Dhaka ১০:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘূর্নী ঝড় রিমালে ক্ষতি গ্রস্থদের এক মাসেও সহায়তা আসেনি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:০০:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪
  • ৩২৬ Time View

আবুল কালাম,ইন্দুরকানী(পিরোজপুর)প্রতিনিধিঃ মোর ঘরডা বাতাসে উড়াইয়া লইয়া গেছে, আল্লায় আমাগো
বাঁচাইয়া রাখছে। বইন্যার (ঘুর্ণিঝড় রিমাল) ২৫ দিন গেলেওকোনো মেম্বর-চেয়ারম্যান ও সরকারি স্যাররা কাছে আয় নাই। নেয়
নাই কুনো খবর। মোর ঘরডা বানাইতে না পারলে পোলাপান লইয়াকোই থাকমু এমন প্রশ্ন ছুড়ে দেন রওশনারা বেগম।
পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ইন্দুরকানীগ্রামের এই বাসিন্দা পরিবার নিয়ে প্রতিবেশীর বাড়িতে
আশ্রিত। একই অবস্থায় আছেন উপজেলার হাজারো মানুষ। রিমালেরপ্রায় মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো সহায়তা পায়নি তারা। রওশনারার স্বামী আনসার আলী ঘরামি দিনমজুর। ঘ‚র্ণিঝড়ের পর থেকে আয়-রোজগার নেই। ঝড়ে উড়ে যাওয়া ঘর মেরামতের সাধ্য নেই। তিনি দ্রæতসময়ের মধ্যে মাথা গোঁজার ঠাই দেওয়ার দাবি করেন।
২৬ মে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপক‚লীয় এলাকায় আঘাত হানেঘুর্ণিঝড় রিমাল। এতে ইন্দুরকানী উপজেলার ৯৫ শতাংশ মানুষই ক্ষতির শিকার হয়েছেন। অথচ বরাদ্দ এসেছে মাত্র ২০ টন চাল ও নগদ ৫ লাখ টাকা। ফলে সিংহভাগ মানুষই সহায়তার বাইরে রয়েগেছে। যেসব ব্যক্তির ঘর ভেঙে গেছে, প্রশাসন শুধু তাদের আবেদনই গ্রহণ করছে।
কিন্তু বেশির ভাগ প্রান্তিক মানুষই সে খবর রাখেন না।ঝড়ের সংবাদে এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান বিধবা শাহানুর
বেগম। তাঁর বাড়ি চÐিপুর ইউনিয়নের চরবলেশ্বর গ্রামে। কিন্তু গাছপড়ে তাঁর ঘর শেষ হয়ে। সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে
ইন্দুরকানীতে অন্তত শতকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে কিন্তু এখনওসরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহায়তা পাননি। তিনিও অন্যের ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন। ঘর না হলে কোথায় থাকবেন- এমন প্রশ্ন করেনতিনি। তাঁরই মতো জিজ্ঞাসা ইন্দুরকানীর সত্তার কাজী, এনায়েত গাজী, শাহীন হাওলাদার, আম্বিয়া বেগম, জামাল হোসেনদের।
ঝড়ে কচা নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে পানির তোড়ে ভিটা ভেসে গেছেদিনমজুর গণি মিয়ার। তিনি টগড়া গ্রামের বাসিন্দা। গণি মিয়ার
ভাষ্য, ঘর তুলতে জন প্রতিনিনধি ও প্রশাসরে কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে গেছেন কিন্তু কেউ সহায়তা করেননি।
চন্ডিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যে ত্রাণ এসেছে, তা সামান্য ঘরহারা মানুষের পুনর্বাসনেকোনো সহায়তা এখন ও আসেনি।

উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল আহসান গাজী বলেন, ্#৩৯;সাধ্যমতো সহায়তা করে যাচ্ছি। ঘূর্ণিঝড়ে উপজেলায় শত কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। তিনি সরকারের কাছে দুর্গত মানুষের আবাসন ও বেশি করে ত্রাণ বরাদ্দের দাবি জানান।
এসব তথ্যই জানা আছে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শ ম রেজাউল করিমের। তাঁর ভাষ্য, কচা নদীতে বিলীন বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ঘরহারা মানুষের পুনর্বাসনে তিনি চেষ্টা করছেন।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

