Dhaka ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শরিকদের জন্য আরও ৮ আসন ছেড়ে দিলো বিএনপি

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৫৭:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৭৮ Time View

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে চারটি আসন ছেড়ে দেওয়ার পর এবার অন্যান্য শরিকদের জন্য আরও ৮টি আসন ছেড়ে দিয়েছে দলটি। এতে করে জোটভিত্তিক নির্বাচনী প্রস্তুতি অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শরিক দলের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যেসব আসন শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সেসব আসনে বিএনপি নিজ দলের কোনো প্রার্থী দেবে না।

ঘোষণা অনুযায়ী, এলডিপি থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া ড. রেদোয়ান আহমেদ কুমিল্লা-৭ আসন থেকে নির্বাচন করবেন। জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা মোস্তফা জামান হায়দার লড়বেন পিরোজপুর-১ আসনে। গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ এবং দলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ঝিনাইদহ-২ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন। বিএনপিতে যোগ দেওয়া ববি হাজ্জাজ ঢাকা-১৩, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬, ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতি রশিদ যশোর-৫ এবং এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ নড়াইল-২ আসন থেকে প্রার্থী হচ্ছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে মির্জা ফখরুল বলেন, “কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ছেড়ে দেওয়া আসনে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তাঁর ভাষায়, শরিকদের সঙ্গে এই সমঝোতা বিএনপির যুগপৎ আন্দোলন ও নির্বাচনী কৌশলেরই অংশ।

এর আগে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) একই স্থানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল জানান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার ভিত্তিতে চারটি আসনে বিএনপি প্রার্থী দেবে না। ওই আসনগুলোতে জমিয়তের প্রার্থীরা হলেন নিলফামারী-১ এ মো. মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, নারায়ণগঞ্জ-৪ এ মনির হোসাইন কাসেমী, সিলেট-৫ এ মো. উবায়দুল্লাহ ফারুক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জুনায়েদ আল হাবীব।

বিএনপি সূত্র জানায়, ৩০০ আসনের মধ্যে ইতোমধ্যে ২৭২ আসনে দুই দফায় দলের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ২৮ আসনের মধ্যে চারটি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে এবং সর্বশেষ আটটি অন্যান্য শরিকদের দেওয়া হলো। এখনও ১৬টি আসন নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত বাকি রয়েছে।

দলটির শীর্ষ নেতারা বলছেন, শরিকদের সঙ্গে এই আসন সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। খুব শিগগিরই বাকি আসনগুলো নিয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

Tag :
About Author Information

মোরেলগঞ্জে অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস

শরিকদের জন্য আরও ৮ আসন ছেড়ে দিলো বিএনপি

Update Time : ১০:৫৭:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে চারটি আসন ছেড়ে দেওয়ার পর এবার অন্যান্য শরিকদের জন্য আরও ৮টি আসন ছেড়ে দিয়েছে দলটি। এতে করে জোটভিত্তিক নির্বাচনী প্রস্তুতি অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শরিক দলের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যেসব আসন শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সেসব আসনে বিএনপি নিজ দলের কোনো প্রার্থী দেবে না।

ঘোষণা অনুযায়ী, এলডিপি থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া ড. রেদোয়ান আহমেদ কুমিল্লা-৭ আসন থেকে নির্বাচন করবেন। জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা মোস্তফা জামান হায়দার লড়বেন পিরোজপুর-১ আসনে। গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ এবং দলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ঝিনাইদহ-২ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন। বিএনপিতে যোগ দেওয়া ববি হাজ্জাজ ঢাকা-১৩, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬, ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতি রশিদ যশোর-৫ এবং এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ নড়াইল-২ আসন থেকে প্রার্থী হচ্ছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে মির্জা ফখরুল বলেন, “কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ছেড়ে দেওয়া আসনে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তাঁর ভাষায়, শরিকদের সঙ্গে এই সমঝোতা বিএনপির যুগপৎ আন্দোলন ও নির্বাচনী কৌশলেরই অংশ।

এর আগে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) একই স্থানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল জানান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার ভিত্তিতে চারটি আসনে বিএনপি প্রার্থী দেবে না। ওই আসনগুলোতে জমিয়তের প্রার্থীরা হলেন নিলফামারী-১ এ মো. মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, নারায়ণগঞ্জ-৪ এ মনির হোসাইন কাসেমী, সিলেট-৫ এ মো. উবায়দুল্লাহ ফারুক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জুনায়েদ আল হাবীব।

বিএনপি সূত্র জানায়, ৩০০ আসনের মধ্যে ইতোমধ্যে ২৭২ আসনে দুই দফায় দলের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ২৮ আসনের মধ্যে চারটি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে এবং সর্বশেষ আটটি অন্যান্য শরিকদের দেওয়া হলো। এখনও ১৬টি আসন নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত বাকি রয়েছে।

দলটির শীর্ষ নেতারা বলছেন, শরিকদের সঙ্গে এই আসন সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। খুব শিগগিরই বাকি আসনগুলো নিয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।