Dhaka ০২:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাগেরহাটে মাজারের দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে  মারা যাওয়া কুকুরটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৫৭:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৭ Time View
বাগেরহাট প্রতিনিধি:  বাগেরহাটের হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজারের দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে মারা যাওয়া কুকুরটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে । রিপোটে বলা হয়েছে কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে ভুগছিলো  এবং কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃত ভাবে কুমিরের মুখে ঠেলে দেওয়া কোনো সত্যতা পায়নি তদন্ত কমিটি।
জেলা প্রশাসনের গঠন করা তিন সদস্য কমিটি বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এই  প্রতিবেদন দাখিলের পর এসব তথ্য উঠে এসেছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিয়া খাতুন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন , তথ্য–উপাত্ত সংগ্রহ এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তদন্ত শেষে আমরা প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।  তদন্ত করে কুকুরকে ইচ্ছাকৃত ভাবে  কুমিরের মুখে দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কুকুরটি দুর্ঘটনাবশত পুকুরে পড়ে যায়। প্রাণীটি নিজেই জলাতঙ্ক আক্রান্ত ছিল।’‘কুকুরটি একাধিক মানুষকে কামড় দিয়েছে। মাজারের নিরাপত্তা প্রহরী ফোরকান টিকা নিয়েছেন, হাসপাতাল থেকে আমরা সে প্রমাণও সংগ্রহ করেছি।
বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ডিএলও) মোহাম্মদ ছাহেব আলী বলেন, সিডিআইএল থেকে পাওয়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে ভুগছিল। ওই কুকুর যাদের কামড়িয়েছে  তারাও জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে কুকুর দ্বারা আক্রান্ত সবাই ভ্যাকসিন নিয়েছেন। কুমিরটি জলাতঙ্ক আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নেই জানিয়ে বলেন, কুমির হিংস্র প্রাণী। তাই তার জলাতঙ্ক আক্রান্ত হওয়ার কোনো ঝুঁকি নেই।
এর আগে ১১ এপ্রিল বিকেলে মাজার এলাকায় জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত¡াবধানে কুকুরটির ময়নাতদন্ত করা হয়। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় ঢাকার সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরিতে (সিডিআইএল)। গত বুধবার জেলা প্রাণিসম্পদ সিডিআইএলের প্রতিবেদন পেয়েছে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃত কুমিরের মুখে দেওয়ার কোনো প্রমাণ পায়নি তদন্ত কমিটি।
প্রসঙ্গত,গেল ৮ এপ্রিল বিকেলে দিঘির প্রধান ঘাট থেকে একটি কুকুরকে ধরে টেনে পানির নিচে নিয়ে যায় কুমির। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। আসতে থাকে নানামুখী অভিযোগ। যার প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তে জেলা প্রশাসন তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে।
Tag :
About Author Information

বাগেরহাটে মাজারের দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে  মারা যাওয়া কুকুরটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

Update Time : ০৯:৫৭:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
বাগেরহাট প্রতিনিধি:  বাগেরহাটের হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজারের দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে মারা যাওয়া কুকুরটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে । রিপোটে বলা হয়েছে কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে ভুগছিলো  এবং কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃত ভাবে কুমিরের মুখে ঠেলে দেওয়া কোনো সত্যতা পায়নি তদন্ত কমিটি।
জেলা প্রশাসনের গঠন করা তিন সদস্য কমিটি বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এই  প্রতিবেদন দাখিলের পর এসব তথ্য উঠে এসেছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিয়া খাতুন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন , তথ্য–উপাত্ত সংগ্রহ এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তদন্ত শেষে আমরা প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।  তদন্ত করে কুকুরকে ইচ্ছাকৃত ভাবে  কুমিরের মুখে দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কুকুরটি দুর্ঘটনাবশত পুকুরে পড়ে যায়। প্রাণীটি নিজেই জলাতঙ্ক আক্রান্ত ছিল।’‘কুকুরটি একাধিক মানুষকে কামড় দিয়েছে। মাজারের নিরাপত্তা প্রহরী ফোরকান টিকা নিয়েছেন, হাসপাতাল থেকে আমরা সে প্রমাণও সংগ্রহ করেছি।
বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ডিএলও) মোহাম্মদ ছাহেব আলী বলেন, সিডিআইএল থেকে পাওয়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে ভুগছিল। ওই কুকুর যাদের কামড়িয়েছে  তারাও জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে কুকুর দ্বারা আক্রান্ত সবাই ভ্যাকসিন নিয়েছেন। কুমিরটি জলাতঙ্ক আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নেই জানিয়ে বলেন, কুমির হিংস্র প্রাণী। তাই তার জলাতঙ্ক আক্রান্ত হওয়ার কোনো ঝুঁকি নেই।
এর আগে ১১ এপ্রিল বিকেলে মাজার এলাকায় জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত¡াবধানে কুকুরটির ময়নাতদন্ত করা হয়। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় ঢাকার সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরিতে (সিডিআইএল)। গত বুধবার জেলা প্রাণিসম্পদ সিডিআইএলের প্রতিবেদন পেয়েছে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃত কুমিরের মুখে দেওয়ার কোনো প্রমাণ পায়নি তদন্ত কমিটি।
প্রসঙ্গত,গেল ৮ এপ্রিল বিকেলে দিঘির প্রধান ঘাট থেকে একটি কুকুরকে ধরে টেনে পানির নিচে নিয়ে যায় কুমির। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। আসতে থাকে নানামুখী অভিযোগ। যার প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তে জেলা প্রশাসন তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে।