বিদেশ : ইউরোপে জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সংগঠনটির জ্বালানি কমিশনার ড্যান জর্গেনসেন বলেন, চলমান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর সরকারকে সম্ভাব্য দীর্ঘস্থায়ী সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আজ জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানি মন্ত্রীরা। সেখানে চলমান সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে। জর্গেনসেন বলেন, বর্তমানে ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এখন থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। তিনি সদস্য দেশগুলোকে গ্যাস ও তেলের ব্যবহার কমানোর পরামর্শ দেন। পাশাপাশি এমন কোনো পদক্ষেপ না নিতে বলেন, যা জ্বালানি খরচ বাড়ায় এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের অবাধ প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে বা ইউরোপীয় রিফাইনারিগুলোর উৎপাদন নিরুৎসাহিত করে। এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক তেলের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এই কৌশলের মাধ্যমে ইরানকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করে দেওয়া হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফ্র্যাংক মুসামার বলেন, হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ পথ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব তেলবাজারে প্রভাব বাড়াতে চাইছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়। তিনি আরও জানান, খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র, যেখানে প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি হয়। ফলে এই জায়গাগুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে ইরানের ওপর বড় চাপ তৈরি করা সম্ভব।