Dhaka ০৩:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমূল্যে দিশেহারা মানুষ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪২:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ৩০৩ Time View

দেশে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমূল্যে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। ক্রমাগত বেড়েই চলেছে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার। গত নভেম্বরে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার এ যাবৎকালে সর্বোচ্চ পর্যায়ে অর্থাৎ ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশে উঠেছে। আর শহরে এ হার উঠেছে ১৪ দশমিক ৬৩ শতাংশে। কিন্তু দেশের মানুষের মজুরি বাড়ার হার একেবারেই কম। ওই হার বেড়ে মাত্র ৮ দশমিক ১০ শতাংশে উঠেছে। ফলে বর্তমানে মজুরির চেয়ে মূল্যস্ফীতির হার বেশি বেড়েছে। শুধু নভেম্বরেই মূল্যস্ফীতি বেড়েছে দশমিক ৫১ শতাংশ। এর বিপরীতে মজুরি বেড়েছে দশমিক ০৩ শতাংশ। ফলে সাধারণ মানুষের জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে ঘাটতিও বাড়ছে। নভেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যা অক্টোবরে ছিল ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে ওই হার ছিল ৯ দশমিক ৯২ আর আগস্টে ছিল ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। জুলাইয়ে ছিলো ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গত নভেম্বর মাসে দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ছিল ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আর অক্টোবরে দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। তাছাড়া খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহের ভর মৌসুমেও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের চেয়ে খাদ্যপণ্যের দাম বেশি বাড়ছে। ফলে খাদ্যবহির্ভূত খাতের চেয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হারও বেড়েছে বেশি। পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে গত বছরের নভেম্বরের তুলনায় গত নভেম্বরে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। যদিও শহরের চেয়ে গ্রামে মূল্যস্ফীতির হার বেশি থাকে। তবে এবার শহরের চেয়ে গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। সূত্র জানায়, বাজারে খাদ্যদ্রব্যের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও বাজার ব্যবস্থাপনা ত্রæটির কারণে দাম কমছে না। আর সরকারও বাজার ব্যবস্থাপনার ত্রæটির সমাধান করতে পারছে না। ফলে লাগামহীনভাবে বেড়েই চলেছে পণ্যের দাম। আর পণ্যের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতির হারও বাড়ছে। বৈশ্বিক মন্দার পর থেকে ২০২২ সালের আগস্ট থেকে মূল্যস্ফীতির হার ৯ শতাংশ অতিক্রম করেছে। এখনো তা ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। তবে গত জুলাইয়ে ডবল ডিজিটে ওঠেছিলো। আগস্টে তা কমে ডাবল ডিজিটের সামান্য নিচে নামলেও এখন আবার দুই মাস ধরে ডাবল ডিজিটের ওপরে রয়েছে। মূঔু বৈশ্বিকভাবে ২০২২ সালের শুরু থেকে মূল্যস্ফীতির হার বাড়তে থাকে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়ে। মূল্যস্ফীতির হার কমাতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশ ঋণের সুদের হার বাড়াতে থাকে। তবে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের ভোগের রাশ টেনে ধরার পদক্ষেপের ফলে বৈশ্বিকভাবে মূল্যস্ফীতির হার কমায় অনেক দেশেই ওই হার কমেছে। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতির হার। সূত্র আরো জানায়, দেশের বাজারব্যবস্থায় কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ নেই। সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, সেগুলো খুব একটা কার্যকর হয়নি। শুধু ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর কয়েকজন পুলিশ নিয়ে বাজারে গেলেই বাজার মনিটরিং করা হয় না। বরং নিত্যপণের মূল্যের শৃঙ্খলা ঠিক করা জরুরি। উৎপাদন পর্যায় থেকে ভোক্তা মাঝে অনেক ধাপ আছে। সরকারকে সমস্যা কোথায় খুঁজে দেখতে হবে। কারা কারসাজি করছে তা বের করতে হবে। তাছাড়া অন্য যা-ই করা হোক না কেন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে না। বাজার স্থিতিশীল করতে সঠিক ও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই। গত জুলাইয়ে দেশে মূল্যস্ফীতির হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। এরপর আগস্ট-সেপ্টেম্বরে তা কিছুটা কমে আসে। কিন্তু অক্টোবর থেকে আবার বাড়তে থাকে। ওই ধারায় নভেম্বরেও বেড়েছে। নভেম্বরে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশ, যা অক্টোবরে ছিল ১২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়ে নভেম্বরে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩৯ শতাংশে, যা অক্টোবরে ছিল ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ। অথছ মানুষ জীবনধারণে খাদ্য খাতে মোট ব্যয়ের ৫৮ শতাংশই খরচ করে। বাকি ৪২ শতাংশ খাদ্যবহির্ভূত খাতে খরচ করে। সা¤প্রতিক সময়ে মানুষের খরচ যেভাবে বেড়েছে, সেভাবে আয় বাড়েনি। ফলে মানুষের জীবনযাত্রায় নাভিশ্বাস উঠেছে। এদিকে গ্রামে খাদ্যপণ্যের সবই উৎপাদন হয়। কিন্তু গ্রামেই খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বেশি। অর্থাৎ যেখানে খাদ্যের উৎপাদন বেশি, সেখানেও দাম বেশি। এ উলটো চিত্রেই বোঝা যাচ্ছে বাজার ব্যবস্থাপনা ঠিক নেই। যে কারণে উৎপাদনস্থলে দাম বেশি পড়ছে। তবে গ্রামের মানুষ খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ভোগ কম করে। যে কারণে গ্রামে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমেছে। আগে গ্রামেও এ খাতে মূল্যস্ফীতির হার বেশি ছিল। ফলে এখন পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে গ্রামের মানুষের খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ভোগের সক্ষমতা কমেছে। আর শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৩৭ শতাংশে, যা অক্টোবরে ছিল ১০ দশমিক ৪৪। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ১৪ দশমিক ৬৩ শতাংশে, যা অক্টোবরে ছিল ১২ দশমিক ৫৩। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩১ শতাংশে, যা অক্টোবরে ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৬। শহরে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত সব খাতেই মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে। কিন্তু গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বাড়া অস্বাভাবিক। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর স¤প্রতি একাধিক অনুষ্ঠানে বলেছেন, মূল্যস্ফীতির হার এখন বেশি হলেও তা ধীরে ধীরে কমে যাবে। আগামী জুনের মধ্যে এ হার ৭ শতাংশের মধ্যে নেমে আসবে। আগে মূল্যস্ফীতির তথ্য গোপন করা হতো। এখন প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। এজন্য এ হার বাড়ছে। খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার বিষয়ে স¤প্রতি অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন, সা¤প্রতিক সময়ে তিন দফা বন্যার কারণে খাদ্যের উৎপাদন কমেছে। এ কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে। এগুলো ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

বাগেরহাট উপজেলা নাগরিক প্ল্যাটফর্মের ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমূল্যে দিশেহারা মানুষ

Update Time : ১২:৪২:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৪

দেশে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমূল্যে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। ক্রমাগত বেড়েই চলেছে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার। গত নভেম্বরে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার এ যাবৎকালে সর্বোচ্চ পর্যায়ে অর্থাৎ ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশে উঠেছে। আর শহরে এ হার উঠেছে ১৪ দশমিক ৬৩ শতাংশে। কিন্তু দেশের মানুষের মজুরি বাড়ার হার একেবারেই কম। ওই হার বেড়ে মাত্র ৮ দশমিক ১০ শতাংশে উঠেছে। ফলে বর্তমানে মজুরির চেয়ে মূল্যস্ফীতির হার বেশি বেড়েছে। শুধু নভেম্বরেই মূল্যস্ফীতি বেড়েছে দশমিক ৫১ শতাংশ। এর বিপরীতে মজুরি বেড়েছে দশমিক ০৩ শতাংশ। ফলে সাধারণ মানুষের জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে ঘাটতিও বাড়ছে। নভেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যা অক্টোবরে ছিল ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে ওই হার ছিল ৯ দশমিক ৯২ আর আগস্টে ছিল ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। জুলাইয়ে ছিলো ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গত নভেম্বর মাসে দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ছিল ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আর অক্টোবরে দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। তাছাড়া খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহের ভর মৌসুমেও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের চেয়ে খাদ্যপণ্যের দাম বেশি বাড়ছে। ফলে খাদ্যবহির্ভূত খাতের চেয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হারও বেড়েছে বেশি। পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে গত বছরের নভেম্বরের তুলনায় গত নভেম্বরে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। যদিও শহরের চেয়ে গ্রামে মূল্যস্ফীতির হার বেশি থাকে। তবে এবার শহরের চেয়ে গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। সূত্র জানায়, বাজারে খাদ্যদ্রব্যের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও