পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় ফসিয়ার রহমান মহিলা ডিগ্রি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তরুণ প্রভাষক গোলাম আজম (৩৮)। ছাত্রছাত্রীদের প্রিয় ‘আজম স্যার’। সহকর্মীদের হাসিমুখে আগলে রাখা আন্তরিক বন্ধু। প্রিয়জনদের নির্ভরতার মানুষ। সেই মানুষটিই আজ আর নেই—এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিলো তাঁর তরতাজা প্রাণ। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
শনিবার বিকালের ব্যস্ততা শেষে কলেজের ক্লাস নিয়ে তিনি ফিরছিলেন নিজের বাড়ি সাতক্ষীরার আলীপুরে। যেভাবে প্রতিদিন ফিরতেন—হাসিমুখে, পরিবারের জন্য তাড়াহুড়ো নিয়ে। কিন্তু সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারানো মোটরসাইকেলটি সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়িতে ধাক্কা দিলে মুহূর্তেই সব ওলটপালট হয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালে নিলেও বাঁচানো যায়নি। চিকিৎসকের ঘোষণায় স্তব্ধ হয়ে যায় সবাই—‘আজম স্যার আর নেই।’
ফসিয়ার রহমান মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ উৎপল কুমার শোকার্ত কণ্ঠে বলেন, ২০১৯ সালে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে যোগ দিয়েছিলেন। খুবই নিষ্ঠাবান, দায়িত্বশীল একজন শিক্ষক। পাশাপাশি সাতক্ষীরা সীমান্ত আদর্শ কলেজের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছিলেন। তাঁর হঠাৎ মৃত্যুতে আমরা বাকরুদ্ধ।
কলেজ ক্যাম্পাসে আজ শোকের নীরবতা। যে মানুষটি হাসিমুখে ছাত্র–সহকর্মীদের অভ্যর্থনা জানাতেন, তাঁর খালি চেয়ারের দিকে তাকিয়ে অনেকেই নিজেকে ধরে রাখতে পারছেন না।
প্রভাষক হিসেবে তাঁর এক সহকর্মী চোখ ভেজা কণ্ঠে বলেন—আজম ভাই শুধু সহকর্মী ছিলেন না, ছিলেন আমাদের ভরসা। অত্যন্ত সরল, পরোপকারী মানুষ। ছাত্রদের জন্য দিন–রাত চিন্তা করতেন। তাঁর মতো মানুষ খুব কম পাওয়া যায়।
এক শিক্ষার্থী কান্না চেপে জানায়—স্যার পড়াতে ভালোবাসতেন, ভালোবাসতেন আমাদের। ব্যক্তিগত সমস্যা হলে আমরা স্যারের কাছেই যেতাম। স্যার স্নেহের সঙ্গে সব শুনতেন। আজ মনে হচ্ছে আমাদের মাথার ওপরের ছায়াটা হারিয়ে গেল।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই নিহত প্রভাষকের বাড়িতে মানুষের ঢল নামে। শিক্ষার্থী, সহকর্মী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক–সামাজিক ব্যক্তিবর্গ একে একে পৌঁছে সান্ত্বনা জানাতে থাকেন শোকাহত পরিবারকে। সবার চোখে একই প্রশ্ন—এত ভালো একজন মানুষ এভাবে চলে গেলেন কেন?পারিবারিক সূত্র জানায়,আজ শনিবার রাত ৮টায় নিজ বাড়িতে তাঁর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে।গোলাম আজম স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে, বাবা–মা, ভাই–বোনসহ অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে অকালেই বিদায় নিলেন।একজন আদর্শ শিক্ষক হারাল পাইকগা
ছা।একটি পরিবার তার অবলম্বন হারালো।