ইমদাদুল হক,পাইকগাছা ( খুলনা ) : প্রকৃতিতে এখন চৈত্র মাস। বসন্তের বিদায়ঘণ্টা আর প্রখর গ্রীষ্মের আগমনের এই সন্ধিক্ষণে চারদিকে যখন তীব্র দাবদাহ থাকার কথা, তখন খুলনার পাইকগাছায় দেখা মিলল এক ভিন্ন রূপের। চৈত্র মাসের শেষ দিকে এসে আজ সকালে ঘুম থেকে জেগে পাইকগাছাবাসী দেখল এক অচেনা প্রকৃতি—চারপাশ ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন, যেন পৌষের কনকনে শীতের সকাল ফিরে এসেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ভোরের আলো ফুটতেই উপজেলার পৌর সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন সাদা কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে।
দৃষ্টিসীমা এতটাই কমে গেছে যে, সামনের রাস্তাঘাট বা গাছপালা ঠিকমতো দেখা যাচ্ছিল না। সড়কে চলাচলকারী বাস ও অন্যান্য যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলতে দেখা গেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, শুধু সকালেই নয়, গত কয়েক রাত থেকেই এলাকায় হালকা শীত অনুভূত হচ্ছে। চৈত্র মাসের শেষভাগে এসেও রাতে শরীরে পাতলা কাঁথা জড়াতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। রাতে ও ভোরে হাড়কাঁপানো না হলেও শরীরে এক ধরনের শিরশিরে শীতের অনুভূতি বা ‘গাঁথা’ লাগছে, যা বছরের এই সময়ে অত্যন্ত অস্বাভাবিক। স্থানীয়রা জানান, চৈত্র মাসের এই শেষ সময়ে সাধারণত প্রচণ্ড গরম থাকে, কিন্তু এবার আবহাওয়া যেন উল্টো পথে হাঁটছে। দিনের বেলা রোদের তেজ থাকলেও রাত নামলেই অনুভূত হচ্ছে শীত। আর ভোরের ঘন কুয়াশা মনে করিয়ে দিচ্ছে শীতকালের স্মৃতি। আবহাওয়াবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আবহাওয়ার এই খামখেয়ালি আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাতাসে আর্দ্রতার আধিক্য এবং তাপমাত্রার আকস্মিক পরিবর্তনের ফলেই এই কুয়াশা ও রাতের শীতল আমেজ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা কাটতে শুরু করলেও, চৈত্র মাসের শেষবেলায় প্রকৃতির এই ‘শীতকালীন’ রূপ পাইকগাছাবাসীর মনে এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতার সৃষ্টি করেছে।
Reporter Name 

























