বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোমবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের বিডি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী গণসংযোগে বললেন, “আগে নৌকা আর ধানের শীষ ছিল। এবার নৌকা নেই। নৌকার কান্ডারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা আপনাদের ফেলে ভারতে চলে গেছে। দিল্লিতে গিয়ে বসে আছে। বিপদে ফেলে চলে গেছে। থাকলে অত্যন্ত একটা গণতান্ত্রিক অবস্থা বিরাজ করত।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, “সামনে ১২ তারিখে ভোট। এমপি ইলেকশন হবে। আমাদের এখানে তো ভোট বলতে আমরা বুঝি চেয়ারম্যান ভোট আর এমপি ভোট। চেয়ারম্যান ভোট, এমপি ভোট গত সরকারের আমলে সবগুলো আগে ভাগে নিয়ে নিত, ভোটাররা ভোট দিতে পারতো না। অনেকদিন পরে এবার আমাদের একটা সুযোগ এসেছে ভোট দেওয়ার। আমরা এই ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখে ভোট দিয়ে নতুন একজন এমপি প্রতিনিধি নির্বাচন করব। যে এমপি প্রতিনিধি আমাদের ভবিষ্যতে এই এলাকার উন্নয়নে কাজ এবং আইন তৈরি করবে, যে আইনগুলোর মধ্য দিয়ে আমরা একটা সুন্দর দেশ পাব।”
তিনি বলেন, “যারা পাকিস্তানি সেনাদের সাহায্য করেছে। আমাদের হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছে। তারা আবার এসে ভোট চাচ্ছে। যে দলটা আমাদের দেশকে বিশ্বাস করে না। স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করে না। তাদেরকে ভোট দিয়ে দেশটার সর্বনাশ করব না।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা ১৫ বছর খুব কষ্ট করছি ভাই। এখানে সবাই জেলে গেছে। কেন? দোষটা কোনো চুরি না, ডাকাতি না। ওরা গণতন্ত্র চায়, ভোট দিতে চায়, সুতরাং, ওদেরকে মামলা দিয়ে জেলে ঢ়ুকিয়ে দাও। আমি ১১৭টা মামলার আসামি ছিলাম, ১১ বার জেলে গেছি, সড়ে তিন বছর জেলে থেকেছি। যারা জেলে থেকেছে, তারা জানে জেলের কী কষ্ট। এটা সত্য কথা। তারপরও আমরা কিন্তু থেমে থাকি নাই। মাথাটা নিচু করি নাই, মাথাটা উঁচু করে চলছি-যে আমরা ন্যায়ের পথে আছি, সত্যের পথে আছি। আমরা চাই তো বাবা ভোট, সোনাদানা গহনা তো চাই না! ভোটটা আমার রাইট, অধিকার। এটা (ভোট) আমাকে দিতে দেয়নি আগের সরকারটা, হাসিনা সরকারটা। দেয়নি তো দেয়নি, জেল খাটাইছে, মারছে, গুলি করছে, ফের এক সময় ছাত্র-জনতা যখন পাড়া দিছে, তখন দেশ ছেড়ে পালাইছে।”
পালালো তো পালালো, এখানে যারা আওয়ামী লীগ করে, তাকে সমর্থন করে, নৌকায় ভোট দিতো, সবগুলাকে বিপদে ফেলে চলে গেল। এ রকম নেতা তো আমরা চাই না। যে নিজের লোককে ফেলে পালায় যাবে-যোগ করেন বিএনপির এ নেতা।
এ সময় সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুল হামিদসহ দলটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন