Dhaka ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নেক সন্তান পাওয়ার কুরআনি আমল ও দোয়া

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:২৪:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ২১৩ Time View

সন্তানের জন্য আল্লাহর কাছে তাঁর প্রার্থনা ছিল অবিরত। তিনি হলেন হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালাম। যিনি বার্ধক্যে উপনীত হওয়ার পরও মহান আল্লাহ তাআলা তাঁকে দান করেছিলেন একজন নেক সন্তান। কী দোয়া করেছিলেন তিনি? সন্তান লাভের কার্যকরী আমলই বা কী?
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মহান আল্লাহর কাছে দোয়ার চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ বিষয় আর নেই।’ (তিরমিজি) আর আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করতে বলেছেন- তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সুরা মুমিন : আাত ৬০)
হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালামের নেক সন্তান পাওয়া প্রার্থনা ছিল খুবই পছন্দনীয়। তাঁর সেই কার্যকরী আমল ও দোয়া কবুলের কথা কুরআনুল কারিমে একাধিক স্থানে ওঠে এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَزَكَرِيَّا إِذْ نَادَى رَبَّهُ
‘আর যাকারিয়ার কথা স্মরণ করুন, যখন সে তার পালনকর্তার কাছে (দোয়া) আহ্বান করেছিল-
رَبِّ لَا تَذَرْنِي فَرْدًا وَأَنتَ خَيْرُ الْوَارِثِينَ
উচ্চারণ : রাব্বি লা তাজারনি ফারদাও ওয়া আংতা খায়রুল ওয়ারিছিন।’
অর্থ : ‘হে আমার পালনকর্তা! আমাকে একা রেখো না। তুমি তো উত্তম ওয়ারিস (দানের অধিকারী)।’ (সুরা আম্বিয়া : আয়াত ৮৯)
দোয়া কবুলের আমল
আল্লাহ তাআলা হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালামের দোয়া কবুল করেছিলেন। তাঁকে বাধ্যর্কে দান করেছিলেন ছেলে সন্তান। তবে সন্তান লাভে আমল কেমন হতে হবে; কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা সে কথাও উল্লেখ করেন-
فَاسْتَجَبْنَا لَهُ وَوَهَبْنَا لَهُ يَحْيَى وَأَصْلَحْنَا لَهُ زَوْجَهُ إِنَّهُمْ كَانُوا يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَيَدْعُونَنَا رَغَبًا وَرَهَبًا وَكَانُوا لَنَا خَاشِعِينَ
‘তারপর আমি তার দোয়া কবুল করেছিলাম, তাকে দান করেছিলাম ইয়াহইয়া এবং তার জন্যে তার স্ত্রীকে প্রসব যোগ্য করেছিলাম। তারা সৎকর্মে ঝাঁপিয়ে পড়ত, তারা আশা ও ভীতি সহকারে আমাকে ডাকত এবং তারা ছিল আমার কাছে বিনীত।’ (সুরা আম্বিয়া : আয়াত ৯০)
এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালামকে সন্তান দানের কথা তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি কীভাবে দোয়া করতে হবে তা-ও বর্ণনা করেছেন। দোয়া করার সময় অবশ্যই তাঁর আমল হতে হবে এমন-
– সন্তান পাওয়া আশা করতে হবে।
– দোয়ার আবেদনে থাকতে হবে ভয়।
– দোয়ার সময় বিনয়ী হতে হবে।
– সর্বোপরি সব সময় সৎ কাজে নিয়োজিত থাকতে হবে।
উল্লেখিত দোয়া বেশি বেশি পড়তে হবে। তবেই মহান আল্লাহ তার বান্দাদের সন্তান দানে ধন্য করতে পারেন।

Tag :
About Author Information

Md Shibbir Ahmed

মোরেলগঞ্জে অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস

নেক সন্তান পাওয়ার কুরআনি আমল ও দোয়া

Update Time : ১০:২৪:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

সন্তানের জন্য আল্লাহর কাছে তাঁর প্রার্থনা ছিল অবিরত। তিনি হলেন হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালাম। যিনি বার্ধক্যে উপনীত হওয়ার পরও মহান আল্লাহ তাআলা তাঁকে দান করেছিলেন একজন নেক সন্তান। কী দোয়া করেছিলেন তিনি? সন্তান লাভের কার্যকরী আমলই বা কী?
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মহান আল্লাহর কাছে দোয়ার চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ বিষয় আর নেই।’ (তিরমিজি) আর আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করতে বলেছেন- তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সুরা মুমিন : আাত ৬০)
হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালামের নেক সন্তান পাওয়া প্রার্থনা ছিল খুবই পছন্দনীয়। তাঁর সেই কার্যকরী আমল ও দোয়া কবুলের কথা কুরআনুল কারিমে একাধিক স্থানে ওঠে এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَزَكَرِيَّا إِذْ نَادَى رَبَّهُ
‘আর যাকারিয়ার কথা স্মরণ করুন, যখন সে তার পালনকর্তার কাছে (দোয়া) আহ্বান করেছিল-
رَبِّ لَا تَذَرْنِي فَرْدًا وَأَنتَ خَيْرُ الْوَارِثِينَ
উচ্চারণ : রাব্বি লা তাজারনি ফারদাও ওয়া আংতা খায়রুল ওয়ারিছিন।’
অর্থ : ‘হে আমার পালনকর্তা! আমাকে একা রেখো না। তুমি তো উত্তম ওয়ারিস (দানের অধিকারী)।’ (সুরা আম্বিয়া : আয়াত ৮৯)
দোয়া কবুলের আমল
আল্লাহ তাআলা হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালামের দোয়া কবুল করেছিলেন। তাঁকে বাধ্যর্কে দান করেছিলেন ছেলে সন্তান। তবে সন্তান লাভে আমল কেমন হতে হবে; কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা সে কথাও উল্লেখ করেন-
فَاسْتَجَبْنَا لَهُ وَوَهَبْنَا لَهُ يَحْيَى وَأَصْلَحْنَا لَهُ زَوْجَهُ إِنَّهُمْ كَانُوا يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَيَدْعُونَنَا رَغَبًا وَرَهَبًا وَكَانُوا لَنَا خَاشِعِينَ
‘তারপর আমি তার দোয়া কবুল করেছিলাম, তাকে দান করেছিলাম ইয়াহইয়া এবং তার জন্যে তার স্ত্রীকে প্রসব যোগ্য করেছিলাম। তারা সৎকর্মে ঝাঁপিয়ে পড়ত, তারা আশা ও ভীতি সহকারে আমাকে ডাকত এবং তারা ছিল আমার কাছে বিনীত।’ (সুরা আম্বিয়া : আয়াত ৯০)
এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালামকে সন্তান দানের কথা তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি কীভাবে দোয়া করতে হবে তা-ও বর্ণনা করেছেন। দোয়া করার সময় অবশ্যই তাঁর আমল হতে হবে এমন-
– সন্তান পাওয়া আশা করতে হবে।
– দোয়ার আবেদনে থাকতে হবে ভয়।
– দোয়ার সময় বিনয়ী হতে হবে।
– সর্বোপরি সব সময় সৎ কাজে নিয়োজিত থাকতে হবে।
উল্লেখিত দোয়া বেশি বেশি পড়তে হবে। তবেই মহান আল্লাহ তার বান্দাদের সন্তান দানে ধন্য করতে পারেন।