বিদেশ : যুদ্ধবিরতির আগ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইরানের রেল যোগাযোগ। তবে এ খাতেও চমক দেখিয়েছে ইরান। কয়েকদিনের মধ্যেই সেই রেল যোগাযোগ চালু করেছে দেশটি। গতকাল সোমবার আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সমপ্রতি সেতু, রেললাইনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। এসব কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে তা সম্পন্ন করা হচ্ছে। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল আজারবাইজান অঞ্চলে রেলওয়ের মহাপরিচালক জানিয়েছেন,তাবরিজ শহর থেকে রাজধানী তেহরান এবং উত্তর-পূর্বের মাশহাদগামী ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। এদিকে, তেহরানের দক্ষিণে কোম শহরের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলসেতু শনিবার পুনরায় চালু করা হয়েছে। প্রদেশটির উপ-গভর্নর খসরু সামারি জানান, মাত্র ৪০ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যেই সেতুটি পুনর্র্নিমাণ করা সম্ভব হয়েছে। গত শুক্রবার তাসনিম সংবাদ সংস্থা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে ইসফাহান প্রদেশের কাশান শহরের ইয়াহইয়া আবাদ সেতু দিয়ে একটি ট্রেন চলাচল করতে দেখা গেছে। সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর পুনর্গঠন কাজ সম্পন্ন করতে তিন মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এদিকে ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের অর্থনৈতিক ধাক্কায় বিশ্বজুড়ে ৩ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। এ সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত নিয়ে দ্য গার্ডিয়ান খবর প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ‘ত্রিমুখী ধাক্কা’ তৈরি করেছে। জ্বালানি সংকট, খাদ্য ঘাটতি এবং প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার সম্মিলিত প্রভাব পড়ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে উন্নয়নশীল দেশগুলো। ইউএনডিপির প্রশাসক ও বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডি ক্রু বলেন, এ ধরনের যুদ্ধ উন্নয়নের চাকা উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দেয়। যুদ্ধ থেমে গেলেও এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়। তিনি আরও বলেন, যারা একসময় দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছিল, তারাই আবার দারিদ্র্যে ফিরে যেতে পারে, এটাই সবচেয়ে উদ্বেগজনক। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর গত ছয় সপ্তাহে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।
Reporter Name 


















