Dhaka ১০:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চিকিৎসা নিতে পারছেন খালেদা জিয়া, শারীরিক অবস্থা আগের মতোই স্থিতিশীল

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:১১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৮ Time View

দীর্ঘদিনের নানা শারীরিক জটিলতায় হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা আগের মতোই রয়েছে। চিকিৎসকদের দেওয়া চিকিৎসা তিনি গ্রহণ করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন। চিকিৎসকরা আশাবাদী, ধীরে ধীরে তিনি সুস্থতার দিকে এগোবেন।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানাতে গিয়ে এসব কথা বলেন অধ্যাপক জাহিদ। তিনি জানান, বয়স ও দীর্ঘদিনের অসুস্থতা বিবেচনায় নিলে বর্তমান অবস্থাকে স্থিতিশীল বলা যায়। এখন পর্যন্ত চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তা তিনি ঠিকমতো গ্রহণ করতে পারছেন।

অধ্যাপক জাহিদ বলেন, “ওনার শারীরিক অবস্থা আগে যে পর্যায়ে ছিল, এখনও সেই পর্যায়েই আছে। চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন, এটাকে আমরা ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি।” তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের সময়ে পরিকল্পিতভাবে যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় খালেদা জিয়ার শারীরিক জটিলতা মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। এর প্রভাবেই এবার তাঁকে কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এই বোর্ড প্রতিদিন তাঁর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করছে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা হয় এবং সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চিকিৎসা চলছে। অধ্যাপক জাহিদ বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, এখন পর্যন্ত যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, ম্যাডাম তা গ্রহণ করতে পারছেন এবং গত কয়েকদিনের অবস্থা তিনি ধরে রাখতে পারছেন।”

তিনি জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান সার্বক্ষণিকভাবে চিকিৎসার বিষয়টি তদারকি করছেন। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী সৈয়দ শামিলা রহমান, খালেদা জিয়ার ভাই শামীম এস্কান্দার ও বড় বোন সেলিনা ইসলাম নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। তবে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে থাকায় তাঁরা সরাসরি পাশে থাকতে পারছেন না।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়া রোববার (২৩ নভেম্বর) এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর ফুসফুসে সংক্রমণ দেখা দিলে বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) তাঁকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। এর আগে শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। ওই অনুষ্ঠানে তাঁকে হাস্যোজ্জ্বল দেখা গেলেও পরদিন শ্বাসকষ্টের জটিলতা বাড়তে থাকে।

অধ্যাপক জাহিদ আরও বলেন, খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করছেন তাঁরা। তাঁর ভাষায়, “আমরা সবাই আশাবাদী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং দেশের রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা রাখতে পারবেন।”

একই সঙ্গে তিনি বিএনপির নেতা কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, হাসপাতালে অন্য রোগীদের চিকিৎসা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়। তিনি বলেন, এভারকেয়ার হাসপাতাল সবার জন্য উন্মুক্ত এবং এখানে চিকিৎসাধীন প্রতিটি রোগীর সেবাই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে আগুন, ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

চিকিৎসা নিতে পারছেন খালেদা জিয়া, শারীরিক অবস্থা আগের মতোই স্থিতিশীল

Update Time : ১২:১১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

দীর্ঘদিনের নানা শারীরিক জটিলতায় হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা আগের মতোই রয়েছে। চিকিৎসকদের দেওয়া চিকিৎসা তিনি গ্রহণ করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন। চিকিৎসকরা আশাবাদী, ধীরে ধীরে তিনি সুস্থতার দিকে এগোবেন।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানাতে গিয়ে এসব কথা বলেন অধ্যাপক জাহিদ। তিনি জানান, বয়স ও দীর্ঘদিনের অসুস্থতা বিবেচনায় নিলে বর্তমান অবস্থাকে স্থিতিশীল বলা যায়। এখন পর্যন্ত চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তা তিনি ঠিকমতো গ্রহণ করতে পারছেন।

অধ্যাপক জাহিদ বলেন, “ওনার শারীরিক অবস্থা আগে যে পর্যায়ে ছিল, এখনও সেই পর্যায়েই আছে। চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন, এটাকে আমরা ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি।” তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের সময়ে পরিকল্পিতভাবে যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় খালেদা জিয়ার শারীরিক জটিলতা মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। এর প্রভাবেই এবার তাঁকে কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এই বোর্ড প্রতিদিন তাঁর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করছে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা হয় এবং সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চিকিৎসা চলছে। অধ্যাপক জাহিদ বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, এখন পর্যন্ত যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, ম্যাডাম তা গ্রহণ করতে পারছেন এবং গত কয়েকদিনের অবস্থা তিনি ধরে রাখতে পারছেন।”

তিনি জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান সার্বক্ষণিকভাবে চিকিৎসার বিষয়টি তদারকি করছেন। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী সৈয়দ শামিলা রহমান, খালেদা জিয়ার ভাই শামীম এস্কান্দার ও বড় বোন সেলিনা ইসলাম নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। তবে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে থাকায় তাঁরা সরাসরি পাশে থাকতে পারছেন না।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়া রোববার (২৩ নভেম্বর) এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর ফুসফুসে সংক্রমণ দেখা দিলে বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) তাঁকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। এর আগে শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। ওই অনুষ্ঠানে তাঁকে হাস্যোজ্জ্বল দেখা গেলেও পরদিন শ্বাসকষ্টের জটিলতা বাড়তে থাকে।

অধ্যাপক জাহিদ আরও বলেন, খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করছেন তাঁরা। তাঁর ভাষায়, “আমরা সবাই আশাবাদী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং দেশের রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা রাখতে পারবেন।”

একই সঙ্গে তিনি বিএনপির নেতা কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, হাসপাতালে অন্য রোগীদের চিকিৎসা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়। তিনি বলেন, এভারকেয়ার হাসপাতাল সবার জন্য উন্মুক্ত এবং এখানে চিকিৎসাধীন প্রতিটি রোগীর সেবাই সমান গুরুত্বপূর্ণ।