Dhaka ০৪:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রপাতে পাঁচ জেলায় ১১ জনের মৃত্যু

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ২ Time View

কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে সারা দেশে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় অন্তত ১১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশের পাঁচটি জেলায় আজ শনিবার দুপুরের পর থেকে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলায় ৫ জন, রংপুরে ২ জন, ময়মনসিংহে ২ জন এবং নেত্রকোণা ও হবিগঞ্জে ১ জন করে মারা গেছেন। 

হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার মৌসুমে এমন আকস্মিক বজ্রপাতে কৃষকদের মৃত্যুতে এলাকাগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, এই জেলায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। ধর্মপাশা উপজেলায় বজ্রপাতে হবিবুর রহমান (২২) ও রহমত উল্লাহ (১৩) নামে দুজন নিহত হয়েছেন। হবিবুর রহমান বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি দুপুরে চাচার সাথে হাওরে ধান কাটতে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে রহমত উল্লাহ তার বাবার সাথে হাওরে থাকাকালীন বজ্রপাতের শিকার হয়।

এই ঘটনায় আহত জয়নাল হক ও শিখা মনিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাহিরপুর উপজেলায় আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া (২৮) নামে এক হাঁসের খামার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার জামলাবাজ গ্রামে বজ্রপাতের সময় তিনি কাজ করছিলেন।

এই ঘটনায় নূর মোহাম্মদ নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেটে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া দিরাই উপজেলায় কালিয়াগোটার হাওরে ধান কাটার সময় লিটন মিয়া (৩৮) নামে এক কৃষক এবং জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওরে ধান ট্রলিতে তোলার সময় নুর জামাল (২৬) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। জামালগঞ্জে বজ্রপাতে তোফাজ্জল হোসেন নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং দুটি গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে।

ময়মনসিংহ ও রংপুর জেলা থেকেও বজ্রপাতে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ময়মনসিংহে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে ২ জন এবং রংপুরে ঝড়ের সময় মাঠে কাজ করতে গিয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া নেত্রকোণা ও হবিগঞ্জে হাওরে কাজ করার সময় ১ জন করে মোট ২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট এলাকার থানা পুলিশ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

আবহাওয়াবিদ ও স্থানীয় প্রশাসন বলছে, কালবৈশাখীর এই মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। বিশেষ করে হাওর এলাকায় খোলা জায়গায় কাজ করার সময় কৃষকদের বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Tag :
About Author Information

Md Shibbir Ahmed

কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রপাতে পাঁচ জেলায় ১১ জনের মৃত্যু

Update Time : ০১:৪১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে সারা দেশে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় অন্তত ১১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশের পাঁচটি জেলায় আজ শনিবার দুপুরের পর থেকে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলায় ৫ জন, রংপুরে ২ জন, ময়মনসিংহে ২ জন এবং নেত্রকোণা ও হবিগঞ্জে ১ জন করে মারা গেছেন। 

হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার মৌসুমে এমন আকস্মিক বজ্রপাতে কৃষকদের মৃত্যুতে এলাকাগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, এই জেলায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। ধর্মপাশা উপজেলায় বজ্রপাতে হবিবুর রহমান (২২) ও রহমত উল্লাহ (১৩) নামে দুজন নিহত হয়েছেন। হবিবুর রহমান বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি দুপুরে চাচার সাথে হাওরে ধান কাটতে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে রহমত উল্লাহ তার বাবার সাথে হাওরে থাকাকালীন বজ্রপাতের শিকার হয়।

এই ঘটনায় আহত জয়নাল হক ও শিখা মনিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাহিরপুর উপজেলায় আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া (২৮) নামে এক হাঁসের খামার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার জামলাবাজ গ্রামে বজ্রপাতের সময় তিনি কাজ করছিলেন।

এই ঘটনায় নূর মোহাম্মদ নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেটে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া দিরাই উপজেলায় কালিয়াগোটার হাওরে ধান কাটার সময় লিটন মিয়া (৩৮) নামে এক কৃষক এবং জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওরে ধান ট্রলিতে তোলার সময় নুর জামাল (২৬) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। জামালগঞ্জে বজ্রপাতে তোফাজ্জল হোসেন নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং দুটি গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে।

ময়মনসিংহ ও রংপুর জেলা থেকেও বজ্রপাতে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ময়মনসিংহে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে ২ জন এবং রংপুরে ঝড়ের সময় মাঠে কাজ করতে গিয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া নেত্রকোণা ও হবিগঞ্জে হাওরে কাজ করার সময় ১ জন করে মোট ২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট এলাকার থানা পুলিশ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

আবহাওয়াবিদ ও স্থানীয় প্রশাসন বলছে, কালবৈশাখীর এই মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। বিশেষ করে হাওর এলাকায় খোলা জায়গায় কাজ করার সময় কৃষকদের বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।