বিদেশ : ইয়েমেন উপকূলে অভিবাসীবোঝাই একটি নৌকা ডুবে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৪ জনে। এখনো অন্তত ৭৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। নিখোঁজদের বেশিরভাগেরই মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনাটি ঘটে রোববার সন্ধ্যায় ইয়েমেনের আবিয়ান প্রদেশের শাকরা উপকূলে, যখন আরব সাগরে প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে নৌকাটি উল্টে যায়। বিবিসি জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর উপকূল থেকে ৬৮টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই ইথিওপিয়ার নাগরিক। আইওএম-এর ইয়েমেন প্রধান আবদুসাত্তোর এসোয়েভ জানান, প্রায় ১৫৭ অভিবাসী নিয়ে বিপজ্জনক রুটে যাত্রা করছিল নৌকাটি। এই পথ সাধারণত মানব পাচারকারীরা ব্যবহার করে থাকে। আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল থেকে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোতে কাজের সন্ধানে পাড়ি দেওয়া অভিবাসীদের জন্য ইয়েমেন এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, সামপ্রতিক মাসগুলোতে এই রুটে বহু মানুষ নৌকাডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। দক্ষিণ ইয়েমেনের খানফার জেলায় উপকূল থেকে ৫৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আরও ১৪টি মরদেহ পাওয়া যায় আবিয়ান প্রদেশের রাজধানী জিনজিবারের একটি হাসপাতাল মর্গে। আবিয়ান নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মৃতদেহগুলো উপকূলজুড়ে বিভিন্ন স্থানে ভেসে আসছে। আইওএম-এর এক মুখপাত্র বলেন, ‘এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। এটি আমাদের সামনে কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরে—যেখানে হতাশাগ্রস্ত মানুষজন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অভিবাসনে পা বাড়াচ্ছেন, আর পাচারকারীরা সেই দুর্বলতাকে শিকার করছে।’ আইওএম প্রধান এসোয়েভ সতর্ক করে বলেন, অভিবাসীদের রক্ষায় আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো জোরদার করা দরকার। তিনি বলেন, ‘আমরা সব সদস্য রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানাই—যাতে মানুষ বৈধ পথে অভিবাসনের সুযোগ পায় এবং বিপজ্জনক পথে পাচারকারীদের ফাঁদে না পড়ে।’ প্রসঙ্গত, চলতি বছরের মার্চ মাসে ইয়েমেনের ধুবাব উপকূলে আরও দুটি নৌকা ডুবে যায়, যেগুলোতে ছিল ১৮০ জনের বেশি অভিবাসী। ওই সময় মাত্র দুজন নাবিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল, বাকিদের সবাই নিখোঁজ বা মৃত বলে মনে করা হয়। আইওএমের সামপ্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পাচারকারীরা এখন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর নজর এড়াতে ইচ্ছাকৃতভাবে খারাপ আবহাওয়ায়ও তারা নৌকা পাঠাচ্ছে। যদিও ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি, তবু হাজারো অভিবাসী এখনও এই পথেই ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্নে যাত্রা করছেন। শুধু ২০২৪ সাল থেকেই ইয়েমেনে পৌঁছেছেন ৬০ হাজারেরও বেশি অভিবাসী।