Dhaka ১২:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যা হয় চোখ বেশি রগড়ালে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:২৩:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ২৩১ Time View

চোখ বেশি রগড়ালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। লম্বা সময় কোনো বৈদ্যুতিক পর্দার দিয়ে তাকিয়ে থাকার পর কিংবা চোখে কিছু পড়লে অধিকাংশ মানুষই চোখ কচলান। এমনকি যারা এর ক্ষতি সম্পর্কে জানেন তারাও লোভ সামলাতে পারেন না। চিকিৎবিজ্ঞানের তথ্যানুসারে চোখে অস্বস্তি হলে রগড়ালে আরাম বোধ হওয়ার কারণ এতে ‘ভ্যাগাস’ নামক স্নায়ু উজ্জীবিত হয়, যা হৃদস্পন্দন ধীর করে এবং অস্বস্তি কমায়। তবে এ সময় চোখে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করলে কিংবা বিষয়টা নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হলে তা থেকে দেখা দিতে পারে চোখের বিভিন্ন রোগ। বাড়াতে পারে অস্বস্তি। বাড়ায় চোখে সংক্রমণের আশঙ্কা। স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনের আলোকে জানানো হল চোখ কচলানো ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে।- প্রায় সময় চোখ কচলালে তার প্রভাব গিয়ে পড়ে ‘কর্নিয়া’তে। সেখান থেকে ‘কর্নিয়া’য় বিকৃতি দেখা দিতে পারে যার আরেক নাম ‘কেরাটোকোনাস’। এছাড়াও অতিরিক্ত চোখ কচলানো কারণে ‘কর্নিয়াল টিস্যু’ পাতলা হতে থাকে এবং তার আকৃতি পরিবর্তীত হয়ে ‘কোন-শেইপ’ বা শঙ্কু আকৃতি ধারণ করতে থাকে। ‘কর্নিয়া’য় এমন ক্ষতি তীব্রমাত্রায় পৌঁছালে তা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বদলাতে হতে পারে।

-চোখে খচখচানি অনুভূতি হওয়ার পেছনে সচরাচর দায়ী হয় ধুলিকণা কিংবা চোখের পাতার একটি লোম, যা চোখে সৃষ্টি করে প্রচণ্ড অস্বস্তি। এমতাবস্থায় চোখ কচলালে ক্ষতির মাত্রা বেড়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। আর সেই ক্ষতির প্রভাবও পড়বে ওই ‘কর্নিয়া’তেই। এতে ‘কর্নিয়া’য় আঁচড় পড়ে যায়, যা সাধারণত কয়েকদিনে সেরে যায়। তবে তা সেরে ওঠার সুযোগ না পেলে হতে পারে ‘আলসার’ বা ঘা। তাই চোখে যাই প্রবেশ করুক না কেনো পানির ঝাপটা দেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

-যাদের ইতোমধ্যেই চোখে সমস্যা আছে তাদের এই বিষয়ে বিশেষ সাবধান থাকা উচিত, বিশেষত ‘গ্লুকোমা’য় আক্রান্তদের। চোখের ভেতরে চাপ বেশি হওয়ার কারণে এই রোগ দেখা দেয়, যাকে বলা হয় ‘ইন্ট্রাকুলার প্রেশার (আইওপি)’। এই চাপ থেকে চোখের বিভিন্ন স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে, যার ফলাফল হবে দৃষ্টিশক্তির বিনাশ। ‘গ্লুকোমা’র ওষুধ সেবনকারী রোগীদের উচিত একবারেই চোখ কচলানো থেকে বিরত থাকা, কারণ ওষুধের কারণেও চোখে অস্বস্তি হয়ে থাকে।

-‘মাইওপিয়া’তে আক্রান্ত ব্যক্তি দূরের বস্তু ঝাপসা দেখেন এবং বর্তমান সময়ে এই দৃষ্টিশক্তির সমস্যায় ভুগছেন অসংখ্য মানুষ। আর এই সমস্যা আরও বাড়াতে পারে চোখ কচলানোর অভ্যাস। ‘অপথালমোলজি’ শীর্ষক জার্নালে প্রকাশিত ২০১৬ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রায় ৯৬ লাখ মানুষ তীব্রভাবে ‘মাইওপিয়া’তে আক্রান্ত এবং তাদের দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ আরও খারাপ হচ্ছে।

-জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কার মূল হল হাত। যতই ভালোভাবে পরিষ্কার করা হোক না কেনো প্রতিটি মানুষের হাতে সবসময়ই অসংখ্য জীবাণু বিচরণ করে। এই হাত দিয়ে চোখ স্পর্শ করা থেকে চোখ লাল হওয়া, চোখ ওঠা বা ‘কনজাংটিভাইটিস’ ইত্যাদি দেখা দেয়। চোখে জীবাণুর সংক্রমণ হলে উষ্ণ ভাপ দিলে আরাম মিলবে।

-চোখের নিচে কালি পড়া কিংবা চোখের ভেতরে লাল ছোপ দেখা দেওয়ার পেছনেও দায়ী এই চোখ কচলানো। চোখ ডলার কারণে এর ভেতরের ক্ষুদ্র রক্তনালী ফেটে গিয়ে চোখে রক্তের ছোপ দেখা দেয়। চোখের পাতা অতিরিক্ত কচলানো থেকে ‘ডার্ক সার্কেল’ দেখা দেয়। চোখ কচলানোর পর দেখা দেওয়া ‘ডার্ক সার্কেল’কে ডাক্তারি ভাষায় বলা হয় ‘ইনফ্লামাটরি পিগমেন্টারি অল্টারেইশন’।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

বাসের ভাড়া পুনঃনির্ধারণ করা হবে: ডা. জাহেদ

যা হয় চোখ বেশি রগড়ালে

Update Time : ০৭:২৩:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

চোখ বেশি রগড়ালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। লম্বা সময় কোনো বৈদ্যুতিক পর্দার দিয়ে তাকিয়ে থাকার পর কিংবা চোখে কিছু পড়লে অধিকাংশ মানুষই চোখ কচলান। এমনকি যারা এর ক্ষতি সম্পর্কে জানেন তারাও লোভ সামলাতে পারেন না। চিকিৎবিজ্ঞানের তথ্যানুসারে চোখে অস্বস্তি হলে রগড়ালে আরাম বোধ হওয়ার কারণ এতে ‘ভ্যাগাস’ নামক স্নায়ু উজ্জীবিত হয়, যা হৃদস্পন্দন ধীর করে এবং অস্বস্তি কমায়। তবে এ সময় চোখে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করলে কিংবা বিষয়টা নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হলে তা থেকে দেখা দিতে পারে চোখের বিভিন্ন রোগ। বাড়াতে পারে অস্বস্তি। বাড়ায় চোখে সংক্রমণের আশঙ্কা। স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনের আলোকে জানানো হল চোখ কচলানো ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে।- প্রায় সময় চোখ কচলালে তার প্রভাব গিয়ে পড়ে ‘কর্নিয়া’তে। সেখান থেকে ‘কর্নিয়া’য় বিকৃতি দেখা দিতে পারে যার আরেক নাম ‘কেরাটোকোনাস’। এছাড়াও অতিরিক্ত চোখ কচলানো কারণে ‘কর্নিয়াল টিস্যু’ পাতলা হতে থাকে এবং তার আকৃতি পরিবর্তীত হয়ে ‘কোন-শেইপ’ বা শঙ্কু আকৃতি ধারণ করতে থাকে। ‘কর্নিয়া’য় এমন ক্ষতি তীব্রমাত্রায় পৌঁছালে তা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বদলাতে হতে পারে।

-চোখে খচখচানি অনুভূতি হওয়ার পেছনে সচরাচর দায়ী হয় ধুলিকণা কিংবা চোখের পাতার একটি লোম, যা চোখে সৃষ্টি করে প্রচণ্ড অস্বস্তি। এমতাবস্থায় চোখ কচলালে ক্ষতির মাত্রা বেড়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। আর সেই ক্ষতির প্রভাবও পড়বে ওই ‘কর্নিয়া’তেই। এতে ‘কর্নিয়া’য় আঁচড় পড়ে যায়, যা সাধারণত কয়েকদিনে সেরে যায়। তবে তা সেরে ওঠার সুযোগ না পেলে হতে পারে ‘আলসার’ বা ঘা। তাই চোখে যাই প্রবেশ করুক না কেনো পানির ঝাপটা দেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

-যাদের ইতোমধ্যেই চোখে সমস্যা আছে তাদের এই বিষয়ে বিশেষ সাবধান থাকা উচিত, বিশেষত ‘গ্লুকোমা’য় আক্রান্তদের। চোখের ভেতরে চাপ বেশি হওয়ার কারণে এই রোগ দেখা দেয়, যাকে বলা হয় ‘ইন্ট্রাকুলার প্রেশার (আইওপি)’। এই চাপ থেকে চোখের বিভিন্ন স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে, যার ফলাফল হবে দৃষ্টিশক্তির বিনাশ। ‘গ্লুকোমা’র ওষুধ সেবনকারী রোগীদের উচিত একবারেই চোখ কচলানো থেকে বিরত থাকা, কারণ ওষুধের কারণেও চোখে অস্বস্তি হয়ে থাকে।

-‘মাইওপিয়া’তে আক্রান্ত ব্যক্তি দূরের বস্তু ঝাপসা দেখেন এবং বর্তমান সময়ে এই দৃষ্টিশক্তির সমস্যায় ভুগছেন অসংখ্য মানুষ। আর এই সমস্যা আরও বাড়াতে পারে চোখ কচলানোর অভ্যাস। ‘অপথালমোলজি’ শীর্ষক জার্নালে প্রকাশিত ২০১৬ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রায় ৯৬ লাখ মানুষ তীব্রভাবে ‘মাইওপিয়া’তে আক্রান্ত এবং তাদের দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ আরও খারাপ হচ্ছে।

-জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কার মূল হল হাত। যতই ভালোভাবে পরিষ্কার করা হোক না কেনো প্রতিটি মানুষের হাতে সবসময়ই অসংখ্য জীবাণু বিচরণ করে। এই হাত দিয়ে চোখ স্পর্শ করা থেকে চোখ লাল হওয়া, চোখ ওঠা বা ‘কনজাংটিভাইটিস’ ইত্যাদি দেখা দেয়। চোখে জীবাণুর সংক্রমণ হলে উষ্ণ ভাপ দিলে আরাম মিলবে।

-চোখের নিচে কালি পড়া কিংবা চোখের ভেতরে লাল ছোপ দেখা দেওয়ার পেছনেও দায়ী এই চোখ কচলানো। চোখ ডলার কারণে এর ভেতরের ক্ষুদ্র রক্তনালী ফেটে গিয়ে চোখে রক্তের ছোপ দেখা দেয়। চোখের পাতা অতিরিক্ত কচলানো থেকে ‘ডার্ক সার্কেল’ দেখা দেয়। চোখ কচলানোর পর দেখা দেওয়া ‘ডার্ক সার্কেল’কে ডাক্তারি ভাষায় বলা হয় ‘ইনফ্লামাটরি পিগমেন্টারি অল্টারেইশন’।