Dhaka ১২:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খাবারের সময় কথা বলা কি উচিত? জেনে নিন ইসলামে কী বলে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৪৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১৬২ Time View

প্রশ্ন: খাওয়ার সময় কথা বললে কি গুনাহ হয়? অনেকেই বলে থাকেন হাদিসে খাওয়ার সময় কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। আর খাওয়ার সময় কোন দোয়াগুলো পড়বো?

উত্তর: খাওয়ার সময় কথাবার্তা বলা নিষিদ্ধ নয় বা অনুচিতও নয়। নবিজি (সা.) খাওয়ার সময় কথা বলতে নিষেধ করেননি। এ অর্থে যে হাদিস বলা হয় তা বানোয়াট। বরং বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত বিভিন্ন হাদিস থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর রাসুল (সা.) ও তার সাহাবিগণ খাওয়ার সময় সময় কথাবার্তা বলতেন। তাই খাওয়ার সময় কথাবার্তা বলা যেতে পারে, গুনাহ হওয়ার কোনো কারণ নেই।

খাওয়ার সময় যে দোয়া গুলো পড়বেন
খাওয়ার অপরিহার্য দোয়া হলো, খাওয়া শুরু করার সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলে আল্লাহর নামে খাওয়া শুরু করা। ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ অর্থাৎ ‘পরম করুণাময় দয়াময় আল্লাহর নামে শুরু করছি’ বলতে পারেন অথবা বলতে পারেন ‘বিসমিল্লিাহি ওয়া আলা বারাকাতিল্লাহ’ অর্থাৎ আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর বরকতের ওপর খাওয়া শুরু করছি।’

রাসুল (সা.) বলেছেন, যে খাবারে বিসমিল্লাহ পড়া হয় না, সে খাবারে শয়তানের অংশ থাকে। সেই খাবার মানুষের সঙ্গে শয়তানও খায়। (সহিহ মুসলিম: ৫৩৭৬)

তাই ‘বিসমিল্লাহ’ যেন কোনোভাবেই ছুটে না যায় সেদিকে বিশেষ মনোযোগ থাকা দরকার। খাওয়া শুরু করার সময় বিসমিল্লাহ পড়তে ভুলে গিয়ে খাওয়ার মাঝখানে মনে হলে বলুন, ‘বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু’ অর্থাৎ ‘এর শুরু ও শেষ আল্লাহর নামে।’

খাওয়া শুরু করার সময় বিসমিল্লাহ পড়ার পর এ দোয়াটিও পড়ুন
اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيْهِ وَاَطْعِمْنَا خَيْرًا مِّنْهُ
উচ্চারণ: আল্লহুম্মা বারিক লানা ফীহি ওয়া আত্ব’ইমনা খয়রম্ মিনহু।
অর্থ: হে আল্লাহ! এই খাবারে আমাদের জন্য বারকত দান করুন এবং এই খাবারের চেয়ে উত্তম খাবার দান করুন।

খাওয়া শেষ হলে পড়ুন
ٱلْـحَمْدُ لِلَّهِ ٱلَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَجَعَلَنَا مِنَ ٱلْمُسْلِمِينَ
উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লাহিল্লাযী আতআমানা ওয়া সাকানা ওয়া জাআলানা মিনাল মুসলিমীন।
অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের খাওয়ালেন, পান করালেন এবং মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

দস্তরখান ওঠানোর সময় পড়ুন
ٱلْـحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُّبَارَكًا فِيهِ غَيْرَ مَكْفِيٍّ وَلَا مُوَدَّعٍ وَلَا مُسْتَغْنًى عَنْهُ رَبَّنَا
উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহি হামদান কাসীরান তায়্যিবান মুবারাকান ফীহি গায়রা মাকফিয়্যিন ওয়া লা মুওয়াদ্দায়িন ওয়া লা মুসতাগনান আনহু রাব্বানা।
অর্থ: আল্লাহর জন্য সমস্ত প্রশংসা এমন প্রশংসা যা অশেষ, পবিত্র ও বরকতময়। হে আমার রব! এই খাবারকে অপ্রচুর মনে করে বা চিরদিনের জন্য বিদায় দিয়ে বা এর প্রতি বিমুখ হয়ে উঠলাম না।

Tag :
About Author Information

Md Shibbir Ahmed

মোরেলগঞ্জে অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস

খাবারের সময় কথা বলা কি উচিত? জেনে নিন ইসলামে কী বলে

Update Time : ০৮:৪৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

প্রশ্ন: খাওয়ার সময় কথা বললে কি গুনাহ হয়? অনেকেই বলে থাকেন হাদিসে খাওয়ার সময় কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। আর খাওয়ার সময় কোন দোয়াগুলো পড়বো?

