বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৮ অপরাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে পরিবার ও সহপাঠীদের অসন্তোষ

প্রতিনিধি: / ২ দেখেছেন:
পাবলিশ: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের রায় ঘিরে পরিবার ও সহপাঠীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলার রায় ঘোষণা করলে দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও পরিবার ও আন্দোলনের সহযোদ্ধারা প্রত্যাশিত ন্যায়বিচার পাননি বলে মন্তব্য করেছেন।

মামলার রায়ে পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল নেতৃত্ব দেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী, অন্যান্য সদস্য ছিলেন মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

রায় ঘোষণার পরপরই রংপুরের পীরগঞ্জের বাবনপাড়ায় শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, “আজকের এই রায়ে দুজন পুলিশকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এতে আমি সন্তুষ্ট নই। আমাদের প্রত্যাশা ছিল আরও অনেককে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হোক।” তিনি জানান, পরিবারের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে বড় ছেলে রমজান আলীর সঙ্গে পরামর্শ করা হবে।

আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, “আশা করেছিলাম, মূল হোতাদেরও ফাঁসি হবে, কিন্তু হলো না। আমাদের সন্তানের হত্যার প্রকৃত বিচার এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। আমরা খুশি নই।” বড়বোন সুমি আক্তারও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার ভাইকে যেভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, তার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকেরই সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আমরা সেই বিচার পাইনি।”

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেছেন, “আজকের রায়ে আসামিদের শাস্তির মাত্রা নিয়ে সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যরা তাদের মতামত জানাতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আমি সন্তুষ্ট, তবে পরিবারের সন্তুষ্টি এ বিষয়ে নির্ধারণমূলক।”

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। নিরস্ত্র অবস্থায় বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সেই দৃশ্যের ভিডিও দেশের আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং আন্দোলনকে ব্যাপকভাবে এগিয়ে নিয়ে যায়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনাল মোট ৩০ জনকে আসামি করে তদন্ত শুরু করে। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয় ১৪ জানুয়ারি, যুক্তি-তর্ক শেষ হয় ২৭ জানুয়ারি। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রায় ঘোষণার পর পরিবারের শোক ও অসন্তোষের পরিবেশ বিরাজ করছে, সহপাঠীরা অনেককেই লঘু দণ্ড পাওয়ায় হতাশ।


এই বিভাগের আরো খবর