সর্বশেষ :
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৩ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

ফকিরহাটে ওপেন  স্কাই শো(বায়স্কোপ) কৃষি ভিডিও প্রদর্শন

প্রতিনিধি: / ২১৫ দেখেছেন:
পাবলিশ: বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৪

শেখ সৈয়দ আলী,ফকিরহাট: ধানের পোকামাকড় দমনে  ফকিরহাট  উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের  কৃষকদের মাঝে মাস ব্যাপি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সকলকে উদ্বুদ্ধ করনের লক্ষ্যে এই আয়োজন করেছে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর ফকিরহাট।
সেই সাথে জমিতে আলোক ফাঁদ প্রযুক্তির ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ধানক্ষেতে কীটনাশক ব্যবহার  করে এবং আলোর ফাঁদ পেতে ক্ষতিকর পোকা দমন করতে পারলে কৃষকের কষ্ট অর্জিত ফসল ঘরে উঠবে এই মৌসুমে উপজেলাতে রোপা আমন মোট ৪৫৫০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ওপেন স্কাই শো কৃষি বায়োস্কোপ ভিডিও প্রদর্শনের মাধ্যমে কৃষক জমিতে  কীটনাশক প্রয়োগে নিয়মকানুন সম্পর্কে তুলে ধরা হয়েছে। সেই সাথে লিফলেটও বিতরন করা হয়েছে। পরবর্তিতে আলোক ফাঁদ’ ধানের পোকা দমনের একটি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি সে বিষয়ে সকলকে সরজমিনে দেখানো হয়েছে ।
এ পদ্ধতিতে সন্ধ্যার পর ধানক্ষেত হতে কিছুটা দূরে ফাঁকা জায়গায় বাঁশের তিনটি খুঁটি ত্রিকোণাকার করে মাটিতে পুঁতে মাথার অংশ একত্রে বেঁধে দিতে হয়। এরপর মাটি থেকে আড়াই থেকে তিন ফুট ওপরে একটি বৈদ্যুতিক বা সৌরশক্তি নিয়ন্ত্রিত বাল্ব জ্বালিয়ে খুঁটির তিন মাথার সংযোগস্থলে রশির সাহায্যে ঝুলিয়ে দিতে হয়। এর নিচে একটি বড় আকারের প্লাস্টিকের গামলা বা পাত্রে ডিটারজেন্ট পাউডার অথবা কেরোসিন মিশ্রিত পানি রাখা হয়। সন্ধ্যার পর মাঠ জুড়ে যখন অন্ধকার নেমে আসতে থাকে তখন আলোক ফাঁদের আলোর ঝলকে আকৃষ্ট হয়ে ধানখেতের বিভিন্ন পোকামাকড় এ পাত্রে চলে আসে। আলোক ফাঁদ ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি নির্ণয়ের পর কীটনাশক প্রয়োগ করতে এই প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
ফকিরহাট উপজেলার কাঁঠালতলা  গ্রামের কৃষক মোঃ মোতালেব শেখ বলেন, কৃষি অফিসের সন্ধ্যাকালীন ভিডিও প্রদর্শনী উদ্যোগ বেশ সারা ফেলেছে। প্রায় কৃষক এ বিষয়ে অবগত হয়েছে এবং সকলের জানার দরকার এর আগে যার জমিতে পোকার আক্রমন হতো শুধু সেই কৃষক বিষ প্রয়োগ করতো এখন জানতে পারলাম আসপাশের সকল জমিতে ক্ষতিকর পোকা শনাক্ত করে কীটনাশক  স্প্রেরে করতে হয়।
লখপুর ইউনিয়নের  কৃষক হাফিজ শেখ বলেন, আমি এই পদ্ধতি ব্যবহার করে অনেক উপকৃত হয়েছি। পোকামাকড়ের উপস্থিতি চিহ্নিত করে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছি।
ফকিরহাট উপজেলার সদর ইউনিয়ন ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রিকাবুল ইসলাম জানান, ‘আলোক ফাঁদ’ ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকার মধ্যে মাজরা পোকা ও সবুজ পাতা ফড়িং ও উপকারী পোকার মধ্যে ড্যামসেল ফ্লাই ও মাকড়সা উপস্থিতি পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে ধানের উপকারী পোকা সংরক্ষণ এবং ক্ষতিকর পোকা দমনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ধানের জমিতে ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপস্থিতি নির্ণয় করতে আলোক ফাঁদ এবং কীটনাশক প্রয়োগের বিকল্প নেই।
ফকিরহাট উপজেলা কৃষিবিদ শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ক্ষতিকর পোকামাকড় বিশেষ করে বিপিএইচ বা কারেন্ট পোকা যাতে ধানের ক্ষতি সাধন করতে না পারে সেজন্যই উপজেলার ব্লক গুলোতে ক্ষতিকর রোগ পোকা দমনে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে উপজেলা ব্যাপি ওপেন স্কাই শো(বায়স্কোপ)  কৃষি ভিত্তিক ভিডিও প্রদর্শন করা হয়েছে। এতে ব্যাপক সারা পড়েছে কৃষকদের মাঝে। সেই সাথে আলোক ফাঁদ’ব্যবহার করা হচ্ছে। আলোক ফাঁদ প্রযুক্তি একটি পরিবেশ বান্ধব ও অর্থ সাশ্রয়ী পদ্ধতি। এতে চাষিরা নিজেরাই ক্ষতিকর ও উপকারী পোকা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সক্ষম হয়।


এই বিভাগের আরো খবর