Dhaka ০৩:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক বছরের মধ্যে নির্বাচন চান দেশের ৬১.১ শতাংশ মানুষ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫৪:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৪
  • ৩৪৭ Time View

বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ৬১ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ মনে করেন, এক বছরের মধ্যে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। তবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক (৬৫.৯ শতাংশ) উত্তর দিয়েছেন, অন্তর্র্বতী সরকার যা যা সংস্কার করা প্রয়োজন মনে করবে, তার সবগুলো করার পরই নির্বাচন আয়োজন করা উচিত। শুধু নির্বাচন সংক্রান্ত জরুরি সংস্কারগুলো শেষ করে নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছেন ৩১ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতার। শনিবার ভয়েজ অব আমেরিকা বাংলার তত্ত্বাবধায়নে প্রকাশিত জরিপে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ‘অন্তর্র্বতী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কেমন আছে বাংলাদেশ, এ নিয়ে কী ভাবছেন দেশের নাগরিকরা’ এ বিষয়ে গত ১৩ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ভয়েস অব আমেরিকা দেশব্যাপী ওই জরিপ করে। জরিপটি ভয়েস অব আমেরিকা বাংলার এডিটোরিয়াল নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালনা করে গবেষণা ও জরিপ প্রতিষ্ঠান ওআরজি-কোয়েস্ট রিসার্চ লিমিটেড। ভয়েস অব আমেরিকার ঠিক করে দেওয়া সুনির্দিষ্ট প্রশ্নমালার ওপর ভিত্তি করে কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড টেলিফোন ইন্টারভিউর মাধ্যমে দেশের আটটি বিভাগে ১৮ বছর বা এর চেয়ে বেশি বয়সী এক হাজার মানুষের মধ্যে জরিপটি পরিচালিত হয়। জরিপের তথ্য বলছে, ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ চান, দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে নির্বাচন আর ৮ দশমিক ৬ শতাংশ নির্বাচন চান ১৮ মাসের মধ্যে। সবচেয়ে কম ৫ দশমিক ৮ শতাংশ জনগণ চার বছর বা তার চেয়ে বেশি সময় পর আগামী জাতীয় নির্বাচন হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। এছাড়া কত দ্রুত নির্বাচন হওয়া উচিত, এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন ৪ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ। নির্বাচন কবে হওয়া উচিত এ সম্পর্কে কিছু বলতে চাননি ১ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ। জরিপে অংশ নেওয়া শহরের জনগণের ৬০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং গ্রামে বসবাসরতদের ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ আগামী এক বছরের মধ্যে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন চান। জরিপে অংশগ্রহণকারী পুরুষদের ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ ও নারীদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ নির্বাচন চান এক বছরের মধ্যে। তরুণদের মধ্যে (১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী) ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ এক বছরের মধ্যে আগামী নির্বাচন চান। আর ৩৫ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সীদের ৫৯ দশমিক ৮ শতাংশ এক বছরের মধ্যে আগামী জাতীয় নির্বাচন চান। জরিপে অংশগ্রহণকারী শহরাঞ্চলের ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ এবং গ্রামীণ এলাকার ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে নির্বাচন চান। দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে মত দিয়েছেন জরিপে অংশ নেওয়া পুরুষদের ২০ দশমিক ৩ শতাংশ এবং নারীদের ১৭ দশমিক ১ শতাংশ। জরিপে অংশগ্রহণকারী ১৮ থেকে ৩৪ বছরের তরুণদের ১৫ দশমিক ২ এবং ৩৫ ও তার চেয়ে বেশি বয়সের ২২ দশমিক ৪ শতাংশ মনে করেন, দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে আগামী নির্বাচন হওয়া উচিত। ১৮ মাসের মধ্যে আগামী নির্বাচন করার পক্ষে মত দিয়েছেন শহরের ১০ দশমিক ৩ শতাংশ এবং গ্রামের ৮ শতাংশ মানুষ। এছাড়া একই মত প্রকাশ করেছে পুরুষদের ১২ শতাংশ, নারীদের ৫ দশমিক ২ শতাংশ, তরুণদের (১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী) ৮ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ৩৫ বছর বা এর থেকে বেশি বয়সীদের মধ্যে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী। চার বছর বা তার চেয়ে বেশি সময় পর নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে মত দিয়েছেন, শহরের ৬ দশমিক ২, গ্রামের ৫ দশমিক ৭, পুরুষদের ৬ দশমিক ৯ শতাংশ, নারীদের ৪ দশমিক ৮ শতাংশ, তরুণদের (১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী) ৭ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ৩৫ বছর বা এর থেকে বেশি বয়সীদের ৪ শতাংশ মানুষ। ভয়েস অব আমেরিকা বাংলার জনমত জরিপে সংস্কার ও নির্বাচনের রোডম্যাপ এই বিষয় দুটিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সব সংস্কার শেষ করে নির্বাচন চান ৬৫ দশমিক ৯ শতাংশ: বেশির ভাগ মানুষ (৬৫ দশমিক ৯ শতাংশ) মনে করেন, অন্তর্র্বতী সরকার যা যা সংস্কার করা প্রয়োজন মনে করবে, তার সবগুলো করার পরই নির্বাচন আয়োজন করা উচিত। শুধু নির্বাচন সংক্রান্ত জরুরি সংস্কারগুলো শেষ করে নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে মত ৩১ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতার। ১ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা এ বিষয়ে কিছু জানেন না এবং দশমিক ৫ শতাংশ এ প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করেছেন। উত্তরদাতাদের মধ্যে যারা মনে করেন যে অন্তর্র্বতী সরকার যে যে সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করেন সেসবগুলো সংস্কার শেষ করেই আগামী জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা উচিত, তাদের অধিকাংশ বিচার বিভাগ, সংবিধান, অর্থনৈতিক খাত, পুলিশ ও নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত সংস্কারগুলো করার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের মধ্যে নির্বাচন কমিশন সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন ৯৬ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা। পুলিশ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন ৯২ দশমিক ৩ শতাংশ, বিচার বিভাগ সংস্কারের পক্ষে ৯৫ দশমিক ৩ শতাংশ এবং অর্থনৈতিক খাতে সংস্কারের পক্ষে ৯৬ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা মত দিয়েছেন। সংবিধান সংস্কার চান ৯২ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

