Dhaka ০৭:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইলিয়াস কাঞ্চনের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক দল ‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৩০:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৫
  • ৩১২ Time View

চিত্রনায়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চনের নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করলো নতুন রাজনৈতিক দল ‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’। দলটির দলীয় স্লোগান— গড়বো মোরা ইনসাফের দেশ। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ দলের নাম ঘোষণা করেন ইলিয়াস কাঞ্চন। অনুষ্ঠান শেষ হয় দুপুর ১২টায়। নতুন দলের কমিটিতে সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন, মহাসচিব শওকত মাহমুদ ও মুখপাত্র হয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী গোলাম সারোয়ার মিলন। নতুন এই দলে রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি সাংবাদিক, আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন অঙ্গনের ব্যক্তিরা স্থান পেয়েছেন। ১৯৯৩ সালে স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর থেকে ইলিয়াস কাঞ্চন সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। বিভিন্ন সময়ে তাকে নির্বাচন করার আহ্বান জানানো হলেও এবারই প্রথম সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হলেন। সর্বশেষ ২০২২-২০২৪ সেশনে তিনি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একুশে পদক, চলচ্চিত্র ও বাচসাস পুরস্কারেও ভূষিত হন। ‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’র মহাসচিব শওকত মাহমুদ জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ছিলেন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ২০২৩ সালের ২১ মার্চ বিএনপি থেকে বহিষ্কার হন তিনি। এর আগে গত ১৭ এপ্রিল ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক নেত্রী ফাতিমা তাসনিমের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আ-আম জনতা পার্টি নামে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে। আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, বিগত দিনে কোনও সরকারই সুশাসন নিশ্চিত করতে পারেনি। তাই আমরা আগামীতে দেশের জন্য সততার সঙ্গে কাজ করতে চাই। তিনি বলেন, গত ৩২ বছরে নিরাপদ সড়ক নিয়ে তার আন্দোলন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছে। তবে কিছুটা সফলতাও রয়েছে। এই সময়ে কোনও সরকারই তাকে সহযোগিতা করেনি। যে কোনও ইতিবাচক কাজ বাস্তবায়নে সরকারের সহযোগিতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি। বিগত ৩২ বছর যেভাবে মানুষের নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে কাজ করেছেন আগামীতে রাজনৈতিক অঙ্গনেও সেভাবে ভূমিকা রাখতে চান বলে জানান ইলিয়াস কাঞ্চন। এ ব্যাপারে তিনি জনগণকে পাশে চান। নতুন দল জনতা পার্টি বাংলাদেশের আংশিক কমিটি চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন, নির্বাহী চেয়ারম্যান ও মুখপাত্র করা হয়েছে গোলাম সারোয়ার মিলন। ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন— রফিকুল হক হাফিজ, সিনিয়র অ্যাডভোকেট এ বি এম ওয়ালিউর রহমান, রেহানা সালাম, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, এম এ ইউসুফ, সৈয়দা আজিজুন নাহার, গোলাম মেহরাজ, ব্রিগ্রেডিয়া জেনারেল (অব.) কামরুল ইসলাম এবং নির্মল চক্রবর্তীকে। নির্বাহী কমিটিতে আরও রয়েছেন— সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এম আসাদুজ্জামান, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট এবিএম রফিকুল হক তালুকদার রাজা, আল আমিন রাজু, অ্যাডভোকেট শিউলি সুলতানা রুবী, নাজমুল আহসান, জামাল উদ্দিন, শাহাদত হোসেন, আসাদুজ্জামান ও জাকির হোসেন লিটু। দলটির সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পেয়েছেন নূরুল কাদের সোহেল, সহ-সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর, জাকির হোসেন ও ফাতেমা বেগম।
রাজনীতিবিদদের মধ্যে যারা উপস্থিত ছিলেন: নতুন দল জনতা পার্টি বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে রাজনীতিবিদদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সভাপতি ড. রেজা কিবরিয়া, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মোবারক হোসেন, গণআজাদী লীগের একাংশের সভাপতি আতাউল্লাহ, মুসলিম লীগের একাংশের সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসীন রশীদ, এনডিপির একাংশের সভাপতি গোলাম মর্তুজা, আম জনতার দলের দফতর সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ প্রমুখ।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

