Dhaka ০৯:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আরও ৩ ইসরায়েলি জিম্মি মুক্ত, বিনিময়ে ছাড়া পাচ্ছে শতাধিক ফিলিস্তিনি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:১৩:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৫
  • ২৭৮ Time View

বিদেশ : ইসরায়েলের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী এবার আরও তিন জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ও তাদের মিত্র ইসলামিক জিহাদ। ছাড়া পাওয়া এই তিনজনের বিনিময়ে বৃহস্পতিবার তেল আবিবেরও ১১০ ফিলিস্তিনিকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার কথা, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এদিন উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবির থেকে প্রথমে ২০ বছর বয়সী ইসরায়েলি সেনা আগাম বার্গারকে রেড ক্রসের হাতে তুলে দেয় হামাস। পরে খান ইউনিসে ইয়াহিয়া সিনওয়ারের বাড়ির সামনে থেকে ছাড়া হয় ২৯ বছর বয়সী আরবেল ইয়েহুদ ও ৮০ বছর বয়সী গাদি মোজেসকে। গত বছরের অক্টোবরে ইসরায়েলের হামলায় হামাসের শীর্ষ নেতা সিনওয়ার নিহত হয়েছিলেন। যুদ্ধবিরতির পর তৃতীয় দফায় বৃহস্পতিবার প্রথম বার্গারকে মুক্তি দেওয়া হয়। তাকে জিম্মি করা হয়েছিল ইসরায়েলের নাহাল ওজ ঘাঁটি থেকে; বাকি দুই বেসামরিককে সশস্ত্র যোদ্ধারা নির ওজ বসতি থেকে তুলে নেয়। যুদ্ধবিরতির শর্তে না থাকলেও গতকাল বৃহস্পতিবার খান ইউনিস থেকে হামাসের আরও ৫ থাই জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার কথা। এই পাঁচজনসহ মোট ৮ থাই নাগরিককে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলের একটি খামার থেকে জিম্মি করেছিল ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা। তাদের মধ্যে পরে দুইজন মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামাস ও থাই সরকারের মধ্যে হওয়া পৃথক এক চুক্তির আওতায় বৃহস্পতিবার তাদের মধ্যে ৫ জনকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। তুমুল ভিড়ের কারণে খান ইউনিস থেকে দুই ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার আগে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। সোয়া এক বছরের যুদ্ধের পর গত ১৯ জানুয়ারি ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছে, তার প্রথম ধাপে মোট ৩৩ ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার কথা হামাস ও এর মিত্রদের। বৃহস্পতিবারের আগে দুই দফায় আরও ৭ জিম্মিকে ছেড়ে দিয়েছিল এ ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামীরা। এদিন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইসরায়েল যে ফিলিস্তিনিদের ছাড়বে তাদের মধ্যে ৩২ জন ইসরায়েলের কারাগারে যাবজ্জীবন সাজা খাটছিলেন, আরও ৪৮ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ছিল। বন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবে মুক্তি পেতে যাওয়া এ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ৩০ শিশু ও নারী বন্দিও আছে বলে জানিয়েছে প্যালেস্টিনিয়ান প্রিজনারস মিডিয়া অফিস (এএসআরএ)। কারাবন্দি ২০ জনকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বাইরে ছাড়া হবে বলেও জানিয়েছে তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার যে বন্দিদের মুক্তি দিচ্ছে ইসরায়েল, তাদের মধ্যে ৪৩ জন ফাতাহ সংশ্লিষ্ট, ২৪ জন হামাসের, ১৯ জন ইসলামিক জিহাদের, ৪ জন পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন এবং ২ জন ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টোইনের। হামাসের সঙ্গে গাজায় বন্দি বিনিময় চালিয়ে যাওয়ার পাশপাশি পশ্চিম তীরে বিমান হামলাও অব্যাহত রেখেছে। বুধবার রাতে তাদের এক হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

বাগেরহাটে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

আরও ৩ ইসরায়েলি জিম্মি মুক্ত, বিনিময়ে ছাড়া পাচ্ছে শতাধিক ফিলিস্তিনি

Update Time : ০১:১৩:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৫

বিদেশ : ইসরায়েলের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী এবার আরও তিন জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ও তাদের মিত্র ইসলামিক জিহাদ। ছাড়া পাওয়া এই তিনজনের বিনিময়ে বৃহস্পতিবার তেল আবিবেরও ১১০ ফিলিস্তিনিকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার কথা, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এদিন উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবির থেকে প্রথমে ২০ বছর বয়সী ইসরায়েলি সেনা আগাম বার্গারকে রেড ক্রসের হাতে তুলে দেয় হামাস। পরে খান ইউনিসে ইয়াহিয়া সিনওয়ারের বাড়ির সামনে থেকে ছাড়া হয় ২৯ বছর বয়সী আরবেল ইয়েহুদ ও ৮০ বছর বয়সী গাদি মোজেসকে। গত বছরের অক্টোবরে ইসরায়েলের হামলায় হামাসের শীর্ষ নেতা সিনওয়ার নিহত হয়েছিলেন। যুদ্ধবিরতির পর তৃতীয় দফায় বৃহস্পতিবার প্রথম বার্গারকে মুক্তি দেওয়া হয়। তাকে জিম্মি করা হয়েছিল ইসরায়েলের নাহাল ওজ ঘাঁটি থেকে; বাকি দুই বেসামরিককে সশস্ত্র যোদ্ধারা নির ওজ বসতি থেকে তুলে নেয়। যুদ্ধবিরতির শর্তে না থাকলেও গতকাল বৃহস্পতিবার খান ইউনিস থেকে হামাসের আরও ৫ থাই জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার কথা। এই পাঁচজনসহ মোট ৮ থাই নাগরিককে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলের একটি খামার থেকে জিম্মি করেছিল ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা। তাদের মধ্যে পরে দুইজন মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামাস ও থাই সরকারের মধ্যে হওয়া পৃথক এক চুক্তির আওতায় বৃহস্পতিবার তাদের মধ্যে ৫ জনকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। তুমুল ভিড়ের কারণে খান ইউনিস থেকে দুই ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার আগে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। সোয়া এক বছরের যুদ্ধের পর গত ১৯ জানুয়ারি ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছে, তার প্রথম ধাপে মোট ৩৩ ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার কথা হামাস ও এর মিত্রদের। বৃহস্পতিবারের আগে দুই দফায় আরও ৭ জিম্মিকে ছেড়ে দিয়েছিল এ ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামীরা। এদিন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইসরায়েল যে ফিলিস্তিনিদের ছাড়বে তাদের মধ্যে ৩২ জন ইসরায়েলের কারাগারে যাবজ্জীবন সাজা খাটছিলেন, আরও ৪৮ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ছিল। বন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবে মুক্তি পেতে যাওয়া এ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ৩০ শিশু ও নারী বন্দিও আছে বলে জানিয়েছে প্যালেস্টিনিয়ান প্রিজনারস মিডিয়া অফিস (এএসআরএ)। কারাবন্দি ২০ জনকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বাইরে ছাড়া হবে বলেও জানিয়েছে তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার যে বন্দিদের মুক্তি দিচ্ছে ইসরায়েল, তাদের মধ্যে ৪৩ জন ফাতাহ সংশ্লিষ্ট, ২৪ জন হামাসের, ১৯ জন ইসলামিক জিহাদের, ৪ জন পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন এবং ২ জন ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টোইনের। হামাসের সঙ্গে গাজায় বন্দি বিনিময় চালিয়ে যাওয়ার পাশপাশি পশ্চিম তীরে বিমান হামলাও অব্যাহত রেখেছে। বুধবার রাতে তাদের এক হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।