বিদেশ : সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, উপসাগরীয় রাজতন্ত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বৃদ্ধির মধ্যে, বিশেষ করে মাদক সম্পর্কিত দোষী সাব্যস্ত হওয়ার কারণে একদিনে আটজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, গত শনিবার দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান অঞ্চলে ‘গাঁজা পাচারের অভিযোগে’ চার সোমালি এবং তিন ইথিওপীয়র মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মাকে হত্যার দায়ে এক সৌদি ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এএফপির সরকারি প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে সৌদি আরব ২৩০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। এই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের বেশিরভাগই – ১৫৪ জন মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্ত হন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই গতি দেশটিকে গত বছরের ৩৩৮টি মৃত্যুদণ্ডের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে নিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা এই বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ২০২৩ সালে শুরু হওয়া দেশব্যাপী ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’কে দায়ী করছেন। এই সংক্রান্ত ঘটনায় শুরুতে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তাদের অনেককেই এখন আইনি প্রক্রিয়া এবং দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। প্রায় তিন বছর ধরে মাদক মামলায় মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখার পর ২০২২ সালের শেষের দিকে সৌদি আরব মাদক অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড পুনরায় শুরু করে। এএফপির হিসাব অনুযায়ী, মাদক-সম্পর্কিত অপরাধের জন্য দেশটি ২০২২ সালে ১৯ জন, ২০২৩ সালে দু’জন এবং ২০২৪ সালে ১১৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ বলেছে, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপরিহার্য। আপিলের সমস্ত উপায় শেষ হয়ে যাওয়ার পরেই কেবল মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগ করা হয়।
ছবি : ০৮
দুর্ভিক্ষের শিকার আরও ৭ জন, গাজায় অনাহারে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৯
এফএনএস বিদেশ : ইসরায়েলি আগ্রাসনে বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় অনাহারে একের পর এক প্রাণ হারাচ্ছে ফিলিস্তিনিরা। গত ২৪ ঘণ্টায় অঞ্চলটিতে আরও ৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অঞ্চলটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সমপ্রতি ৯৩ জন শিশুসহ অনাহারে মৃতের সংখ্যা ১৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, অঞ্চলজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা ৬০ হাজার ৪৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ১ লাখ ৪৮ হাজারেও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। যুদ্ধবিরতির আন্তর্জাতিক আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে ইসরায়েল ২০২৩ সাল থেকে গাজায় নৃশংস গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। অবিরাম বোমাবর্ষণে অঞ্চলটি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং খাদ্য সংকটে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের পর ২৭ মে থেকে ইসরায়েল জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোকে এড়িয়ে গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন-এর মাধ্যমে একটি পৃথক সাহায্য বিতরণ উদ্যোগ শুরু করেছে। এতে সমর্থন দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এই পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী ত্রাণ সমপ্রদায় ব্যাপকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসরায়েলি বাহিনী খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রের কাছে জড়ো হওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে শত শত মানুষ নিহত হচ্ছে। গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য নেতানিয়াহু ও তার প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। উপত্যকাজুড়ে যুদ্ধের জন্য ইসরায়েল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলার মুখোমুখি।