সর্বশেষ :
বাগেরহাটে রামপালে দুর্ঘটনায় ১৪ নিহত, ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি, দেওয়া হবে ক্ষতিপূরণ।। বাগেরহাটে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে ঈদে নতুন পোশাক বিতরণ মার্কিন হামলায় নিহত ৮৪ ইরানি নাবিকের মরদেহ ফেরত পাঠাচ্ছে শ্রীলঙ্কা ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে ১০ দিনে ৬৮৭ জন নিহত ইরানে বিক্ষোভ করলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি বিপ্লবী গার্ডসের ইরানকে সবদিক দিয়ে পুরোপুরি ধ্বংস করার হুঁশিয়ারি ট্রাম্প দুবাইয়ে বিকট বিস্ফোরণ, কাঁপলো একের পর এক ভবন উত্তর কোরিয়া ও চীনের মধ্যে ৬ বছর পর আবার ট্রেন চালু ইরাকে মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৪ ক্রু নিহত আগামী মঙ্গলবার থেকে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া সফর করবেন ম্যাখোঁ
রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন
Notice :
Wellcome to our website...

রোগীদের ইনজেকশন দিয়ে হত্যা: জার্মানিতে চিকিৎসকের বিচার শুরু

প্রতিনিধি: / ১৪৬ দেখেছেন:
পাবলিশ: সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫

বিদেশ : জার্মানির একজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী ইনজেকশন দিয়ে ১৫ রোগীকে হত্যার অভিযোগে সোমবার বিচার শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা আশঙ্কা করছেন, এটি হয়তো তার অপরাধের সামান্য চিত্র। বার্লিন থেকে এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে। অভিযুক্ত চিকিৎসক একজন প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিশেষজ্ঞ। জার্মান গণমাধ্যম ৪০ বছর বয়সী এই ব্যক্তির পুরো নাম প্রকাশ করেনি। শুধু প্রথম নাম ও নামের প্রথম অক্ষর ব্যবহার করে জোহানেস এম. নামে সম্বোধন করেছে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত বার্লিনে কাজ করার সময় ১২ নারী ও ৩ জন পুরুষকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত তিনি। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২৫ থেকে ৯৪ বছর বয়সী ভুক্তভোগীদের তিনি ঘুমের ওষুধসহ বিভিন্ন ঔষধের প্রাণঘাতী ককটেল ইনজেকশন পুশ করেন। কয়েকটি ক্ষেত্রে অপরাধের প্রমাণ মুছে ফেলতে রোগীদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। গত জুলাইয়ে তার একজন সহকর্মী প্রথম সন্দেহ প্রকাশ করেন। কারণ, তার এত সংখ্যক রোগীর মৃত্যু অগ্নিকাণ্ডে হওয়াটা অস্বাভাবিক ঠেকেছিল। এরপর আগস্টে গ্রেফতার হন চিকিৎসক জোহানেস এম.। তখন চারটি মৃত্যুর ঘটনায় তার জড়িত থাকার ধারণা করা হয়। পরবর্তী তদন্তে আরো বহু সন্দেহজনক মৃত্যুর তথ্য উঠে আসে। এপ্রিলে তার বিরুদ্ধে ১৫টি হত্যার অভিযোগ আনেন প্রসিকিউটররা। বর্তমানে আরো ৯৬টি মৃত্যুর ঘটনা তদন্তাধীন। যার মধ্যে জোহানেসের নিজের শাশুড়ির মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে। ওই নারী ২০২৪ সালের শুরুর দিকে পোল্যান্ডে মারা যান। এর ঠিক কয়েকদিন আগেই জোহানেস ও তার স্ত্রী সেখানে বেড়াতে গিয়েছিলেন। জার্মান গণমাধ্যমে তাকে ‘মৃত্যুর ডাক্তার’ হিসেবে আখ্যায়েত করেছে। তিনি মূলত রেডিওলজিস্ট ও সাধারণ চিকিৎসক হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন, পরে প্যালিয়েটিভ কেয়ারে বিশেষজ্ঞ হন। ২০১৩ সালে তিনি একটি ডক্টরাল থিসিস জমা দেন, যেটি ছিল ফ্রাঙ্কফুর্টে ঘটে যাওয়া একাধিক হত্যার আড়ালের মনস্তত্ত্ব নিয়ে লেখা। থিসিসটির প্রথম লাইনে লেখা ছিল: ‘মানুষ কেন হত্যা করে?’ প্রসিকিউটরদের দাবি, সবকটি ঘটনায় জোহানেস এম. রোগীদের অজান্তে ঘুমের ওষুধ ও মাংসপেশি শিথিলকারী ইনজেকশন দেন। এই ওষুধ ফুসফুসের পেশিকে অবশ করে দেয়, ফলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যু ঘটে। পাঁচটি ঘটনায় তিনি ইনজেকশনের পর রোগীর বাড়িতে আগুন লাগান। একদিনেই তিনি দু’জনকে হত্যা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৮ জুলাই সকালে তিনি বার্লিনের ক্রয়ৎসবের্গে ৭৫ বছর বয়সী একজন পুরুষকে হত্যা করেন। কয়েক ঘণ্টা পর নিকটবর্তী নইকোলন জেলায় ৭৬ বছর বয়সী এক নারীকেও হত্যা করেন এবং তার অ্যাপার্টমেন্টে আগুন ধরিয়ে দেন বলে জানান প্রসিকিউটররা। তারা আরো জানান, ‘এরপর অভিযুক্ত ওই নারীর আত্মীয়কে ফোন করে জানান যে, তিনি তার ফ্ল্যাটের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু বারবার বেল চাপার পরও ভেতর থেকে কেউ সাড়া দিচ্ছে না।’ আরেকটি ঘটনায় ৫৬ বছর বয়সী এক রোগীর হৃদপুণরুজ্জীবন প্রচেষ্টা শুরু বলে মিথ্যা দাবি করেন। ওই রোগী উদ্ধারকারীদের প্রচেষ্টায় তিনদিন বেঁচে ছিলেন, পরে হাসপাতালে মারা যান। প্রসিকিউটরদের দাবি, জোহানেস এম.-এর ‘হত্যা ছাড়া আর কোনো উদ্দেশ্য ছিল না’। তারা এই চিকিৎসকের সর্বোচ্চ শাস্তি, অর্থাৎ আজীবন কারাদণ্ড চাচ্ছেন। এই ঘটনা জার্মানির কুখ্যাত নার্স নিলস হোগেলের ঘটনা মনে করিয়ে দেয়। ২০১৯ সালে ৮৫ জন রোগীকে হত্যার দায়ে আজীবন কারাদণ্ড পান তিনি। সমপ্রতি আরো কয়েকটি একই ধরনের ঘটনায় জার্মানরা নড়েচড়ে বসেছে। ২০২৩ সালে এক ২৭ বছর বয়সী নার্স দু’জন রোগীকে অননুমোদিত ওষুধ দিয়ে হত্যা করায় আজীবন সাজা পান। আবার গত মার্চে আরেক নার্সের বিরুদ্ধে ২৬ জন রোগীর ওপর অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ ও ব্যথানাশক প্রয়োগের অভিযোগে বিচার শুরু হয়েছে। ওই ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, কয়েক সপ্তাহ আগে জার্মান পুলিশ আরো এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। তিনি মূলত বয়স্ক রোগীদের হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।


এই বিভাগের আরো খবর