Dhaka ০৩:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহে ৩ জনকে গুলি করে হত্যা, দায় স্বীকার করে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:২৭:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ২৬৬ Time View

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় চরমপন্থি গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় হানিফ (৫০) নামে এক শীর্ষ চরমপন্থি নেতাসহ তিন জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর ওই তিন জনকে হত্যার দাবি করে হোয়াটসঅ্যাপে ‘জাসদ গণবাহিনী’ নামে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়েছে। গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার ২নং মির্জাপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের শসানঘান এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, নিহত হানিফ জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের আহদনগর (ঠকপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ ক্যাডার। স্থানীয় বাসিন্দা চঞ্চল চৌধুরী জানান, রাত ১০টার দিকে রামচন্দ্রপুর মাঠে হঠাৎ গোলাগুলি শুরু হয়। গুলির শব্দ থামার পরে স্থানীয়রা সেচ খালের পাশে গিয়ে গুলিবিদ্ধ ও জখম হওয়া লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের মধ্যে হানিফ নামে এক শীর্ষ চরমপন্থি নেতার লাশ শনাক্ত করে। হানিফের বাড়ি জেলার হরিণাকুণ্ডুতে। তিনি পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক শীর্ষ ক্যাডার এবং একাধিক হত্যা মামলার আসামি বলেও জানা গেছে। ওই হত্যার পর বিভিন্ন ব্যক্তির মোবাইল ফোনে হোয়াটসঅ্যাপে ‘জাসদ গণবাহিনী’ নামে একটি ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়। তাতে লেখা আছে, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনাবাসীকে জানানো যাচ্ছে, পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি নামধারী কুখ্যাত ডাকাত বাহিনীর শীর্ষ নেতা, অসংখ্য খুন, গুম, দখলদারি, ডাকাতি, ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হরিণাকুণ্ডু নিবাসী মো. হানিফ তার দুই সহযোগীসহ জাসদ গণবাহিনীর সদস্যদের হাতে নিহত হয়েছেন। এই অঞ্চলের হানিফের সহযোগীদের শুধরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো। তা না হলে আপনাদের একই পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। কালু, জাসদ গণবাহিনী। এ বিষয়ে শৈলকূপা থানার ওসি মাসুম খান বলেন, গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। শৈলকুপা ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় এই এলাকাটি নির্জন। এর আগেও একই স্থানে চাঞ্চল্যকর ফাইভ মার্ডারের ঘটনা ঘটেছে। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ইমরান জাকারিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সবাইকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ একজনের লাশ শনাক্ত করা গেছে। বাকি দুজনের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। জাসদ গণবাহিনীর নামে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন একটি বার্তা ইতোমধ্যে আমরা পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। কী কারণে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনও নিশ্চিত নই।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

বাগেরহাট উপজেলা নাগরিক প্ল্যাটফর্মের ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ঝিনাইদহে ৩ জনকে গুলি করে হত্যা, দায় স্বীকার করে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা

Update Time : ০১:২৭:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় চরমপন্থি গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় হানিফ (৫০) নামে এক শীর্ষ চরমপন্থি নেতাসহ তিন জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর ওই তিন জনকে হত্যার দাবি করে হোয়াটসঅ্যাপে ‘জাসদ গণবাহিনী’ নামে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়েছে। গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার ২নং মির্জাপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের শসানঘান এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, নিহত হানিফ জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের আহদনগর (ঠকপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ ক্যাডার। স্থানীয় বাসিন্দা চঞ্চল চৌধুরী জানান, রাত ১০টার দিকে রামচন্দ্রপুর মাঠে হঠাৎ গোলাগুলি শুরু হয়। গুলির শব্দ থামার পরে স্থানীয়রা সেচ খালের পাশে গিয়ে গুলিবিদ্ধ ও জখম হওয়া লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের মধ্যে হানিফ নামে এক শীর্ষ চরমপন্থি নেতার লাশ শনাক্ত করে। হানিফের বাড়ি জেলার হরিণাকুণ্ডুতে। তিনি পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক শীর্ষ ক্যাডার এবং একাধিক হত্যা মামলার আসামি বলেও জানা গেছে। ওই হত্যার পর বিভিন্ন ব্যক্তির মোবাইল ফোনে হোয়াটসঅ্যাপে ‘জাসদ গণবাহিনী’ নামে একটি ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়। তাতে লেখা আছে, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনাবাসীকে জানানো যাচ্ছে, পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি নামধারী কুখ্যাত ডাকাত বাহিনীর শীর্ষ নেতা, অসংখ্য খুন, গুম, দখলদারি, ডাকাতি, ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হরিণাকুণ্ডু নিবাসী মো. হানিফ তার দুই সহযোগীসহ জাসদ গণবাহিনীর সদস্যদের হাতে নিহত হয়েছেন। এই অঞ্চলের হানিফের সহযোগীদের শুধরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো। তা না হলে আপনাদের একই পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। কালু, জাসদ গণবাহিনী। এ বিষয়ে শৈলকূপা থানার ওসি মাসুম খান বলেন, গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। শৈলকুপা ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় এই এলাকাটি নির্জন। এর আগেও একই স্থানে চাঞ্চল্যকর ফাইভ মার্ডারের ঘটনা ঘটেছে। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ইমরান জাকারিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সবাইকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ একজনের লাশ শনাক্ত করা গেছে। বাকি দুজনের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। জাসদ গণবাহিনীর নামে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন একটি বার্তা ইতোমধ্যে আমরা পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। কী কারণে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনও নিশ্চিত নই।