Dhaka ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ থেকে ফিরে গেল ‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজ, এবারও আসা হলো না

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:১৭:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩৮ Time View

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাত্রা শুরুর পরও আবারও বাধার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজ বাংলার জয়যাত্রা। ইরানি বাহিনীর নির্দেশে প্রণালিতে প্রবেশের পর জাহাজটির অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তথ্যনুযায়, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে ইরান হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা দিলে রাত ৯টার দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ বন্দরের কাছ থেকে নোঙর তুলে ফুজাইরার উদ্দেশে রওনা দেয় জাহাজটি। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা থামিয়ে দেওয়া হয়। ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও জাহাজটি ওমান সাগরে বের হতে না পেরে আবারও পারস্য উপসাগরের নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে যাচ্ছে।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের তথ্যমতে, শুক্রবার বিকেলে ইরান সরকার বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ঘোষণা দেয়। এই খবরের পর পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা কয়েক শ জাহাজ পূর্ণ গতিতে হরমুজ প্রণালির দিকে যাত্রা শুরু করে। এই সারির শুরুর দিকেই ছিল বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, ‘শুক্রবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে জাহাজটি হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছিল। আমরা আশা করেছিলাম ভোররাত ৩টার দিকে এটি প্রণালি পার হয়ে ওমান সাগরে প্রবেশ করবে। কিন্তু রাত সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ ইরানি নৌবাহিনী ও আইআরজিসি রেডিও বার্তার মাধ্যমে সব জাহাজের ইঞ্জিন বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। তারা জানায়, আইআরজিসির বিশেষ অনুমতি ছাড়া কেউ এই প্রণালি পার হতে পারবে না।’

তিনি এই ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর অনুমতি চেয়ে কোনো নেতিবাচক বার্তা না পাওয়ায় সবাই ভেবেছিল পথটি উন্মুক্ত। জয়যাত্রার সঙ্গে প্রায় ৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজ এগিয়ে যাচ্ছিল, যাদের সবাইকে একইভাবে আটকে দেয়া হয়েছে।

জাহাজের ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা শুনে আমরা রওনা হয়েছিলাম। কিন্তু ইরানের বাহিনী অনুমতি দেয়নি। ফিরে যাওয়ার নির্দেশনা পাওয়ার পর আমরা এখন আগের জায়গায় (পারস্য উপসাগরে) ফেরত যাচ্ছি।’

গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে পারস্য উপসাগরে অবস্থান করছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। জাহাজটিতে বর্তমানে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে লোড করা প্রায় ৩৭ হাজার টন সার রয়েছে, যা দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে নিয়ে যাওয়ার কথা। এর আগে গত ১১ মার্চ এবং যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ৮ এপ্রিল-দুই দফায় জাহাজটি ফেরার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এটি ছিল জাহাজটির তৃতীয় দফার ব্যর্থ চেষ্টা।

জাহাজে বর্তমানে ৩১ জন নাবিক রয়েছেন। বিএসসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাবিকরা সবাই সুস্থ ও নিরাপদ আছেন।

Tag :
About Author Information

Md Shibbir Ahmed

হরমুজ থেকে ফিরে গেল ‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজ, এবারও আসা হলো না

Update Time : ০২:১৭:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাত্রা শুরুর পরও আবারও বাধার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজ বাংলার জয়যাত্রা। ইরানি বাহিনীর নির্দেশে প্রণালিতে প্রবেশের পর জাহাজটির অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তথ্যনুযায়, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে ইরান হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা দিলে রাত ৯টার দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ বন্দরের কাছ থেকে নোঙর তুলে ফুজাইরার উদ্দেশে রওনা দেয় জাহাজটি। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা থামিয়ে দেওয়া হয়। ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও জাহাজটি ওমান সাগরে বের হতে না পেরে আবারও পারস্য উপসাগরের নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে যাচ্ছে।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের তথ্যমতে, শুক্রবার বিকেলে ইরান সরকার বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ঘোষণা দেয়। এই খবরের পর পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা কয়েক শ জাহাজ পূর্ণ গতিতে হরমুজ প্রণালির দিকে যাত্রা শুরু করে। এই সারির শুরুর দিকেই ছিল বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, ‘শুক্রবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে জাহাজটি হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছিল। আমরা আশা করেছিলাম ভোররাত ৩টার দিকে এটি প্রণালি পার হয়ে ওমান সাগরে প্রবেশ করবে। কিন্তু রাত সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ ইরানি নৌবাহিনী ও আইআরজিসি রেডিও বার্তার মাধ্যমে সব জাহাজের ইঞ্জিন বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। তারা জানায়, আইআরজিসির বিশেষ অনুমতি ছাড়া কেউ এই প্রণালি পার হতে পারবে না।’

তিনি এই ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর অনুমতি চেয়ে কোনো নেতিবাচক বার্তা না পাওয়ায় সবাই ভেবেছিল পথটি উন্মুক্ত। জয়যাত্রার সঙ্গে প্রায় ৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজ এগিয়ে যাচ্ছিল, যাদের সবাইকে একইভাবে আটকে দেয়া হয়েছে।

জাহাজের ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা শুনে আমরা রওনা হয়েছিলাম। কিন্তু ইরানের বাহিনী অনুমতি দেয়নি। ফিরে যাওয়ার নির্দেশনা পাওয়ার পর আমরা এখন আগের জায়গায় (পারস্য উপসাগরে) ফেরত যাচ্ছি।’

গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে পারস্য উপসাগরে অবস্থান করছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। জাহাজটিতে বর্তমানে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে লোড করা প্রায় ৩৭ হাজার টন সার রয়েছে, যা দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে নিয়ে যাওয়ার কথা। এর আগে গত ১১ মার্চ এবং যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ৮ এপ্রিল-দুই দফায় জাহাজটি ফেরার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এটি ছিল জাহাজটির তৃতীয় দফার ব্যর্থ চেষ্টা।

জাহাজে বর্তমানে ৩১ জন নাবিক রয়েছেন। বিএসসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাবিকরা সবাই সুস্থ ও নিরাপদ আছেন।