ফকিরহাট প্রতিনিধি:বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার শুভদিয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের গ্রাম্য পুলিশ (চৌকিদার) মোঃ মোস্তফা শেখের বিরুদ্ধে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও হয়রানির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। শুভদিয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সর্বসাধারণের পক্ষে জ্ঞানশ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ গোলাম রসুল (পিতা- মৃত হুমায়ুন শেখ) লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগসমূহ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, অভিযুক্ত গ্রাম্য পুলিশ মোঃ মোস্তফা শেখ (পিতা- আবু বকর শেখ) দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছেন। গত ৯ই জুন ২০২৬ তারিখে রাত ১১টায় ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মতলেব শেখের অনুপস্থিতিতে তার বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায় মোস্তফা। বিষয়টি এলাকাবাসী টের পেয়ে তাকে হাতেনাতে আটক করে এবং পরবর্তীতে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া ইতিপূর্বেও ১ নং ওয়ার্ডের এক বাসিন্দার স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তাছাড়া শুভদিয়া ইউনিয়নের অপর এক চৌকিদার হানিফ শেখের বোনের সাথে অনৈতিক কার্যকলাপের অপরাধে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছিল।
পূর্বে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় উপজেলা মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোস্তফা শেখকে সাময়িকভাবে বরখাস্তও করা হয়েছিল। এলাকায় তিনি নিজেকে ‘লাইসেন্সধারী সরকারি মাস্তান’ পরিচয় দেন এবং জোরপূর্বক জুয়ার কোর্ট বসিয়ে অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নেন। এর প্রতিবাদ করলে সাধারণ মানুষকে বড় ধরণের মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো হয়। এছাড়া গ্রামের গর্ভবতী মহিলাদের মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড এবং সাধারণ দরিদ্র মানুষের নামে বরাদ্দকৃত ভিজিপি (VGP) চালের কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। তিনি গ্রাম্য পুলিশের জেলা সভাপতি হওয়ায় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এলাকায় সবসময় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে আরও জানানো হয়, এই চরম অত্যাচার ও হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে এবং এলাকার মা-বোনদের নিরাপত্তা রক্ষায় ইতোমধ্যে এলাকাবাসীর যৌথ স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং ফকিরহাট মডেল থানায় প্রেরণ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে অনতিবিলম্বে এই অভিযুক্ত গ্রাম্য পুলিশের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানানো হয়।