Dhaka ০৪:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যরাত থেকে বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিন মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:১৫:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩ Time View

বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশের জলসীমায় ইলিশসহ সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের প্রজনন বৃদ্ধি ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে  শুরু হচ্ছে ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাত থেকে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত সাগরে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। মৎস্য বিভাগ এই নিষেধাজ্ঞা সফল করতে ইতোমধ্যে উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার খবর পেয়ে ভোলার বিভিন্ন মাছঘাটে জেলেদের ব্যস্ততা দেখা গেছে। সাগরে থাকা জেলেরা তাদের জাল ও ট্রলার নিয়ে তীরে ফিরে আসছেন। ঘাটে সারি সারি ট্রলার নোঙর করে অনেককে মেরামতের কাজ করতে দেখা গেছে।

তবে দীর্ঘ এই দুই মাস আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ভোলার প্রায় ৬৫ হাজার জেলে। রিয়াজ ও রাকিব নামের জেলেরা জানান, সরকারি আইন মেনে তারা সাগরে যাওয়া বন্ধ রাখলেও এই সময়ে পরিবারের ভরণপোষণ চালানো তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেলেদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময়ে তারা পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে পড়লেও ঋণের বোঝা তাদের পিছু ছাড়ে না। মো. ফারুক ও হাসান মাঝিসহ স্থানীয় জেলেরা দাবি জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞার শুরুতেই যেন সরকারি খাদ্য সহায়তা (ভিজিএফ) প্রদান করা হয়। পাশাপাশি এই সংকটকালীন সময়ে এনজিওর ঋণের কিস্তি স্থগিত রাখতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। তাদের মতে, সঠিক সময়ে সহায়তা না পেলে পরিবার নিয়ে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসন পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি জানান, ভোলার সাত উপজেলায় মোট ৬৩ হাজার ৯৫৪ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন প্রত্যেক জেলেকে পর্যায়ক্রমে ৭৭ কেজি করে ভিজিএফ চাল সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া জলসীমানায় অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং মাছ ধরা রোধে কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।

Tag :
About Author Information

মধ্যরাত থেকে বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিন মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

Update Time : ১২:১৫:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশের জলসীমায় ইলিশসহ সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের প্রজনন বৃদ্ধি ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে  শুরু হচ্ছে ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাত থেকে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত সাগরে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। মৎস্য বিভাগ এই নিষেধাজ্ঞা সফল করতে ইতোমধ্যে উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার খবর পেয়ে ভোলার বিভিন্ন মাছঘাটে জেলেদের ব্যস্ততা দেখা গেছে। সাগরে থাকা জেলেরা তাদের জাল ও ট্রলার নিয়ে তীরে ফিরে আসছেন। ঘাটে সারি সারি ট্রলার নোঙর করে অনেককে মেরামতের কাজ করতে দেখা গেছে।

তবে দীর্ঘ এই দুই মাস আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ভোলার প্রায় ৬৫ হাজার জেলে। রিয়াজ ও রাকিব নামের জেলেরা জানান, সরকারি আইন মেনে তারা সাগরে যাওয়া বন্ধ রাখলেও এই সময়ে পরিবারের ভরণপোষণ চালানো তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেলেদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময়ে তারা পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে পড়লেও ঋণের বোঝা তাদের পিছু ছাড়ে না। মো. ফারুক ও হাসান মাঝিসহ স্থানীয় জেলেরা দাবি জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞার শুরুতেই যেন সরকারি খাদ্য সহায়তা (ভিজিএফ) প্রদান করা হয়। পাশাপাশি এই সংকটকালীন সময়ে এনজিওর ঋণের কিস্তি স্থগিত রাখতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। তাদের মতে, সঠিক সময়ে সহায়তা না পেলে পরিবার নিয়ে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসন পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি জানান, ভোলার সাত উপজেলায় মোট ৬৩ হাজার ৯৫৪ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন প্রত্যেক জেলেকে পর্যায়ক্রমে ৭৭ কেজি করে ভিজিএফ চাল সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া জলসীমানায় অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং মাছ ধরা রোধে কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।