Dhaka ০৮:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাগেরহাটে জিলবুনিয়া দরবার শরীফের পীর হযরত মাওলানা শাহ সুফি মুহাম্মদ আব্দুর রহমান সাহেবের দাফন সম্পর্ণ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:২৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭০ Time View
বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ দক্ষিণাঞ্চলের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন, দ্বীনি মুরব্বি ও সমাজসংস্কারক, বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার ছোট জিলবুনিয়া দরবার শরীফের পীর সাহেব, সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ সুফি মুহাম্মদ আব্দুর রহমান খান সাহেবের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় মরহুমের জানাজা নামাজ তাঁর নিজ হাতে গড়ে তোলা বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে জিলবুনিয়া দরবার শরীফ জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় বিপুলসংখ্যক আলেম-ওলামা, ভক্ত-মুরিদান, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় পুরো এলাকায় এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

এর আগে, গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ রোববার স্থানীয় সময় দুপুর আনুমানিক পৌনে ১টার দিকে পবিত্র মক্কা শরীফে ওমরাহ পালনরত অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর ইন্তেকালের খবরে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত অসংখ্য ভক্ত-মুরিদান ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। মরহুম পীর সাহেব হুজুর ছিলেন একজন সুপরিচিত আলেম, দ্বীনের খাদেম ও সমাজসংস্কারক। তিনি আজীবন দ্বীনি শিক্ষা বিস্তার, নৈতিক চরিত্র গঠন ও মানবসেবায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করে গেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত হাবিবুল্লাহ আবাদ দরবার শরীফ, হাবিবুল্লাহ আবাদ ইসলামিয়া সিদ্দিকিয়া এন.এস. কামিল মাদ্রাসা, মসজিদ, খানকাহ, এতিমখানা ও বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান এলাকার দ্বীনি ও নৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, পরহেজগার ও আদর্শবান। তাঁর দাওয়াতি কার্যক্রম, নৈতিক শিক্ষা ও ইসলাহি মেহনতে অনুপ্রাণিত হয়ে অসংখ্য মানুষ ইসলামের পথে ফিরে এসেছে বলে স্থানীয়রা জানান।

মরহুম পীর সাহেব ৬ পুত্র, ৩ কন্যা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য ভক্ত-মুরিদান ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর ইন্তেকালের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে জিলবুনিয়াসহ পিরোজপুর ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় গভীর শোকের আবহ বিরাজ করে। তার জানাজা নামাজে বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ,সাংবাদিক ,সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনায় বিভিন্ন স্থানে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহ তা’আলার দরবারে তাঁর ক্ষমা, রহমত ও জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মাকাম কামনা করেন। আল্লাহ তা’আলা মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন, তাঁর কবরকে জান্নাতের বাগিচাসমূহের একটি বাগিচা বানিয়ে দিন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও ভক্ত-মুরিদানকে ধৈর্য ও সবরের তাওফিক দান করুন, আমিন।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

বাগেরহাটে জিলবুনিয়া দরবার শরীফের পীর হযরত মাওলানা শাহ সুফি মুহাম্মদ আব্দুর রহমান সাহেবের দাফন সম্পর্ণ

Update Time : ১০:২৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ দক্ষিণাঞ্চলের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন, দ্বীনি মুরব্বি ও সমাজসংস্কারক, বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার ছোট জিলবুনিয়া দরবার শরীফের পীর সাহেব, সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ সুফি মুহাম্মদ আব্দুর রহমান খান সাহেবের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় মরহুমের জানাজা নামাজ তাঁর নিজ হাতে গড়ে তোলা বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে জিলবুনিয়া দরবার শরীফ জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় বিপুলসংখ্যক আলেম-ওলামা, ভক্ত-মুরিদান, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় পুরো এলাকায় এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

এর আগে, গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ রোববার স্থানীয় সময় দুপুর আনুমানিক পৌনে ১টার দিকে পবিত্র মক্কা শরীফে ওমরাহ পালনরত অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর ইন্তেকালের খবরে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত অসংখ্য ভক্ত-মুরিদান ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। মরহুম পীর সাহেব হুজুর ছিলেন একজন সুপরিচিত আলেম, দ্বীনের খাদেম ও সমাজসংস্কারক। তিনি আজীবন দ্বীনি শিক্ষা বিস্তার, নৈতিক চরিত্র গঠন ও মানবসেবায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করে গেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত হাবিবুল্লাহ আবাদ দরবার শরীফ, হাবিবুল্লাহ আবাদ ইসলামিয়া সিদ্দিকিয়া এন.এস. কামিল মাদ্রাসা, মসজিদ, খানকাহ, এতিমখানা ও বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান এলাকার দ্বীনি ও নৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, পরহেজগার ও আদর্শবান। তাঁর দাওয়াতি কার্যক্রম, নৈতিক শিক্ষা ও ইসলাহি মেহনতে অনুপ্রাণিত হয়ে অসংখ্য মানুষ ইসলামের পথে ফিরে এসেছে বলে স্থানীয়রা জানান।

মরহুম পীর সাহেব ৬ পুত্র, ৩ কন্যা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য ভক্ত-মুরিদান ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর ইন্তেকালের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে জিলবুনিয়াসহ পিরোজপুর ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় গভীর শোকের আবহ বিরাজ করে। তার জানাজা নামাজে বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ,সাংবাদিক ,সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনায় বিভিন্ন স্থানে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহ তা’আলার দরবারে তাঁর ক্ষমা, রহমত ও জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মাকাম কামনা করেন। আল্লাহ তা’আলা মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন, তাঁর কবরকে জান্নাতের বাগিচাসমূহের একটি বাগিচা বানিয়ে দিন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও ভক্ত-মুরিদানকে ধৈর্য ও সবরের তাওফিক দান করুন, আমিন।