেতার নামে প্রতিষ্ঠিত প্রযোজনা সংস্থা বিজেতা ফিল্মস-সব মিলিয়ে তার মোট সম্পদ আনুমানিক ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি রুপি। জীবনের শেষ সময়টাও তিনি কাটিয়েছেন লোনাওয়ালার ওই ফার্মহাউসেই প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌরের সঙ্গে। তবে এসব সম্পত্তি ঠিক কার ভাগে যাবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ ধর্মেন্দ্র জীবদ্দশায় কোনো ধরনের উইল রেখে যাননি। ভারতীয় উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, উইল ছাড়া মৃত্যুবরণ করলে ছয় সন্তানেরই সমান অধিকার থাকে। অর্থাৎ সানি, ববি, অজিতা, বিজেতা, এষা ও অহনা-প্রত্যেকে সমান অংশের দাবি করতে পারেন। এখানেই জটিলতা তৈরি হচ্ছে দুই স্ত্রীর আইনি অবস্থান ঘিরে। দিল্লি হাইকোর্টের আইনজীবী কমলেশ কুমার মিশ্র জানিয়েছেন, যদি প্রকাশ কৌরের সঙ্গে ধর্মেন্দ্রর প্রথম বিবাহ আইনত বহাল থেকে থাকে, তবে বহুবিবাহবিষয়ক হিন্দু আইন অনুযায়ী হেমা মালিনী স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তির অংশীদার হবেন না। তার ভাষায়, “ধর্মেন্দ্রর ছয় সন্তানেরই সম্পত্তির ওপর দাবি থাকবে, কিন্তু দুই স্ত্রীর আইনি অধিকার সমান নয়। ”অন্যদিকে, কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে ধর্মেন্দ্র নাকি প্রথম বিবাহ বহাল থাকা অবস্থায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে হেমা মালিনীকে বিয়ে করেছিলেন। যদি এই দাবি সত্য হয়, তবে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন হেমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। ফলে সম্পত্তি বণ্টনের নিয়ম সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে এবং আইনগত ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করবে। তবে ব্যক্তিগতভাবে এই সম্পত্তি নিয়ে আগ্রহ নেই হেমা মালিনীর। ২০২২ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন, “আমি তার কাছ থেকে কখনোই টাকার আশা করিনি, শুধু ভালোবাসাই চেয়েছি। তার সম্পত্তি বা অর্থ আমার দরকার নেই। ”সব মিলিয়ে, ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া এই বিপুল সম্পত্তির বণ্টন যে শিগগিরই আইনি আলোচনার জন্ম দেবে, তা বলাই যায়।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

অবৈধ ডিগ্রি, দুদকের অভিযান, নিষেধাজ্ঞা অমান্য  করে চিকিৎসা,তবুও বহাল তবিয়্যতে চেম্বার

ছয় সন্তান, দুই স্ত্রী-কার ভাগে যাবে ধর্মেন্দ্রর ৪০০ কোটি রুপি

Update Time : ০৬:৪৪:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

বিনোদন: বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র গত সোমবার না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার পর তার রেখে যাওয়া বিপুল সম্পদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ৯০তম জন্মদিনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে পৃথিবীকে বিদায় জানালেন তিনি। রেখে গেলেন দুই স্ত্রী প্রকাশ কৌর ও হেমা মালিনী এবং ছয় সন্তান সানি দেওল, ববি দেওল, অজিতা দেওল, বিজেতা দেওল, এষা দেওল ও অহনা দেওলকে। এখন ভক্তদের মূল কৌতূহল এই প্রায় ৪০০ কোটি রুপির সম্পত্তি কীভাবে ভাগ হবে। ধর্মেন্দ্রর সম্পদের তালিকা বেশ দীর্ঘ। মুম্বাইয়ের একটি বিলাসবহুল বাংলো, লোনাওয়ালার ১০০ একরের বিশাল ফার্মহাউস, প্রায় ১৭ কোটি রুপির আবাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পদ, জনপ্রিয় গরম ধরম ধাবা চেইন, হরিয়ানার হি ম্যান রেস্তোরাঁ, দামি গাড়ির সংগ্রহ এবং বড় মেয়ে বিজেতার নামে প্রতিষ্ঠিত প্রযোজনা সংস্থা বিজেতা ফিল্মস-সব মিলিয়ে তার মোট সম্পদ আনুমানিক ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি রুপি। জীবনের শেষ সময়টাও তিনি কাটিয়েছেন লোনাওয়ালার ওই ফার্মহাউসেই প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌরের সঙ্গে। তবে এসব সম্পত্তি ঠিক কার ভাগে যাবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ ধর্মেন্দ্র জীবদ্দশায় কোনো ধরনের উইল রেখে যাননি। ভারতীয় উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, উইল ছাড়া মৃত্যুবরণ করলে ছয় সন্তানেরই সমান অধিকার থাকে। অর্থাৎ সানি, ববি, অজিতা, বিজেতা, এষা ও অহনা-প্রত্যেকে সমান অংশের দাবি করতে পারেন। এখানেই জটিলতা তৈরি হচ্ছে দুই স্ত্রীর আইনি অবস্থান ঘিরে। দিল্লি হাইকোর্টের আইনজীবী কমলেশ কুমার মিশ্র জানিয়েছেন, যদি প্রকাশ কৌরের সঙ্গে ধর্মেন্দ্রর প্রথম বিবাহ আইনত বহাল থেকে থাকে, তবে বহুবিবাহবিষয়ক হিন্দু আইন অনুযায়ী হেমা মালিনী স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তির অংশীদার হবেন না। তার ভাষায়, “ধর্মেন্দ্রর ছয় সন্তানেরই সম্পত্তির ওপর দাবি থাকবে, কিন্তু দুই স্ত্রীর আইনি অধিকার সমান নয়। ”অন্যদিকে, কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে ধর্মেন্দ্র নাকি প্রথম বিবাহ বহাল থাকা অবস্থায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে হেমা মালিনীকে বিয়ে করেছিলেন। যদি এই দাবি সত্য হয়, তবে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন হেমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। ফলে সম্পত্তি বণ্টনের নিয়ম সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে এবং আইনগত ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করবে। তবে ব্যক্তিগতভাবে এই সম্পত্তি নিয়ে আগ্রহ নেই হেমা মালিনীর। ২০২২ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন, “আমি তার কাছ থেকে কখনোই টাকার আশা করিনি, শুধু ভালোবাসাই চেয়েছি। তার সম্পত্তি বা অর্থ আমার দরকার নেই। ”সব মিলিয়ে, ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া এই বিপুল সম্পত্তির বণ্টন যে শিগগিরই আইনি আলোচনার জন্ম দেবে, তা বলাই যায়।