Dhaka ০৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্যাপ্টেন্স কার্ড নিয়ে বিতর্ক, ‘অধিনায়করা রাজা, অন্যরা প্রজা’ বলে ক্ষোভ তাপস বৈশ্যর

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৫২:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০ Time View

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নতুন উদ্যোগ ‘ক্যাপ্টেন্স কার্ড’ চালুর পরই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সাবেক অধিনায়কদের জন্য বিশেষ সুবিধা চালু করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় দলের সাবেক পেসার তাপস বৈশ্য, যিনি এই উদ্যোগকে সরাসরি বৈষম্যমূলক বলে আখ্যা দিয়েছেন।

রাজধানীর একটি হোটেলে ১৬ এপ্রিল আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাবেক অধিনায়কদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হয়। বিসিবির এই উদ্যোগের মাধ্যমে কার্ডধারীরা স্টেডিয়ামে বিনামূল্যে প্রবেশ, ভিভিআইপি পার্কিং, এসি লাউঞ্জে খেলা দেখা, স্বাস্থ্য বীমা ও চিকিৎসা সুবিধাসহ নানা সুযোগ পাবেন। বোর্ডের পক্ষ থেকে এটিকে অধিনায়কদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

তবে এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে শনিবার (১৮ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাপস বৈশ্য লিখেছেন, “এই যুগের বৈষম্য! আগে থেকেই খেলা দেখতে অধিনায়কদের জন্য এসি বক্স আর অন্য জাতীয় দলের সতীর্থদের জন্য সাধারণ গ্যালারি, আর এখন তো কার্ড!” তিনি আরও বলেন, “অধিনায়করা রাজা আর অন্যরা প্রজা! অধিনায়ক হলেই তুমি চৌধুরী, আর অন্য সতীর্থরা? খেলে তো সবাই মিলে ১১ বা ১৪ জন, খেলা ছেড়ে দেওয়ার পর সবাই জাতীয় খেলোয়াড়!”

নিজের বক্তব্যে তিনি সাবেক স্পিনার মোহাম্মদ রফিকের উদাহরণ টেনে বলেন, “রফিক ভাইয়ের মতো জনপ্রিয় খেলোয়াড় কয়জন অধিনায়ক আছেন? রফিক ভাই বসবেন সাধারণ গ্যালারিতে আর আনকোরা অধিনায়ক এসি বক্সে?” তাঁর মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত সাবেক ক্রিকেটারদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করছে।

তাপস বৈশ্য আরও কঠোর ভাষায় বলেন, “কারও যদি আত্মসম্মান থাকে, তাহলে এই বৈষম্যের প্রতিবাদ করবে। যারা কার্ড পেয়েছে, তারা করবে না, কারণ তারা এখন বাংলা সিনেমার চৌধুরী হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, এই পরিস্থিতির কারণে নিজের পরিচয় দিতেও অস্বস্তি বোধ করছেন তিনি। “এই বৈষম্যের কারণে আমি আমার নিজেকে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে পরিচয় দিতেই লজ্জা বোধ করছি,” বলেন তিনি।

বিসিবির এই উদ্যোগ নিয়ে ক্রিকেটাঙ্গনে আলোচনা বাড়ছে। একদিকে বোর্ড এটিকে সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে অনেকেই এটিকে বৈষম্যের নতুন উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। বিষয়টি নিয়ে সামনে আরও বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Tag :
About Author Information

Md Shibbir Ahmed

ক্যাপ্টেন্স কার্ড নিয়ে বিতর্ক, ‘অধিনায়করা রাজা, অন্যরা প্রজা’ বলে ক্ষোভ তাপস বৈশ্যর

Update Time : ০১:৫২:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নতুন উদ্যোগ ‘ক্যাপ্টেন্স কার্ড’ চালুর পরই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সাবেক অধিনায়কদের জন্য বিশেষ সুবিধা চালু করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় দলের সাবেক পেসার তাপস বৈশ্য, যিনি এই উদ্যোগকে সরাসরি বৈষম্যমূলক বলে আখ্যা দিয়েছেন।

রাজধানীর একটি হোটেলে ১৬ এপ্রিল আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাবেক অধিনায়কদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হয়। বিসিবির এই উদ্যোগের মাধ্যমে কার্ডধারীরা স্টেডিয়ামে বিনামূল্যে প্রবেশ, ভিভিআইপি পার্কিং, এসি লাউঞ্জে খেলা দেখা, স্বাস্থ্য বীমা ও চিকিৎসা সুবিধাসহ নানা সুযোগ পাবেন। বোর্ডের পক্ষ থেকে এটিকে অধিনায়কদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

তবে এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে শনিবার (১৮ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাপস বৈশ্য লিখেছেন, “এই যুগের বৈষম্য! আগে থেকেই খেলা দেখতে অধিনায়কদের জন্য এসি বক্স আর অন্য জাতীয় দলের সতীর্থদের জন্য সাধারণ গ্যালারি, আর এখন তো কার্ড!” তিনি আরও বলেন, “অধিনায়করা রাজা আর অন্যরা প্রজা! অধিনায়ক হলেই তুমি চৌধুরী, আর অন্য সতীর্থরা? খেলে তো সবাই মিলে ১১ বা ১৪ জন, খেলা ছেড়ে দেওয়ার পর সবাই জাতীয় খেলোয়াড়!”

নিজের বক্তব্যে তিনি সাবেক স্পিনার মোহাম্মদ রফিকের উদাহরণ টেনে বলেন, “রফিক ভাইয়ের মতো জনপ্রিয় খেলোয়াড় কয়জন অধিনায়ক আছেন? রফিক ভাই বসবেন সাধারণ গ্যালারিতে আর আনকোরা অধিনায়ক এসি বক্সে?” তাঁর মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত সাবেক ক্রিকেটারদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করছে।

তাপস বৈশ্য আরও কঠোর ভাষায় বলেন, “কারও যদি আত্মসম্মান থাকে, তাহলে এই বৈষম্যের প্রতিবাদ করবে। যারা কার্ড পেয়েছে, তারা করবে না, কারণ তারা এখন বাংলা সিনেমার চৌধুরী হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, এই পরিস্থিতির কারণে নিজের পরিচয় দিতেও অস্বস্তি বোধ করছেন তিনি। “এই বৈষম্যের কারণে আমি আমার নিজেকে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে পরিচয় দিতেই লজ্জা বোধ করছি,” বলেন তিনি।

বিসিবির এই উদ্যোগ নিয়ে ক্রিকেটাঙ্গনে আলোচনা বাড়ছে। একদিকে বোর্ড এটিকে সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে অনেকেই এটিকে বৈষম্যের নতুন উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। বিষয়টি নিয়ে সামনে আরও বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।