ছয় বছরের ব্যবধানে বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত নেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার ঘোষিত আয় ও সম্পদের চিত্রে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০১৯ সালের হলফনামার সঙ্গে ২০২৫ সালের নির্বাচনী হলফনামা তুলনা করলে দেখা যায়, তার বার্ষিক আয় বেড়েছে ২২ গুণের বেশি। একই সময়ে নগদ ও ব্যাংকে থাকা অর্থ এবং স্থাবর সম্পদের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাখিল করা সর্বশেষ হলফনামা বিশ্লেষণে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে তিনি নিজেকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
২০১৯ সালে একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হওয়ার সময় রুমিন ফারহানা বার্ষিক আয় দেখিয়েছিলেন ৪ লাখ ৩৪ হাজার ১০০ টাকা। এর মধ্যে আইন পেশা থেকে আয় ছিল ৪ লাখ টাকা এবং ব্যাংক আমানত থেকে পাওয়া সুদ ছিল ৩৪ হাজার ১০০ টাকা।
ছয় বছর পর, ২০২৫ সালের হলফনামায় তার ঘোষিত বার্ষিক আয় দাঁড়িয়েছে ৯৭ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা। অর্থাৎ এই সময়ে তার আয় বেড়েছে অন্তত ২২ গুণ।
নগদ অর্থ ও ব্যাংক আমানতের ক্ষেত্রেও একই ধরনের চিত্র দেখা যায়। ২০১৯ সালে তার হাতে নগদ অর্থ ছিল ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৪২২ টাকা। সর্বশেষ হলফনামা অনুযায়ী, বর্তমানে তার মোট নগদ ও ব্যাংক আমানতের পরিমাণ ৩২ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা। এর মধ্যে ব্যাংকে জমা রয়েছে ৩০ লাখ ৪২ হাজার ৬৯৪ টাকা এবং হাতে নগদ আছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৭৯ টাকা।
স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে বড় পরিসরে। ২০১৯ সালের হলফনামায় তিনি স্থাবর সম্পদ হিসেবে কেবল মায়ের কাছ থেকে পাওয়া একটি ফ্ল্যাটের কথা উল্লেখ করেছিলেন। একই বছরের ৩ অগাস্ট, শনিবার, একাদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার দুই মাসের মাথায় তিনি তৎকালীন সরকারের কাছে ১০ কাঠা জমি বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেন। সংসদ সদস্যদের প্যাডে করা ওই আবেদনে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, ঢাকায় তার নিজের নামে কোনো ফ্ল্যাট, জমি বা বসতভিটা নেই।
তবে ২০২৫ সালের হলফনামায় দেখা যায়, রাজধানীর অভিজাত এলাকায় তার নামে একাধিক সম্পদের তথ্য রয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী, তার মালিকানায় রয়েছে ধানমন্ডির ল্যাবরেটরি রোডে ৫ কাঠা জমি, একই এলাকায় পাঁচটি ফ্ল্যাট, মায়ের কাছ থেকে পাওয়া আরও একটি ফ্ল্যাট এবং পুরান ঢাকার পল্টনে ১ হাজার ২৫৮ দশমিক ৮৮৪ বর্গফুট আয়তনের একটি বাণিজ্যিক স্পেস। ওই বাণিজ্যিক স্পেসের মূল্য দেখানো হয়েছে ৬৫ লাখ টাকা। হলফনামায় বলা হয়েছে, এসব সম্পদের অধিকাংশই তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছেন, ফলে জমি ও ফ্ল্যাটগুলোর ক্রয়মূল্য উল্লেখ করা হয়নি।
দুটি হলফনামাতেই তার নামে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার থাকার তথ্য রয়েছে, যা উপহার হিসেবে পাওয়া বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার নামে কোনো যানবাহন নেই এবং শেয়ার, বন্ড বা অন্য কোনো বিনিয়োগের তথ্যও নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
মামলার তথ্যেও পরিবর্তনের কথা উল্লেখ রয়েছে। ২০১৯ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা তিনটি মামলা ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চলমান ছিল। সর্বশেষ হলফনামা অনুযায়ী, নতুন আরেকটি মামলাসহ আগের সেসব মামলা একই আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে।
নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবেও বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন রুমিন ফারহানা। হলফনামা অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে তিনি মোট ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছেন। এর মধ্যে ২০ লাখ টাকা আসবে তার নিজস্ব আয়ের উৎস আইন পেশা থেকে। বাকি ৫ লাখ টাকা তিনি ঋণ নেবেন খালাতো ভাই প্রবাসী গালিব মেহেদীর কাছ থেকে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, বিএনপি এবার সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর উপজেলার একাংশ নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে তাদের জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবকে মনোনয়ন দেয়। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তিনি ২৯ ডিসেম্বর, সোমবার, সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
এরপর ৩০ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যের অভিযোগে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মোট ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান এ আসনের সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন।