Dhaka ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রেকর্ড জয়ে ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করলো কিউইরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৫৯:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৭৪ Time View

মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের বাইশ গজে অবিশ্বাস্য ব্যাটিং রেকর্ডের পর বল হাতেও দাপট দেখাল নিউজিল্যান্ড। সিরিজের শেষ টেস্টের শেষ দিনে ক্যারিবীয়দের ৩২৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করল টম ল্যাথামের দল। রানের ব্যবধানে এটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় টেস্ট জয়, যা ভেঙে দিয়েছে ২০১৭ সালে হ্যামিল্টনে পাওয়া ২৪০ রানের জয়ের রেকর্ড। টেস্ট সিরিজের এই আধিপত্যের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ড এই সফরে টি-টোয়েন্টি (৩-১) এবং ওয়ানডে (৩-০) সিরিজের পর টেস্টেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল। ৪৬২ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পঞ্চম দিনের শুরুটা আশা জাগানিয়া ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য। দুই ওপেনার ব্র্যান্ডন কিং ও জন ক্যাম্পবেল লড়াকু মেজাজে ৮৭ রান যোগ করেন। কিন্তু ব্যক্তিগত ৬৭ রানে ব্র্যান্ডন কিং জ্যাকব ডাফির শিকার হতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে সফরকারীদের ইনিংস। এক ওভারের ব্যবধানে ক্যাম্পবেলকেও (১৬) সাজঘরে ফেরান স্পিনার এজাজ প্যাটেল। এরপর শুরু হয় জ্যাকব ডাফির তাণ্ডব। অ্যালিক অ্যাথানেজ ও জাস্টিন গ্রিভসকে দ্রুত ফিরিয়ে মধ্যাহ্নভোজের আগেই কিউইদের জয়ের পথে বসিয়ে দেন তিনি। প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করা কাভেম হজ এবার রানের খাতাই খুলতে পারেননি। ৯৮ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চা-বিরতির সেশনে ম্যাচ বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টায় ব্যাটিংয়ের গতি একদম কমিয়ে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৩২ ওভার ব্যাটিং করে তারা মাত্র ৩৯ রান যোগ করলেও ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে ফেলে। শেষ সেশনে রস্টন চেজ ও জেইডেন সিলসকে আউট করে ক্যারিবীয়দের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন ডাফি। মাত্র ১৩৮ রানেই গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংস। পুরো ম্যাচে ৯ উইকেট শিকার করে এবং সিরিজে সব মিলিয়ে ২৩ উইকেট নিয়ে ‘সিরিজ সেরা’র পুরস্কার বগলদবা করেন পেসার জ্যাকব ডাফি। অন্যদিকে, ম্যাচে দ্বিশতক ও শতকের বিশ্বরেকর্ড গড়া ওপেনার ডেভন কনওয়ে নির্বাচিত হন ‘ম্যাচ সেরা’। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টানা পাঁচটি টেস্ট সিরিজ জয়ের এক অনন্য গৌরব অর্জন করল নিউজিল্যান্ড। সফরকারীদের জন্য এই দীর্ঘ নিউজিল্যান্ড সফরটি এক রাশ হতাশা নিয়েই শেষ হলো।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

রেকর্ড জয়ে ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করলো কিউইরা

Update Time : ১০:৫৯:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের বাইশ গজে অবিশ্বাস্য ব্যাটিং রেকর্ডের পর বল হাতেও দাপট দেখাল নিউজিল্যান্ড। সিরিজের শেষ টেস্টের শেষ দিনে ক্যারিবীয়দের ৩২৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করল টম ল্যাথামের দল। রানের ব্যবধানে এটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় টেস্ট জয়, যা ভেঙে দিয়েছে ২০১৭ সালে হ্যামিল্টনে পাওয়া ২৪০ রানের জয়ের রেকর্ড। টেস্ট সিরিজের এই আধিপত্যের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ড এই সফরে টি-টোয়েন্টি (৩-১) এবং ওয়ানডে (৩-০) সিরিজের পর টেস্টেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল। ৪৬২ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পঞ্চম দিনের শুরুটা আশা জাগানিয়া ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য। দুই ওপেনার ব্র্যান্ডন কিং ও জন ক্যাম্পবেল লড়াকু মেজাজে ৮৭ রান যোগ করেন। কিন্তু ব্যক্তিগত ৬৭ রানে ব্র্যান্ডন কিং জ্যাকব ডাফির শিকার হতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে সফরকারীদের ইনিংস। এক ওভারের ব্যবধানে ক্যাম্পবেলকেও (১৬) সাজঘরে ফেরান স্পিনার এজাজ প্যাটেল। এরপর শুরু হয় জ্যাকব ডাফির তাণ্ডব। অ্যালিক অ্যাথানেজ ও জাস্টিন গ্রিভসকে দ্রুত ফিরিয়ে মধ্যাহ্নভোজের আগেই কিউইদের জয়ের পথে বসিয়ে দেন তিনি। প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করা কাভেম হজ এবার রানের খাতাই খুলতে পারেননি। ৯৮ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চা-বিরতির সেশনে ম্যাচ বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টায় ব্যাটিংয়ের গতি একদম কমিয়ে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৩২ ওভার ব্যাটিং করে তারা মাত্র ৩৯ রান যোগ করলেও ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে ফেলে। শেষ সেশনে রস্টন চেজ ও জেইডেন সিলসকে আউট করে ক্যারিবীয়দের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন ডাফি। মাত্র ১৩৮ রানেই গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংস। পুরো ম্যাচে ৯ উইকেট শিকার করে এবং সিরিজে সব মিলিয়ে ২৩ উইকেট নিয়ে ‘সিরিজ সেরা’র পুরস্কার বগলদবা করেন পেসার জ্যাকব ডাফি। অন্যদিকে, ম্যাচে দ্বিশতক ও শতকের বিশ্বরেকর্ড গড়া ওপেনার ডেভন কনওয়ে নির্বাচিত হন ‘ম্যাচ সেরা’। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টানা পাঁচটি টেস্ট সিরিজ জয়ের এক অনন্য গৌরব অর্জন করল নিউজিল্যান্ড। সফরকারীদের জন্য এই দীর্ঘ নিউজিল্যান্ড সফরটি এক রাশ হতাশা নিয়েই শেষ হলো।