হাইকোর্টের রায় ও প্রজ্ঞাপনের পরও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসি) মেয়রের দায়িত্ব ইশরাক হোসেনকে বুঝিয়ে না দেওয়ার প্রতিবাদে তিন দিন ধরে নগরভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন দক্ষিণ সিটির বাসিন্দারা। শনিবার অবস্থান কর্মসূচি থেকে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে ডিএসসিসির নগর ভবনে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন ইশরাক হোসেনর অনুসারীরা। গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় নগরভবনের সামনে হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ মানুষ জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরভবন থেকে সচিবালয় এবং প্রেসক্লাব হয়ে পূণরায় নগরভবনে সামনে এসে শেষ হয়। পরে নগরভবনের সামনে এক সমাবেশে বিক্ষুব্ধ ঢাকাবাসীর পক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেন সাবেক সিনিয়র সচিব মশিউর রহমান। তিনি জানান, রোববারও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়াও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং তার সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদীকে নগরভবনে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি তাদের যেখানে পাওয়া যাবে সেখানে প্রতিহত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। নগরভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া বিক্ষোভকারীরা বলেছেন, এখন পর্যন্ত ইশরাকের শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই আমরা ইশরাককে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে গতকাল (গত শুক্রবার) বিক্ষোভ করেছি। শান্তিপূর্ণ এই অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নগরের বাসিন্দারা বলছেন, আদালতের রায় ও নির্বাচন কমিশনের গেজেট অনুযায়ী ইশরাক হোসেন বৈধ মেয়র। এরপরও কেন তাকে এখনও শপথ পরানো হয়নি, তার ব্যাখ্যা চাচ্ছেন তারা। তাদের দাবি, একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, মশামুক্ত এবং দুর্নীতিমুক্ত ঢাকা গড়তে ইশরাক হোসেনের মতো জনবান্ধব মেয়র প্রয়োজন। বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যতদিন ইশরাক হোসেনকে শপথ পরানো না হবে, ততদিন তারা নগরভবনের সামনে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেবেন। এদিকে, গতকাল শনিবার সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে পুলিশ। ব্যারিকেডের কারণে সচিবালয়ের দিকে যাত্রা করতে পারেননি ইশরাকের সমর্থকরা। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ডিএসসি নগরভবনের সামনে থেকে লংমার্চ শুরু হয়। মিছিলটি গুলিস্তান মাজার, জিরো পয়েন্ট, পল্টন হয়ে প্রেসক্লাবের সামনে দিয়ে সচিবালয়ের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ এতে বাধা দেয়। বাধা পেয়ে মিছিলটি আবারো নগর ভবনের সামনে ফিরে আসে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘শপথ নিয়ে টালবাহানা, চলবে না’; ‘অবিলম্বে ইশরাক হোসেনের শপথ চাই’; ‘জনতার মেয়র ইশরাক ভাই, অন্য কোনও মেয়র নাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। বিক্ষোভকারীরা বলেন, আদালতের রায় ও নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশের পরও ইশরাক হোসেনকে শপথ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। জনতার রায়ে নির্বাচিত ইশরাককে দায়িত্ব না দিয়ে জনগণের সঙ্গে বেঈমানি করা হচ্ছে। শপথ না পড়ানো পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।