নারীর প্রতি আফগান তালেবান সরকারের আচরণের প্রতিবাদে উত্তাল ইংল্যান্ড। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগে নাম দেওয়ায় এবং ইসিবি সেই লিগে খেলার এনওসি দেওয়ার কথা ভাবায়। যদিও তীব্র বিতর্কের মধ্যে এই টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ৩ ইংলিশ ক্রিকেটার। সবার আগে এপিএলের ড্রাফট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তারকা ব্যাটার অলি পোপ। সেই পথে হেঁটেছেন উইল স্মিদ ও ডেভিড উইলিও। আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে আপত্তি জানালেও ইসিবি অবশ্য এই লিগে ইংলিশ ক্রিকেটারদের এনওসি দেওয়ার পক্ষে রয়েছে এখন পর্যন্ত। ইসিবি চেয়ারম্যান রিচার্ড থম্পসন জানিয়েছিলেন, এপিএলে ইংলিশ ক্রিকেটারদের খেলার অনুমতি দেওয়ার আগে বোর্ডকে ‘খুব সতর্কভাবে চিন্তা করতে হবে’। তবে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য ও পেশাগত স্বাধীনতা-সংক্রান্ত আইন এ ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। সে সময় বিভিন্ন মহল থেকে ক্রিকেটারদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়- তারা যেন এই লিগে অংশ না নেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ৩ ইংলিশ ক্রিকেটার ড্রাফট থেকে সরে দাঁড়ালেন। লেবার পার্টির সংসদ সদস্য টোনিয়া অ্যান্টোনিয়াজ্জিও ক্রিকেটারদের ড্রাফটে নাম দেওয়া নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। ইসিবির শীর্ষ কর্তা রব কি এরই মধ্যে ক্রিকেটারদের ‘সঠিক নৈতিক অবস্থান’ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রব কি বলেছেন, ‘আইনগতভাবে ক্রিকেটারদের এসব টুর্নামেন্টে খেলা থেকে বিরত রাখা কঠিন। বিষয়টি শেষপর্যন্ত নৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। খেলোয়াড়দের সঠিক নৈতিক অবস্থান নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে বললে, আমি সেখানে খেলতে যেতাম না। যদিও এ কথা বলা আমার জন্য সহজ, শেষপর্যন্ত সিদ্ধান্তটি খেলোয়াড়দেরই নিতে হবে।’ তিনি খেলোয়াড়দের জায়গায় থাকলে খেলতে যেতেন না জানিয়ে আরও বলেন, ‘আফগানিস্তানে নারীদের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হচ্ছে, তা আমি সমর্থন করি না। দেশটিতে যেভাবে বিভিন্ন বিষয় পরিচালিত হয়, তার সঙ্গেও আমি একমত নই। তাই সেখানে খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্তও আমি নিতাম না।’ এদিকে ডেভিড মালান এখনও ড্রাফটে নিবন্ধিত অবস্থায় থাকলেও এক পডকাস্টে তিনি বলেছেন, ‘ক্রিকেটার হিসেবে আমরা আইসিসি ও নিজ নিজ বোর্ডের নির্দেশনা অনুসরণ করি। আমার একটি মেয়ে আছে। আমি চাই, সে খেলাধুলা করুক, খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত হোক এবং তা উপভোগ করুক। তাই এই যুক্তির বিষয়টি আমি পুরোপুরি বুঝতে পারি। কিন্তু দিনশেষে আমি একজন ক্রিকেটার। আমাকে বাড়ি ভাড়া দিতে হয় এবং যতদিন পারি, তত দিন উপার্জন করতে হবে। তাই বোর্ডগুলো যদি অনুমোদন দিয়ে থাকে, তাহলে সেখানে খেলতে আমার আপত্তি নেই।’ শেষপর্যন্ত আফগানিস্তান বোর্ডের এই লিগ কঠিন এক চ্যালেঞ্জেই ফেলেছে ইংল্যান্ডের ক্রিকেটকে।