বাগেরহাট উপজেলা নাগরিক প্ল্যাটফর্মের ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত

এক বছরের মধ্যে নির্বাচন চান দেশের ৬১.১ শতাংশ মানুষ

Update Time : ১২:৫৪:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৪

বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ৬১ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ মনে করেন, এক বছরের মধ্যে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। তবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক (৬৫.৯ শতাংশ) উত্তর দিয়েছেন, অন্তর্র্বতী সরকার যা যা সংস্কার করা প্রয়োজন মনে করবে, তার সবগুলো করার পরই নির্বাচন আয়োজন করা উচিত। শুধু নির্বাচন সংক্রান্ত জরুরি সংস্কারগুলো শেষ করে নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছেন ৩১ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতার। শনিবার ভয়েজ অব আমেরিকা বাংলার তত্ত্বাবধায়নে প্রকাশিত জরিপে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ‘অন্তর্র্বতী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কেমন আছে বাংলাদেশ, এ নিয়ে কী ভাবছেন দেশের নাগরিকরা’ এ বিষয়ে গত ১৩ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ভয়েস অব আমেরিকা দেশব্যাপী ওই জরিপ করে। জরিপটি ভয়েস অব আমেরিকা বাংলার এডিটোরিয়াল নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালনা করে গবেষণা ও জরিপ প্রতিষ্ঠান ওআরজি-কোয়েস্ট রিসার্চ লিমিটেড। ভয়েস অব আমেরিকার ঠিক করে দেওয়া সুনির্দিষ্ট প্রশ্নমালার ওপর ভিত্তি করে কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড টেলিফোন ইন্টারভিউর মাধ্যমে দেশের আটটি বিভাগে ১৮ বছর বা এর চেয়ে বেশি বয়সী এক হাজার মানুষের মধ্যে জরিপটি পরিচালিত হয়। জরিপের তথ্য বলছে, ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ চান, দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে নির্বাচন আর ৮ দশমিক ৬ শতাংশ নির্বাচন চান ১৮ মাসের মধ্যে। সবচেয়ে কম ৫ দশমিক ৮ শতাংশ জনগণ চার বছর বা তার চেয়ে বেশি সময় পর আগামী জাতীয় নির্বাচন হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। এছাড়া কত দ্রুত নির্বাচন হওয়া উচিত, এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন ৪ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ। নির্বাচন কবে হওয়া উচিত এ সম্পর্কে কিছু বলতে চাননি ১ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ। জরিপে অংশ নেওয়া শহরের জনগণের ৬০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং গ্রামে বসবাসরতদের ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ আগামী এক বছরের মধ্যে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন চান। জরিপে অংশগ্রহণকারী পুরুষদের ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ ও নারীদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ নির্বাচন চান এক বছরের মধ্যে। তরুণদের মধ্যে (১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী) ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ এক বছরের মধ্যে আগামী নির্বাচন চান। আর ৩৫ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সীদের ৫৯ দশমিক ৮ শতাংশ এক বছরের মধ্যে