সর্বশেষ :
১০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানে ক্ষতিগ্রস্ত ৪৩ হাজার বেসামরিক স্থাপনা ইসরায়েলের পর এবার ইউক্রেনও ইরানের লক্ষ্যবস্তু, তেহরানের কড়া হুঁশিয়ারি শুনেছি খামেনি জীবিত নেই, ইরানের আত্মসমর্পণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ: ট্রাম্প জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হলে আগে সংবিধানে সংশোধনী আনতে হবে দিপু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার বেড়ে ২৬, নতুন আসামি সোহেল জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আবেগ নয়, সাংবিধানিক পথেই এগোতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশ যাচাইয়ে সংসদের বিশেষ কমিটি পহেলা বৈশাখে শুরু হচ্ছে ‘কৃষক কার্ড’, প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে প্রস্তুতি বৈঠক প্রথম ম্যাচে দাপট, দ্বিতীয়টিতে ভরাডুবি আজ শেষ ওয়ানডেতে কোন বাংলাদেশ দেখা যাবে?
রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫২ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

হিরোশিমা দিবসের ৮০তম বছরেও পারমাণবিক অস্ত্রের ঝুঁকিতে বিশ্ব

প্রতিনিধি: / ১৫৪ দেখেছেন:
পাবলিশ: বুধবার, ৬ আগস্ট, ২০২৫

বিদেশ : ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট এক ভয়াবহ দুর্যোগ নেমে আসে হিরোশিমার ওপর। পৃথিবীবাসী প্রথমবারের মতো দেখে পারমাণবিক বোমার ধ্বংসযজ্ঞ। ভয়াবহতা দেখে হতভম্ব ওপেনহাইমার আওড়ান ভগবত গীতার বাণী- আমি হয়ে উঠেছি সাক্ষাৎ মৃত্যু, বিশ্ব ধ্বংসকারী (আই অ্যাভ বিকাম ডেথ, সাক্ষাৎ অব ওয়ার্ল্ডস)। বুধবার ৮০ বছর পর এসেও বিশ্ব আবারও একই আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন হিরোশিমার মেয়র কাজুমি মাতসুয়ি। গতকাল বুধবার জাপানের শহরটিতে পারমাণবিক বিস্ফোরণের ৮০তম বার্ষিকীতে সমবেত প্রার্থনার জন্য উপস্থিত হয়েছিলেন হাজারও মানুষ। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে, ৮০ বছর আগে ঠিক যে সময় হিরোশিমার মানুষের ওপর নেমে এসেছিল মৃত্যু পরোয়ানা, সে সময়কে স্মরণ করে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন সমবেত মানুষ। এরপর উপস্থিতদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন মেয়র মাতসুয়ি। তিনি বলেন, বিশ্বের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের ৯০ শতাংশই আছে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের দখলে। বিশ্বনেতাদের মধ্যে একটা বদ্ধমূল ধারণা দিনে দিনে গড়ে উঠেছে যে, নিজেদের দেশ রক্ষার জন্য পারমাণবিক অস্ত্রের কোনও বিকল্প নেই। বর্তমান পরিস্থিতি (হিরোশিমার) মর্মান্তিক অতীতের শিক্ষাকে অগ্রাহ্যই কেবল করে না, বরং শান্তি গঠনের কাঠামোকেও অবহেলা করে। ‘লিটল বয়’ নামের ইউরেনিয়াম বোমা ফেলে পুরো শহরকে গুড়িয়ে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ফলাফল ছিল ৭৮ হাজার মানুষের তাৎক্ষণিক মৃত্যু এবং ভয়াবহ তেজস্ক্রিয়তায় পরবর্তী কয়েকমাসে আরও কয়েক লাখ লোকের প্রাণহানি। হিরোশিমা ধ্বংসের তিনদিন পরই নাগাসাকি নামের আরেক শহরে পারমাণবিক বোমা ফেলে মার্কিন প্রশাসন। এর এক সপ্তাহ পর ১৫ আগস্ট যুদ্ধে পরাজয় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করে জাপান। পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ থেকে প্রাথমিকভাবে বেচে যাওয়া ব্যক্তিরা করতে থাকেন অভিশপ্ত জীবন। তাদেরকে নাম দেওয়া হয়েছিল হিবাকুশা। সমাজে প্রচলিত ধারণা ছিল, হিবাকুশারা দেহে হাজারও ব্যাধি নিয়ে ঘুরে বেড়ান আর তাদের বংশধররা হবে কলঙ্কিত। চলতি বছর দেশটিতে হিবাকুশাদের সংখ্যা এক লাখের নিচে নেমে এসেছে। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বলে মনে করছেন হিরোশিমা স্মরণসভায় উপস্থিত ৭১ বছর বয়সী ইয়োশিকাজু হোরিয়ে। তিনি বলেছেন, ইউরোপ, এশিয়া, এমনকি জাপানেও ভয়ানক সব ঘটনা ঘটছে। আবারও যেন সব একই দিকে যাচ্ছে। বিশ্বের সব নেতার প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা হিরোশিমায় এসে পারমাণবিক বোমার বাস্তবতা স্বচক্ষে দেখে যান। আমার নাতি-নাতনি আছে এবং আমি শান্তি চাই, যেন তারা সুখে থাকতে পারে। হিরোশিমা পিস মেমোরিয়াল পার্কে পারমাণবিক বিস্ফোরণের ট্র্যাজেডির ৮০তম বছরের স্মরণানুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলসহ ১২০টি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিল। পারমাণবিক অস্ত্র আবিষ্কারের পর জাপানই একমাত্র ভুক্তভোগী দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র ব্যবহারকারী শক্তি। সেই থেকে শান্তির সংবিধান প্রণয়নকারী জাপান পারমাণবিক অস্ত্র বিলোপের পক্ষে নিজেদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে, যদিও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে জাতিসংঘের চুক্তিতে দেশটি স্বাক্ষরকারী নয়। তথ্যসূত্র: রয়টার্স


এই বিভাগের আরো খবর