উত্তর: খাওয়ার সময় কথাবার্তা বলা নিষিদ্ধ নয় বা অনুচিতও নয়। নবিজি (সা.) খাওয়ার সময় কথা বলতে নিষেধ করেননি। এ অর্থে যে হাদিস বলা হয় তা বানোয়াট। বরং বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত বিভিন্ন হাদিস থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর রাসুল (সা.) ও তার সাহাবিগণ খাওয়ার সময় সময় কথাবার্তা বলতেন। তাই খাওয়ার সময় কথাবার্তা বলা যেতে পারে, গুনাহ হওয়ার কোনো কারণ নেই।

খাওয়ার সময় যে দোয়া গুলো পড়বেন
খাওয়ার অপরিহার্য দোয়া হলো, খাওয়া শুরু করার সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলে আল্লাহর নামে খাওয়া শুরু করা। ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ অর্থাৎ ‘পরম করুণাময় দয়াময় আল্লাহর নামে শুরু করছি’ বলতে পারেন অথবা বলতে পারেন ‘বিসমিল্লিাহি ওয়া আলা বারাকাতিল্লাহ’ অর্থাৎ আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর বরকতের ওপর খাওয়া শুরু করছি।’

রাসুল (সা.) বলেছেন, যে খাবারে বিসমিল্লাহ পড়া হয় না, সে খাবারে শয়তানের অংশ থাকে। সেই খাবার মানুষের সঙ্গে শয়তানও খায়। (সহিহ মুসলিম: ৫৩৭৬)

তাই ‘বিসমিল্লাহ’ যেন কোনোভাবেই ছুটে না যায় সেদিকে বিশেষ মনোযোগ থাকা দরকার। খাওয়া শুরু করার সময় বিসমিল্লাহ পড়তে ভুলে গিয়ে খাওয়ার মাঝখানে মনে হলে বলুন, ‘বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু’ অর্থাৎ ‘এর শুরু ও শেষ আল্লাহর নামে।’

খাওয়া শুরু করার সময় বিসমিল্লাহ পড়ার পর এ দোয়াটিও পড়ুন
اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيْهِ وَاَطْعِمْنَا خَيْرًا مِّنْهُ
উচ্চারণ: আল্লহুম্মা বারিক লানা ফীহি ওয়া আত্ব’ইমনা খয়রম্ মিনহু।
অর্থ: হে আল্লাহ! এই খাবারে আমাদের জন্য বারকত দান করুন এবং এই খাবারের চেয়ে উত্তম খাবার দান করুন।

খাওয়া শেষ হলে পড়ুন
ٱلْـحَمْدُ لِلَّهِ ٱلَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَجَعَلَنَا مِنَ ٱلْمُسْلِمِينَ
উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লাহিল্লাযী আতআমানা ওয়া সাকানা ওয়া জাআলানা মিনাল মুসলিমীন।
অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের খাওয়ালেন, পান করালেন এবং মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

দস্তরখান ওঠানোর সময় পড়ুন
ٱلْـحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُّبَارَكًا فِيهِ غَيْرَ مَكْفِيٍّ وَلَا مُوَدَّعٍ وَلَا مُسْتَغْنًى عَنْهُ رَبَّنَا
উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহি হামদান কাসীরান তায়্যিবান মুবারাকান ফীহি গায়রা মাকফিয়্যিন ওয়া লা মুওয়াদ্দায়িন ওয়া লা মুসতাগনান আনহু রাব্বানা।
অর্থ: আল্লাহর জন্য সমস্ত প্রশংসা এমন প্রশংসা যা অশেষ, পবিত্র ও বরকতময়। হে আমার রব! এই খাবারকে অপ্রচুর মনে করে বা চিরদিনের জন্য বিদায় দিয়ে বা এর প্রতি বিমুখ হয়ে উঠলাম না।