বাজার ব্যবস্থাপনা ত্রæটির কারণে দাম কমছে না। আর সরকারও বাজার ব্যবস্থাপনার ত্রæটির সমাধান করতে পারছে না। ফলে লাগামহীনভাবে বেড়েই চলেছে পণ্যের দাম। আর পণ্যের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতির হারও বাড়ছে। বৈশ্বিক মন্দার পর থেকে ২০২২ সালের আগস্ট থেকে মূল্যস্ফীতির হার ৯ শতাংশ অতিক্রম করেছে। এখনো তা ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। তবে গত জুলাইয়ে ডবল ডিজিটে ওঠেছিলো। আগস্টে তা কমে ডাবল ডিজিটের সামান্য নিচে নামলেও এখন আবার দুই মাস ধরে ডাবল ডিজিটের ওপরে রয়েছে। মূঔু বৈশ্বিকভাবে ২০২২ সালের শুরু থেকে মূল্যস্ফীতির হার বাড়তে থাকে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়ে। মূল্যস্ফীতির হার কমাতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশ ঋণের সুদের হার বাড়াতে থাকে। তবে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের ভোগের রাশ টেনে ধরার পদক্ষেপের ফলে বৈশ্বিকভাবে মূল্যস্ফীতির হার কমায় অনেক দেশেই ওই হার কমেছে। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতির হার। সূত্র আরো জানায়, দেশের বাজারব্যবস্থায় কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ নেই। সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, সেগুলো খুব একটা কার্যকর হয়নি। শুধু ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর কয়েকজন পুলিশ নিয়ে বাজারে গেলেই বাজার মনিটরিং করা হয় না। বরং নিত্যপণের মূল্যের শৃঙ্খলা ঠিক করা জরুরি। উৎপাদন পর্যায় থেকে ভোক্তা মাঝে অনেক ধাপ আছে। সরকারকে সমস্যা কোথায় খুঁজে দেখতে হবে। কারা কারসাজি করছে তা বের করতে হবে। তাছাড়া অন্য যা-ই করা হোক না কেন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে না। বাজার স্থিতিশীল করতে সঠিক ও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই। গত জুলাইয়ে দেশে মূল্যস্ফীতির হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। এরপর আগস্ট-সেপ্টেম্বরে তা কিছুটা কমে আসে। কিন্তু অক্টোবর থেকে আবার বাড়তে থাকে। ওই ধারায় নভেম্বরেও বেড়েছে। নভেম্বরে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশ, যা অক্টোবরে ছিল ১২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়ে নভেম্বরে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩৯ শতাংশে, যা অক্টোবরে ছিল ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ। অথছ মানুষ জীবনধারণে খাদ্য খাতে মোট ব্যয়ের ৫৮ শতাংশই খরচ করে। বাকি ৪২ শতাংশ খাদ্যবহির্ভূত খাতে খরচ করে। সা¤প্রতিক সময়ে মানুষের খরচ যেভাবে বেড়েছে, সেভাবে আয় বাড়েনি। ফলে মানুষের জীবনযাত্রায় নাভিশ্বাস উঠেছে। এদিকে গ্রামে খাদ্যপণ্যের সবই উৎপাদন হয়। কিন্তু গ্রামেই খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বেশি। অর্থাৎ যেখানে খাদ্যের উৎপাদন বেশি, সেখানেও দাম বেশি। এ উলটো চিত্রেই বোঝা যাচ্ছে বাজার ব্যবস্থাপনা ঠিক নেই। যে কারণে উৎপাদনস্থলে দাম বেশি পড়ছে। তবে গ্রামের মানুষ খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ভোগ কম করে। যে কারণে গ্রামে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমেছে। আগে গ্রামেও এ খাতে মূল্যস্ফীতির হার বেশি ছিল। ফলে এখন পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে গ্রামের মানুষের খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ভোগের সক্ষমতা কমেছে। আর শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৩৭ শতাংশে, যা অক্টোবরে ছিল ১০ দশমিক ৪৪। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ১৪ দশমিক ৬৩ শতাংশে, যা অক্টোবরে ছিল ১২ দশমিক ৫৩। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩১ শতাংশে, যা অক্টোবরে ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৬। শহরে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত সব খাতেই মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে। কিন্তু গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বাড়া অস্বাভাবিক। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর স¤প্রতি একাধিক অনুষ্ঠানে বলেছেন, মূল্যস্ফীতির হার এখন বেশি হলেও তা ধীরে ধীরে কমে যাবে। আগামী জুনের মধ্যে এ হার ৭ শতাংশের মধ্যে নেমে আসবে। আগে মূল্যস্ফীতির তথ্য গোপন করা হতো। এখন প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। এজন্য এ হার বাড়ছে। খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার বিষয়ে স¤প্রতি অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন, সা¤প্রতিক সময়ে তিন দফা বন্যার কারণে খাদ্যের উৎপাদন কমেছে। এ কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে। এগুলো ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে।