বিদেশ : তুরস্কের সঙ্গে কয়েক দশক ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে নিরস্ত্রীকরণের দিকে প্রথম পদক্ষেপ শুরু করেছে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)। শুক্রবার এক প্রতিবেদনে আল জাজিরা জানিয়েছে, সংগঠনের যোদ্ধারা ইরাকের উত্তর কুর্দি অঞ্চলে প্রতীকী নিরস্ত্রীকরণ শুরু করেছে। এটি তুর্কি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ৪০ বছর ধরে চলমান সশস্ত্র অভিযানের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি। এই সংঘাতজুড়ে ৪০ হাজারেও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় কুর্দি অঞ্চলে একটি ছোট অনুষ্ঠান হয়েছে। যেখানে ২০ থেকে ৩০ জন পিকেকে যোদ্ধা তাদের অস্ত্র কোনো সরকার বা কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ না করে নিজেরা ধ্বংস করেছে। আল জাজিরা জনায়, প্রতীকী প্রক্রিয়াটি কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। পুরো গ্রীষ্মজুড়ে এটি চলবে বলে আশা করা হচ্ছে। পায়ে চাপানো রক্তাক্ত শিকল সম্পূর্ণরূপে ছিঁড়ে ফেলা এবং ছুঁড়ে ফেলা’ বলে ঘোষণা করেছেন। এরদোগান আরও বলেছেন, এই পদক্ষেপ সমগ্র অঞ্চলের জন্য উপকারী হবে। গত মে মাসে পিকেকে তাদের সশস্ত্র সংগ্রাম ত্যাগ করার ঘোষণা দেওয়ার পর আজ প্রথম এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। ইতিহাসের বেশিরভাগ সময় ধরে পিকেকে তুরস্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তালিকায় ‘সন্ত্রাসী’ গোষ্ঠী হিসাবে চিহ্নিত ছিল। গত দশকগুলোতে হাজার হাজার কুর্দি দক্ষিণ-পূর্ব তুর্কিতে সহিংসতা থেকে পালিয়ে উত্তরের শহরগুলোতে চলে গিয়েছিল। এদিকে, ১৯৯৯ সালে ধরা পড়ার পর থেকে তুর্কি নেতা আব্দুল্লাহ ওকালানকে তুরস্কের ইমরালি দ্বীপে নির্জন কারাগারে রাখা হয়েছে। কারাদণ্ড সত্ত্বেও তিনি দল এবং অঞ্চলজুড়ে পিকেকে-এর বৃহত্তর শাখাগুলোর জন্য একজন প্রতীকী প্রধান ব্যক্তিত্ব হিসেবে রয়ে গেছেন। নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি তুরস্কের কুর্দিশ ডিইএম পার্টির সদস্যদের পাশাপাশি তুর্কি মিডিয়াও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পরবর্তী পর্যায়গুলো তুরস্ক, ইরাক এবং উত্তর ইরাকের কুর্দি আঞ্চলিক সরকারের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য নির্ধারিত স্থানে অনুষ্ঠিত হবে।