বাগেরহাটে চেক জালিয়াতির অভিযোগসহ যৌথ ব্যবসা দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন, প্রাণনাশের আশঙ্কা

ইলিয়াস কাঞ্চনের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক দল ‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’

Update Time : ১২:৩০:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৫

চিত্রনায়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চনের নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করলো নতুন রাজনৈতিক দল ‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’। দলটির দলীয় স্লোগান— গড়বো মোরা ইনসাফের দেশ। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ দলের নাম ঘোষণা করেন ইলিয়াস কাঞ্চন। অনুষ্ঠান শেষ হয় দুপুর ১২টায়। নতুন দলের কমিটিতে সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন, মহাসচিব শওকত মাহমুদ ও মুখপাত্র হয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী গোলাম সারোয়ার মিলন। নতুন এই দলে রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি সাংবাদিক, আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন অঙ্গনের ব্যক্তিরা স্থান পেয়েছেন। ১৯৯৩ সালে স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর থেকে ইলিয়াস কাঞ্চন সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। বিভিন্ন সময়ে তাকে নির্বাচন করার আহ্বান জানানো হলেও এবারই প্রথম সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হলেন। সর্বশেষ ২০২২-২০২৪ সেশনে তিনি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একুশে পদক, চলচ্চিত্র ও বাচসাস পুরস্কারেও ভূষিত হন। ‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’র মহাসচিব শওকত মাহমুদ জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ছিলেন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ২০২৩ সালের ২১ মার্চ বিএনপি থেকে বহিষ্কার হন তিনি। এর আগে গত ১৭ এপ্রিল ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক নেত্রী ফাতিমা তাসনিমের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আ-আম জনতা পার্টি নামে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে। আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, বিগত দিনে কোনও সরকারই সুশাসন নিশ্চিত করতে পারেনি। তাই আমরা আগামীতে দেশের জন্য সততার সঙ্গে কাজ করতে চাই। তিনি বলেন, গত ৩২ বছরে নিরাপদ সড়ক নিয়ে তার আন্দোলন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছে। তবে কিছুটা সফলতাও রয়েছে। এই সময়ে কোনও সরকারই তাকে সহযোগিতা করেনি। যে কোনও ইতিবাচক কাজ বাস্তবায়নে সরকারের সহযোগিতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি। বিগত ৩২ বছর যেভাবে মানুষের নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে কাজ করেছেন আগামীতে রাজনৈতিক অঙ্গনেও সেভাবে ভূমিকা রাখতে চান বলে জানান ইলিয়াস কাঞ্চন। এ ব্যাপারে তিনি জনগণকে পাশে চান। নতুন দল জনতা পার্টি বাংলাদেশের আংশিক কমিটি চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন, নির্বাহী চেয়ারম্যান ও মুখপাত্র করা হয়েছে গোলাম সারোয়ার মিলন। ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন— রফিকুল হক হাফিজ, সিনিয়র অ্যাডভোকেট এ বি এম ওয়ালিউর রহমান, রেহানা সালাম, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, এম এ ইউসুফ, সৈয়দা আজিজুন নাহার, গোলাম মেহরাজ, ব্রিগ্রেডিয়া জেনারেল (অব.) কামরুল ইসলাম এবং নির্মল চক্রবর্তীকে। নির্বাহী কমিটিতে আরও রয়েছেন— সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এম আসাদুজ্জামান, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট এবিএম রফিকুল হক তালুকদার রাজা, আল আমিন রাজু, অ্যাডভোকেট শিউলি সুলতানা রুবী, নাজমুল আহসান, জামাল উদ্দিন, শাহাদত হোসেন, আসাদুজ্জামান ও জাকির হোসেন লিটু। দলটির সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পেয়েছেন নূরুল কাদের সোহেল, সহ-সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর, জাকির হোসেন ও ফাতেমা বেগম।
রাজনীতিবিদদের মধ্যে যারা উপস্থিত ছিলেন: নতুন দল জনতা পার্টি বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে রাজনীতিবিদদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সভাপতি ড. রেজা কিবরিয়া, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মোবারক হোসেন, গণআজাদী লীগের একাংশের সভাপতি আতাউল্লাহ, মুসলিম লীগের একাংশের সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসীন রশীদ, এনডিপির একাংশের সভাপতি গোলাম মর্তুজা, আম জনতার দলের দফতর সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ প্রমুখ।