Dhaka ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঘরে কুকুর থাকলে কি আমল নষ্ট হবে?

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ২২৬ Time View

পবিত্র কুরআন বলছে : ‘পৃথিবীতে বিচরণশীল যত প্রাণী আছে আর যত পাখি দুই ডানা মেলে উড়ে বেড়ায়, তারা সবাই তোমাদের মতো একেক জাতি।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৩৮) সে হিসেবে বলা যায়, কুকুর আল্লাহর বিশেষ সৃষ্টি।এক  ব্যক্তি জানতে চেয়েছেন, তিনি তার ঘরে কুকুর রাখেন তবে কি তার আমল নষ্ট হবে?
শায়খ মুহাম্মদ আল-মুখতার আশ-শিনকিতি বলেন, শরিয়তের দৃষ্টিতে শুধু পাহারা ও শিকারের কাজেই কুকুর পালার অনুমতি আছে। সুতরাং আপনি যদি এ উদ্দেশ্যেই কুকুর পালেন, তবে এতে আপনার আমল নষ্ট হওয়ার কোনো কারণ নেই।
কুরআনে আল্লাহ আসহাবে কাহাফের কুকুরের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, “তাদের কুকুর ছিল সামনের পা দুটি গুহাদ্বারে প্রসারিত করে।” (সূরা কাহাফ, আয়াত: ১৮)
অর্থাৎ আসহাবে কাহাফের কুকুর তাদের পাহারা দিচ্ছিল, যাতে কেউ তাদের নির্জন অবস্থানে বিরক্ত না করে।
হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “যে ব্যক্তি পাহারা বা শিকারের প্রয়োজন ছাড়া কুকুর পালে, তবে প্রতিদিন তার আমল থেকে দুই কিরাত পরিমান সওয়াব কমতে থাকবে।” (বুখারী ও মুসলিম)
সুতরাং, পাহারা ও শিকারের প্রয়োজন ছাড়া কুকুর পালা উচিত হবে না।
আরও কয়েকটি ফতোয়া দেখুন
শিকারের উদ্দেশ্যে, ফসল হেফাজতের উদ্দেশ্যে, পাহারাদারির জন্য, ছাগল-ভেড়া ইত্যাদির হেফাজতের লক্ষ্যে, ঘরবাড়ি, দোকান ও অফিস পাহারার জন্য, অপরাধের উৎস সন্ধান ও অপরাধীকে চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে কুকুর লালন-পালন করা বৈধ। (ফতোয়াতে মাহমুদিয়া : খ. ১৮, পৃ. ২৬৪/ ফতোয়ায়ে আলমগিরি : খ. ৪, পৃ. ২৪২)
শখ করে ঘরে কুকুর রাখা, মানুষের চেয়ে কুকুরের যত্ন বেশি নেওয়া, কুকুরের সঙ্গে মানবীয় সম্পর্ক স্থাপন করা ইসলামে নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি শিকার করা বা গবাদি পশু পাহারা অথবা শস্যক্ষেত পাহারা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া কুকুর লালন-পালন করে, প্রতিদিন ওই ব্যক্তির দুই কিরাত পরিমাণ নেকি হ্রাস পায়।’ (মুসলিম : হাদিস ১৫৭৫; তিরমিজি : হাদিস ১৪৮৭)
অন্য হাদিসে আছে, ‘এক কিরাত হলো, উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ।’ (মুসনাদে আহমদ : হা. ৪৬৫০)
আমাদের হানাফি মাজহাব মতে, কুকুরের শরীর নাপাক নয়। তাই কুকুর কারো শরীর বা কাপড় স্পর্শ করলে তা নাপাক হবে না। তবে কুকুরের লালা নাপাক। কুকুর মুখ দিয়ে কারো জামা টেনে ধরলে যদি কাপড়ে লালা লেগে যায়, তবে কাপড় নাপাক হয়ে যাবে; অন্যথায় নাপাক হবে না। (আল-বাহরুর রায়েক : ১/১০১; ফতোয়াতে হিন্দিয়া : ১/৪৮; আদ্দুররুল মুখতার : ১/২০৮)

Tag :
About Author Information

Md Shibbir Ahmed

মোরেলগঞ্জে অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস

ঘরে কুকুর থাকলে কি আমল নষ্ট হবে?

Update Time : ১০:০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

পবিত্র কুরআন বলছে : ‘পৃথিবীতে বিচরণশীল যত প্রাণী আছে আর যত পাখি দুই ডানা মেলে উড়ে বেড়ায়, তারা সবাই তোমাদের মতো একেক জাতি।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৩৮) সে হিসেবে বলা যায়, কুকুর আল্লাহর বিশেষ সৃষ্টি।এক  ব্যক্তি জানতে চেয়েছেন, তিনি তার ঘরে কুকুর রাখেন তবে কি তার আমল নষ্ট হবে?
শায়খ মুহাম্মদ আল-মুখতার আশ-শিনকিতি বলেন, শরিয়তের দৃষ্টিতে শুধু পাহারা ও শিকারের কাজেই কুকুর পালার অনুমতি আছে। সুতরাং আপনি যদি এ উদ্দেশ্যেই কুকুর পালেন, তবে এতে আপনার আমল নষ্ট হওয়ার কোনো কারণ নেই।
কুরআনে আল্লাহ আসহাবে কাহাফের কুকুরের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, “তাদের কুকুর ছিল সামনের পা দুটি গুহাদ্বারে প্রসারিত করে।” (সূরা কাহাফ, আয়াত: ১৮)
অর্থাৎ আসহাবে কাহাফের কুকুর তাদের পাহারা দিচ্ছিল, যাতে কেউ তাদের নির্জন অবস্থানে বিরক্ত না করে।
হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “যে ব্যক্তি পাহারা বা শিকারের প্রয়োজন ছাড়া কুকুর পালে, তবে প্রতিদিন তার আমল থেকে দুই কিরাত পরিমান সওয়াব কমতে থাকবে।” (বুখারী ও মুসলিম)
সুতরাং, পাহারা ও শিকারের প্রয়োজন ছাড়া কুকুর পালা উচিত হবে না।
আরও কয়েকটি ফতোয়া দেখুন
শিকারের উদ্দেশ্যে, ফসল হেফাজতের উদ্দেশ্যে, পাহারাদারির জন্য, ছাগল-ভেড়া ইত্যাদির হেফাজতের লক্ষ্যে, ঘরবাড়ি, দোকান ও অফিস পাহারার জন্য, অপরাধের উৎস সন্ধান ও অপরাধীকে চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে কুকুর লালন-পালন করা বৈধ। (ফতোয়াতে মাহমুদিয়া : খ. ১৮, পৃ. ২৬৪/ ফতোয়ায়ে আলমগিরি : খ. ৪, পৃ. ২৪২)
শখ করে ঘরে কুকুর রাখা, মানুষের চেয়ে কুকুরের যত্ন বেশি নেওয়া, কুকুরের সঙ্গে মানবীয় সম্পর্ক স্থাপন করা ইসলামে নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি শিকার করা বা গবাদি পশু পাহারা অথবা শস্যক্ষেত পাহারা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া কুকুর লালন-পালন করে, প্রতিদিন ওই ব্যক্তির দুই কিরাত পরিমাণ নেকি হ্রাস পায়।’ (মুসলিম : হাদিস ১৫৭৫; তিরমিজি : হাদিস ১৪৮৭)
অন্য হাদিসে আছে, ‘এক কিরাত হলো, উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ।’ (মুসনাদে আহমদ : হা. ৪৬৫০)
আমাদের হানাফি মাজহাব মতে, কুকুরের শরীর নাপাক নয়। তাই কুকুর কারো শরীর বা কাপড় স্পর্শ করলে তা নাপাক হবে না। তবে কুকুরের লালা নাপাক। কুকুর মুখ দিয়ে কারো জামা টেনে ধরলে যদি কাপড়ে লালা লেগে যায়, তবে কাপড় নাপাক হয়ে যাবে; অন্যথায় নাপাক হবে না। (আল-বাহরুর রায়েক : ১/১০১; ফতোয়াতে হিন্দিয়া : ১/৪৮; আদ্দুররুল মুখতার : ১/২০৮)