ঘূর্নী ঝড় রিমালে ক্ষতি গ্রস্থদের এক মাসেও সহায়তা আসেনি

Update Time : ০৮:০০:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

আবুল কালাম,ইন্দুরকানী(পিরোজপুর)প্রতিনিধিঃ মোর ঘরডা বাতাসে উড়াইয়া লইয়া গেছে, আল্লায় আমাগো
বাঁচাইয়া রাখছে। বইন্যার (ঘুর্ণিঝড় রিমাল) ২৫ দিন গেলেওকোনো মেম্বর-চেয়ারম্যান ও সরকারি স্যাররা কাছে আয় নাই। নেয়
নাই কুনো খবর। মোর ঘরডা বানাইতে না পারলে পোলাপান লইয়াকোই থাকমু এমন প্রশ্ন ছুড়ে দেন রওশনারা বেগম।
পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ইন্দুরকানীগ্রামের এই বাসিন্দা পরিবার নিয়ে প্রতিবেশীর বাড়িতে
আশ্রিত। একই অবস্থায় আছেন উপজেলার হাজারো মানুষ। রিমালেরপ্রায় মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো সহায়তা পায়নি তারা। রওশনারার স্বামী আনসার আলী ঘরামি দিনমজুর। ঘ‚র্ণিঝড়ের পর থেকে আয়-রোজগার নেই। ঝড়ে উড়ে যাওয়া ঘর মেরামতের সাধ্য নেই। তিনি দ্রæতসময়ের মধ্যে মাথা গোঁজার ঠাই দেওয়ার দাবি করেন।
২৬ মে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপক‚লীয় এলাকায় আঘাত হানেঘুর্ণিঝড় রিমাল। এতে ইন্দুরকানী উপজেলার ৯৫ শতাংশ মানুষই ক্ষতির শিকার হয়েছেন। অথচ বরাদ্দ এসেছে মাত্র ২০ টন চাল ও নগদ ৫ লাখ টাকা। ফলে সিংহভাগ মানুষই সহায়তার বাইরে রয়েগেছে। যেসব ব্যক্তির ঘর ভেঙে গেছে, প্রশাসন শুধু তাদের আবেদনই গ্রহণ করছে।
কিন্তু বেশির ভাগ প্রান্তিক মানুষই সে খবর রাখেন না।ঝড়ের সংবাদে এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান বিধবা শাহানুর
বেগম। তাঁর বাড়ি চÐিপুর ইউনিয়নের চরবলেশ্বর গ্রামে। কিন্তু গাছপড়ে তাঁর ঘর শেষ হয়ে। সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে
ইন্দুরকানীতে অন্তত শতকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে কিন্তু এখনওসরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহায়তা পাননি। তিনিও অন্যের ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন। ঘর না হলে কোথায় থাকবেন- এমন প্রশ্ন করেনতিনি। তাঁরই মতো জিজ্ঞাসা ইন্দুরকানীর সত্তার কাজী, এনায়েত গাজী, শাহীন হাওলাদার, আম্বিয়া বেগম, জামাল হোসেনদের।
ঝড়ে কচা নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে পানির তোড়ে ভিটা ভেসে গেছেদিনমজুর গণি মিয়ার। তিনি টগড়া গ্রামের বাসিন্দা। গণি মিয়ার
ভাষ্য, ঘর তুলতে জন প্রতিনিনধি ও প্রশাসরে কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে গেছেন কিন্তু কেউ সহায়তা করেননি।
চন্ডিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যে ত্রাণ এসেছে, তা সামান্য ঘরহারা মানুষের পুনর্বাসনেকোনো সহায়তা এখন ও আসেনি।

উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল আহসান গাজী বলেন, ্#৩৯;সাধ্যমতো সহায়তা করে যাচ্ছি। ঘূর্ণিঝড়ে উপজেলায় শত কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। তিনি সরকারের কাছে দুর্গত মানুষের আবাসন ও বেশি করে ত্রাণ বরাদ্দের দাবি জানান।
এসব তথ্যই জানা আছে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শ ম রেজাউল করিমের। তাঁর ভাষ্য, কচা নদীতে বিলীন বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ঘরহারা মানুষের পুনর্বাসনে তিনি চেষ্টা করছেন।