মোরেলগঞ্জে স্থানীয় জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনার (LLAP) অনুমোদন সভা অনুষ্ঠিত
প্রতিনিধি:
/ ১৪১
দেখেছেন:
পাবলিশ:
সোমবার, ৩০ জুন, ২০২৫
শেয়ার করুন
মো. নাজমুল ইসলাম, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট): জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে প্রণীত অভিযোজন পরিকল্পনা (LLAP) অনুমোদনের লক্ষ্যে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। “নবপল্লব” প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এই সভাটি স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই অভিযোজন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সোমবার (৩০ জুন) দুপুর ১২টায় মোরেলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম, সমবায় কর্মকর্তা মো. আব্দুল হালিম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রমেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আবু হানিফ, কৃষি কর্মকর্তা ইভানা বিলা ঋতু, সমাজসেবা কর্মকর্তা গৌতম বিশ্বাস, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ইখতিয়ার উদ্দিন এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রঞ্জিত কুমার।
সভায় কেয়ার বাংলাদেশের প্রকল্প কর্মকর্তা নাজমুল হক রেজোয়ান পরিকল্পনার মূল বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, “স্থানীয় জনগণের সঙ্গে ধারাবাহিক পরামর্শ, ঝুঁকি ও সম্পদ মানচিত্র, ঋতুপঞ্জি বিশ্লেষণ এবং অংশগ্রহণমূলক নানা পদ্ধতির মাধ্যমে এই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণরূপে জনগণকেন্দ্রিক।”
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিচ্ছে কেয়ার বাংলাদেশ, যার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা UK International Development-এর অর্থায়নে এবং CNRS, Cordaid, Friendship, IDE ও DSK-এর যৌথ সহযোগিতায়।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নবপল্লব প্রকল্পের রিজিওনাল ম্যানেজার লুৎফা পারভীন, প্রকল্প কর্মকর্তা পলাশ মণ্ডল, আফিয়া সুলতানা ও হিমাদ্রি রায়। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সিসিডিবি প্রতিনিধি, এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা এবং জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবিকা উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্থানীয়ভাবে প্রস্তুত এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে প্রণীত এমন অভিযোজন পরিকল্পনা শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় নয়, বরং নীতি নির্ধারণ এবং উন্নয়ন কর্মসূচির সাথে জনগণের সম্পৃক্ততাও দৃঢ় করবে। এটি সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের মাঝে সমন্বয় সাধনের একটি সফল মডেল হিসেবেও কাজ করবে।