ফকিরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার ঠিকড়িপাড়া গ্রামের একটি জীর্ণ টিনের ঘরে বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ২৭ বছর বয়সী মেধাবী তরুণ সোহাগ শেখ। একসময় উচ্চশিক্ষা নিয়ে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। কিন্তু জীবনের নির্মম বাস্তবতায় সেই স্বপ্ন আজ থমকে গেছে। বাবার কিডনি পেয়ে নতুন জীবন শুরু করলেও এবার লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন তিনি।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোহাগ পড়াশোনায় ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর তিনি খুলনার সুন্দরবন আদর্শ সরকারি কলেজে ভর্তি হন। ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিল তার বড় স্বপ্ন। কিন্তু ২০২২ সালে হঠাৎ ধরা পড়ে কিডনি রোগ। দরিদ্র পরিবারে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ।
দিনমজুর ও পেশায় রাজমিস্ত্রী বাবা ছেলেকে বাঁচাতে নিজের বসতভিটা ও জমিজমা বিক্রি করে প্রায় ৪০ লাখ টাকা জোগাড় করেন। উন্নত চিকিৎসার আশায় ছেলেকে নিয়ে যান ভারতে। চিকিৎসকদের পরামর্শে নিজের একটি কিডনি দান করেন ছেলেকে। পরবর্তীতে ঢাকায় তিন মাস চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন সোহাগ।
অসুস্থতার মধ্যেও থেমে থাকেননি তিনি। পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেলেও সংসারের হাল ধরতে অটোরিকশা চালানো শুরু করেন। প্রতিদিন প্রায় ১,৫০০ টাকার ওষুধের খরচ জোগাতে কঠোর পরিশ্রম করতেন। নতুন করে বাঁচার স্বপ্নও দেখতে শুরু করেছিলেন।
কিন্তু ভাগ্য যেন আবারও নির্মম। সম্প্রতি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে—তিনি হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্ত এবং তার লিভার সিরোসিস হয়েছে। ব্যয়বহুল এই চিকিৎসার খরচ বহন করা পরিবারটির পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে নিজের উপার্জনের একমাত্র সম্বল অটোরিকশার ব্যাটারিও বিক্রি করে দিয়েছেন তিনি।
সোহাগের বৃদ্ধ মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“একমাত্র ছেলের জন্য জমি-জমা, ঘর-বাড়ি সব শেষ করেছি। এখন প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার টাকার ওষুধ লাগে। মাসে মাসে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই। মানুষের কাছে হাত পেতে যা পাই, তা দিয়েই ওষুধ কিনি। আমি শুধু চাই আমার ছেলেটা বেঁচে থাকুক।”
৬৪ বছর বয়সী বাবা কিডনি দানের পর নিজেও দুর্বল হয়ে পড়েছেন। আগের মতো কাজ করতে পারেন না। ফলে সংসার চালানো ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা পরিবারটির জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
অসুস্থ শরীর নিয়েই সোহাগের আকুতি,
“বাবা নিজের শরীর থেকে কিডনি দিয়ে আমাকে নতুন জীবন দিয়েছিলেন। এখন আমার চিকিৎসার খরচ জোগাতে বাবা নিঃস্ব হয়ে গেছেন। আমি আবার সুস্থ হয়ে কাজ করতে চাই, পরিবারের দায়িত্ব নিতে চাই। আমি বাঁচতে চাই।”
বর্তমানে সোহাগের চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। সহৃদয় কোনো ব্যক্তি সহযোগিতা করতে চাইলে ০১৯১৩৯৯৬২৩৫ নম্বরে বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে সহায়তা পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয়দের মতে, সরকারি সহায়তা ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা ছাড়া সোহাগের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সময়মতো সহযোগিতা পেলে হয়তো আবারও বাঁচতে পারে এক মেধাবী তরুণের জীবন, ফিরতে পারে তার স্বপ্ন।
Reporter Name 















