স্পোর্টস: শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে নামতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্র, মেঙ্েিকা ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় ৪৮ দলের এই মেগা আসর সামনে রেখে দল গঠন, অধিনায়ক লিওনেল মেসির ভূমিকা এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানালেন বিশ্বকাপজয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনি।
সম্প্রতি লিওনেল মেসির সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের স্টুডিওতে স্কালোনি বলেন, “লিওর সঙ্গে আমি বসেছি, কফি পান করেছি। তাকে যারা চেনে, তারা জানে সে কখনোই রিল্যাঙ্ থাকে না। সে জন্মগতভাবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। একজন অধিনায়ক হিসেবে সে সবসময় এমন আচরণ করে যেন মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত, আর একদিন বিদায় নিলে এমন কিছু রেখে যাবে, যেটা পরের প্রজন্ম ধরে রাখতে পারে।”
তবে এই সাক্ষাতে মেসির বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি বলে স্পষ্ট করেছেন স্কালোনি। তার ভাষায়, “আমরা বিশ্বকাপ নিয়ে কথা বলিনি। এখন সামনে যেটা আছে সেটাতেই মনোযোগ। আপনি কাউকে চাপ দিতে পারেন না। তাকে নিজের মতো থাকতে দিতে হবে।”
বিশ্বকাপের সম্ভাব্য দল গঠন নিয়েও পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন আর্জেন্টাইন কোচ। তিনি জানান, আপাতত প্রায় ৫০ জন খেলোয়াড়ের একটি বড় তালিকা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। স্কালোনির ব্যাখ্যা, “সর্বশেষ বিশ্বকাপে আমরা দেখেছি, টুর্নামেন্টের একদম কাছাকাছি গিয়ে অনেকেই চোটে পড়েছে। কেউই যেন অকারণে বাদ না পড়ে, সে জন্যই তালিকাটা বড় রাখা হয়েছে। সবার সামর্থ্য প্রায় কাছাকাছি।”
কাতার বিশ্বকাপজয়ী দলের অনেকেই এবারও দলে থাকার দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন বলে ইঙ্গিত দেন স্কালোনি। তিনি বলেন, “তাদের বয়স এখন আদর্শ পর্যায়ে। বিশ্বকাপ জয়ের পর তারা এমন কিছু করেনি, যাতে সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়। বয়স নয়, আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাঠের পারফরম্যান্স।”
মেসির বয়স ও ভবিষ্যৎ নিয়েও বাস্তববাদী অবস্থান নিয়েছেন স্কালোনি। ৩৮ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি বিশ্বকাপে খেলবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত পুরোপুরি তার ওপরই ছেড়ে দিতে চান কোচ। স্কালোনি বলেন, “সে নিজেই বলেছে এখনো সময় আছে। তাই অযথা চাপ তৈরি করার কোনো কারণ দেখি না।”
দলের খেলোয়াড়দের ক্লাব বদল নিয়েও হস্তক্ষেপ না করার কথা জানান আর্জেন্টাইন কোচ। তরুণ ফরোয়ার্ড থিয়াগো আলমাদা কিংবা ভ্যালেন্টিন কার্বোনির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কোনো খেলোয়াড় কোথায় খেলবে, সেটা তার সিদ্ধান্ত। আমরা শুধু দেখি সে মাঠে কেমন পারফর্ম করছে। দিন শেষে পারফরম্যান্সই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের প্রতিপক্ষ নিয়েও সতর্ক স্কালোনি। ‘জে’ গ্রুপে আর্জেন্টিনার সঙ্গে রয়েছে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। স্কালোনির মতে, “আলজেরিয়ার একজন দারুণ কোচ আছে এবং তারা আফ্রিকান কাপেও ভালো করেছে। জর্ডান এশিয়া কাপে নজর কেড়েছে। অস্ট্রিয়া আবার আক্রমণাত্মক প্রেসিং ফুটবল খেলে। গ্রুপপর্বটা সহজ হবে না।”
সবশেষে দলের সামগ্রিক কাঠামো নিয়ে আত্মবিশ্বাসী স্কালোনি। তিনি বলেন, “এই খেলোয়াড়রা জায়গাটা অর্জন করেছে। সঠিক সময়ে সেরা অবস্থায় পৌঁছানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মার্চ থেকে আসল সময়টা শুরু হবে, সেখানে সামান্য সৌভাগ্যও দরকার।”
আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মেঙ্েিকা ও কানাডায় শুরু হবে ফুটবল বিশ্বকাপ। ১৬ জুন কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে আর্জেন্টিনা।