বিদেশ : ইউরোপের দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাস ১৯৭৪ সাল থেকে কার্যত বিভক্ত হয়ে আছে। গতকাল রোববার সেই বিভক্তির ৫১তম বার্ষিকী ঘিরে মিশ্র অনুভূতি কাজ করছে গ্রিস এবং তুরস্কের মধ্যে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। গ্রিস দিনটিকে পালন করছে সাইপ্রাস হারানোর বার্ষিকী হিসেবে। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে পাঁচটায় তাদের শাসনাধীন সাউদার্ন গ্রিক সাইপ্রিয়টজুড়ে বিমান হামলার সাইরেন বাজানো হয়। ৫১ বছর আগে এই সময়েই গ্রিস সামরিক অভ্যুত্থানের প্রতিক্রিয়ায় তুরস্কের বাহিনী সাইপ্রাসে প্রবেশ করেছিল। সেই সংঘাতে প্রাণ হারানো দক্ষিণিদের স্মরণে এক প্রার্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডুলাইডেস। অন্যদিকে, সাইপ্রাসের উত্তরাংশের উদ্যাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। সাইপ্রাস থেকে বিচ্ছিন্ন এই স্বঘোষিত রাষ্ট্র একমাত্র তুরস্কের স্বীকৃতি অর্জন করতে পেরেছে। অর্ধশতক ধরে বিচ্ছিন্ন দ্বীপটিকে নিয়ে আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এখনও চলমান। এখানে দ্বি-অঞ্চলভিত্তিক ও দ্বি-সমপ্রদায়ভিত্তিক ফেডারেশনে পুনরেকত্রীকরণের প্রচেষ্টা বারবার ব্যর্থ হয়েছে, কারণ দুই পক্ষের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস ও দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নিয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি বিরাজ করছে। এই অমীমাংসিত সংঘাত পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো সদস্য গ্রিস ও তুরস্কের মধ্যে উত্তেজনার উৎস এবং তুরস্কের ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ার প্রচেষ্টায়ও জটিলতা সৃষ্টি করছে, যেখানে সাইপ্রাস ও গ্রিস উভয়ই সদস্য রাষ্ট্র। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, দুই পক্ষই আস্থা পুনর্গঠনের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে। তবে চূড়ান্ত সমাধানে এখনও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।