বিদেশ : প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় হামলার ফলে ডুবে যায় ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস নটিংহ্যাম। অবশেষে ১০৯ বছর পর এর ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়েছেন ডুবুরিরা। স্কটল্যান্ড উপকূল থেকে প্রায় ৬০ মাইল দূরে, ৮২ মিটার গভীর সমুদ্রে ডুবে থাকা জাহাজটি খুঁজে পান ডুবুরিদের একটি দল। আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান প্রকল্প প্রজেক্ট এঙ্প্লোর-এর নেতৃত্বে দশজন ডুবুরির একটি দল এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারটি করে। যুক্তরাজ্যের চারপাশে ইতিহাসসমৃদ্ধ জাহাজডুবির স্থান চিহ্নিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। ১৯১৬ সালের আগস্টে জার্মান সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় ডুবেছিল জাহাজটি। ৪৫৭ ফুট লম্বা এইচএমএস নটিংহ্যাম ১৯১৬ সালের ১৯ আগস্ট একটি নজরদারি অভিযানে থাকা অবস্থায় জার্মান ইউ-বোটের টর্পেডো হামলার শিকার হয়। তিনবার টর্পেডো আঘাত করে জাহাজটির বাম পাশে। সকালের শত্রু সাবমেরিনটি নজরে পড়লেও একজন নাবিক ভুল করে সেটিকে একটি ছোট মাছ ধরার নৌকা মনে করেন, যা পরবর্তীতে মারাত্মক ভুলে পরিণত হয়। ঘটনাটিতে ৩৮ জন নাবিক প্রাণ হারান। তবে ২০ জন কর্মকর্তা এবং ৩৫৭ জন ক্রু সদস্যকে রয়্যাল নেভির দুটি ডেস্ট্রয়ার উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। প্রজেক্ট এঙ্প্লোর জানায়, জাহাজটির নাম, আকার, যন্ত্রপাতি এবং অবস্থার বিবরণ সবকিছুই ঐতিহাসিক রেকর্ডের সঙ্গে মিলে গেছে। এর পাশাপাশি তারা জাহাজের স্টার্নে (পিছনের অংশে) খোদাই করা ‘নটিংহাম’ লেখা এবং রয়্যাল নেভির নীল মুকুট চিহ্নসহ সাদা ডিনার প্লেট খুঁজে পায়, যা শনাক্তকরণে নিশ্চিততা দেয়। জাহাজটি খুঁজে পেতে দীর্ঘ এক শতাব্দী ধরেই নানা প্রচেষ্টা চলেছে, তবে কোনো প্রচেষ্টাই সফল হয়নি। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে প্রজেক্টএঙ্প্লোর বিভিন্ন নৌ-দলিল, টেলিগ্রাম ও মানচিত্র বিশ্লেষণ করে অনুসন্ধান শুরু করে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তারা সোনার ক্যামেরা দিয়ে সাগরের ওই অংশ স্ক্যান করে সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষের ইঙ্গিত পায়। অবশেষে তিন মাস পর ডুবুরিরা সরাসরি সেখানে গিয়ে নিশ্চিত করেন যে, এটি এইচএমএস নটিংহ্যাম। প্রজেক্ট এঙ্প্লোর এই আবিষ্কারকে যুক্তরাজ্যের নৌ-ইতিহাসের এক ‘গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সূত্র : বিবিসি