বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের কচুয়ায় আদালতের আদেশ অমান্য করে জমি দখল, সীমানাপ্রাচীর ও গেট ভাঙচুর এবং গাছপালা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে মো. মইনুল ইসলাম শিকদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জমি উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও পরিবারের নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সৌদি প্রবাসী সালমা আক্তার।
রোববার (২৪ আগস্ট) বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সালমা আক্তার বলেন, কচুয়া উপজেলার খলিসাখালী মৌজার এসএ-৫২ ও বিএস-৩২ নম্বর মৌজার ২৯৫, ৩০৪ ও ৩০৫ নম্বর খতিয়ানের ওয়ারিশদের কাছ থেকে ২০১৩ ও ২০১৪ সালে বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে তিনি মোট ০.২২ একর জমি ক্রয় করেন। জমিটি দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছর ধরে তিনি ভোগদখল করে আসছেন।
তিনি বলেন, জমিটি পতিত থাকায় প্রায় ৪-৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মাটি ও বালু ভরাট করে সীমানায় তারকাঁটার বেড়া, ইটের দেয়াল ও গেট নির্মাণ করেন। পাশাপাশি টিনশেড আধাপাকা ঘর, পুকুর ও বিভিন্ন ফলদ গাছও স্থাপন করেন।
সালমার অভিযোগ, তিনি সৌদি আরবে অবস্থানের সুযোগে কচুয়ার বাসিন্দা মো. মইনুল ইসলাম শিকদার তার জমিতে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে সীমানাপ্রাচীর ও গেট ভেঙে জমিতে প্রবেশ, গাছপালা কেটে ফেলা এবং পুরোনো গেট সরিয়ে নতুন গেট নির্মাণ করা হয়।
এ ঘটনায় তিনি বাগেরহাট জেলা জজ আদালতে ১৪০/২০২৬ নম্বর মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান। তার দাবি, আদালত থেকে নোটিশ জারির পরও প্রতিপক্ষ জমিতে দখল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে সালমা আক্তার বলেন, একজন প্রবাসীর কষ্টার্জিত সম্পত্তি দেশে নিরাপদ না থাকলে সাধারণ মানুষ কোথায় নিরাপত্তা পাবে। তিনি জমি বুঝিয়ে দেওয়া, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং নিজের পরিবার ও ভাড়াটিয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে জমি দখলের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মো. মইনুল ইসলাম শিকদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সালমা আক্তার জানান, জমির দলিলসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও প্রমাণাদি তার কাছে রয়েছে। তিনি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগটি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন বলেন, “এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”