নিজস্ব প্রতিবেদক: কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার প্রায় প্রতিটি স্থানীয় বাজারেই কোনো না কোনোভাবে কুয়াক (হাতুড়ে) চিকিৎসকদের কার্যক্রম চোখে পড়ে। ছোটখাটো জ্বর-সর্দি থেকে শুরু করে কাটা-ছেঁড়া, সেলাই, ইনজেকশন, স্যালাইন দেওয়া এমনকি ছোটখাটো অস্ত্রোপচারসদৃশ কাজও করছেন অনেকে। স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদন বা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছাড়াই এ ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম চললেও দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর তদারকির অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তবে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, দুর্গম এলাকা, চিকিৎসকের সংকট এবং দ্রুত সেবা পাওয়ার কারণে অনেকেই এসব পল্লী চিকিৎসকের কাছে গিয়ে তাৎক্ষণিক উপকার পান। আবার অন্যদিকে ভুল চিকিৎসা, সংক্রমণ ও জটিলতার অভিযোগও প্রায়ই সামনে আসে।
সম্প্রতি ধুরুং বাজারে এক পল্লী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অপচিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। পৃথক দুটি ঘটনায় আহত দুই ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ক্ষতস্থানে সেলাই ও ভুল ইনজেকশন দেওয়ার পর সংক্রমণ দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাদের স্বজনরা।
রোগী জিসাদের অভিভাবক জানান, কোদালের আঘাতে পায়ে গভীর ক্ষত হওয়ার পর তাকে ধুরুং বাজারের একটি ফার্মেসিতে নেওয়া হয়। সেখানে একজন পল্লী চিকিৎসক কোনো ধরনের এক্স-রে বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ৭-৮টি সেলাই দেন। কয়েকদিন পর ক্ষতস্থানে সংক্রমণ দেখা দিলে তাকে কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন দক্ষিণ ধুরুং জেলেপাড়ার বাসিন্দা সুকুমারের পরিবার। তাদের দাবি, সাগরে মাছ ধরার সময় আহত হওয়ার পর হৃদয় নামে এক যুবককে একই পল্লী চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। সেলাই দেওয়ার পর তার ক্ষতস্থানে সংক্রমণ দেখা দেয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসা নিতে হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পল্লী চিকিৎসকের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহ প্রকাশ করা হবে।
এ বিষয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল হাসান বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সময় করে এসব কুয়াক (হাতুড়ে) চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। একমাত্র প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্জন ছাড়া অন্য কেউ কাটা-ছেড়াসহ এ ধরনের চিকিৎসা করতে পারেন না।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একদিকে প্রত্যন্ত এলাকায় সহজলভ্য চিকিৎসাসেবার অভাব, অন্যদিকে কুয়াক চিকিৎসকদের অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রম জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই সরকারি স্বাস্থ্যসেবা আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি নিবন্ধনহীন ও অদক্ষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা বন্ধে নিয়মিত তদারকি ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।