আগামী জাতীয় নির্বাচন চান। জরিপে অংশগ্রহণকারী শহরাঞ্চলের ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ এবং গ্রামীণ এলাকার ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে নির্বাচন চান। দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে মত দিয়েছেন জরিপে অংশ নেওয়া পুরুষদের ২০ দশমিক ৩ শতাংশ এবং নারীদের ১৭ দশমিক ১ শতাংশ। জরিপে অংশগ্রহণকারী ১৮ থেকে ৩৪ বছরের তরুণদের ১৫ দশমিক ২ এবং ৩৫ ও তার চেয়ে বেশি বয়সের ২২ দশমিক ৪ শতাংশ মনে করেন, দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে আগামী নির্বাচন হওয়া উচিত। ১৮ মাসের মধ্যে আগামী নির্বাচন করার পক্ষে মত দিয়েছেন শহরের ১০ দশমিক ৩ শতাংশ এবং গ্রামের ৮ শতাংশ মানুষ। এছাড়া একই মত প্রকাশ করেছে পুরুষদের ১২ শতাংশ, নারীদের ৫ দশমিক ২ শতাংশ, তরুণদের (১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী) ৮ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ৩৫ বছর বা এর থেকে বেশি বয়সীদের মধ্যে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী। চার বছর বা তার চেয়ে বেশি সময় পর নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে মত দিয়েছেন, শহরের ৬ দশমিক ২, গ্রামের ৫ দশমিক ৭, পুরুষদের ৬ দশমিক ৯ শতাংশ, নারীদের ৪ দশমিক ৮ শতাংশ, তরুণদের (১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী) ৭ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ৩৫ বছর বা এর থেকে বেশি বয়সীদের ৪ শতাংশ মানুষ। ভয়েস অব আমেরিকা বাংলার জনমত জরিপে সংস্কার ও নির্বাচনের রোডম্যাপ এই বিষয় দুটিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সব সংস্কার শেষ করে নির্বাচন চান ৬৫ দশমিক ৯ শতাংশ: বেশির ভাগ মানুষ (৬৫ দশমিক ৯ শতাংশ) মনে করেন, অন্তর্র্বতী সরকার যা যা সংস্কার করা প্রয়োজন মনে করবে, তার সবগুলো করার পরই নির্বাচন আয়োজন করা উচিত। শুধু নির্বাচন সংক্রান্ত জরুরি সংস্কারগুলো শেষ করে নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে মত ৩১ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতার। ১ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা এ বিষয়ে কিছু জানেন না এবং দশমিক ৫ শতাংশ এ প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করেছেন। উত্তরদাতাদের মধ্যে যারা মনে করেন যে অন্তর্র্বতী সরকার যে যে সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করেন সেসবগুলো সংস্কার শেষ করেই আগামী জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা উচিত, তাদের অধিকাংশ বিচার বিভাগ, সংবিধান, অর্থনৈতিক খাত, পুলিশ ও নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত সংস্কারগুলো করার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের মধ্যে নির্বাচন কমিশন সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন ৯৬ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা। পুলিশ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন ৯২ দশমিক ৩ শতাংশ, বিচার বিভাগ সংস্কারের পক্ষে ৯৫ দশমিক ৩ শতাংশ এবং অর্থনৈতিক খাতে সংস্কারের পক্ষে ৯৬ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা মত দিয়েছেন। সংবিধান সংস্কার চান ৯২ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা।