Dhaka ১২:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আরও তৎপর হতে হবে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:০১:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ৩০৩ Time View

সারা দেশে চলমান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, কোনো অপরাধী যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে পালাতে না পারে। তিনি বলেন, “আমরা কোনো অপরাধীকে রাস্তায়, বাজারে, মাঠে, ময়দানে, রাজপথে দেখতে চাই না। প্রত্যেক অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং তাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

মঙ্গলবার ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত ‘দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানবাধিকার ও পরিবেশের উপর গুরুত্বসহ আইন প্রয়োগ বিষয়ক’ কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ফ্যাসিবাদ ও তাদের দোসরদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা।

উপদেষ্টা আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলেও তাদের দোসররা দেশে-বিদেশে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তারা জনগণের সম্পদ লুটপাট করে অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছে এবং দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।”

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা দেশে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ শুরু হয়েছে, যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে। মেট্রোপলিটন এলাকায় পুলিশ কমিশনার এবং জেলা পর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপার এই অভিযানের সমন্বয় করবেন।

তিনি বলেন, “সরকারের পুলিশ, র‍্যাব, সশস্ত্র বাহিনী ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে এবং এ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো সকল অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে তাদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা।”

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, “সরকার ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় আটজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত করেছে, যাতে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। আইনজীবীদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, তারা যেন প্রতিটি মামলার নির্ধারিত তারিখে আদালতে উপস্থিত থাকেন এবং কোনো সন্ত্রাসী যেন জামিন না পায় সে বিষয়ে সতর্ক থাকেন।”

তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্ট, সন্ত্রাসী এবং নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীরা যদি আদালতের ব্যর্থতার কারণে জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, “মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে হবে।”

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, “কাউকে হুট করে জামিন দেওয়া যাবে না এবং যিনি জামিন পাওয়ার যোগ্য, তাকেও বঞ্চিত করা যাবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সঠিকভাবে কাজ করলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হবে।”

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী তার বক্তব্যের শেষে বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, আইনি কাঠামোর মাধ্যমে বিচার বিভাগ, দক্ষ পুলিশ ও আইনজীবীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সন্ত্রাসীদের মূলোৎপাটন সম্ভব। আমরা কোনো অপরাধীকে রাস্তায় দেখতে চাই না এবং দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

বাসের ভাড়া পুনঃনির্ধারণ করা হবে: ডা. জাহেদ

আরও তৎপর হতে হবে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

Update Time : ১০:০১:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

সারা দেশে চলমান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, কোনো অপরাধী যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে পালাতে না পারে। তিনি বলেন, “আমরা কোনো অপরাধীকে রাস্তায়, বাজারে, মাঠে, ময়দানে, রাজপথে দেখতে চাই না। প্রত্যেক অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং তাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

মঙ্গলবার ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত ‘দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানবাধিকার ও পরিবেশের উপর গুরুত্বসহ আইন প্রয়োগ বিষয়ক’ কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ফ্যাসিবাদ ও তাদের দোসরদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা।

উপদেষ্টা আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলেও তাদের দোসররা দেশে-বিদেশে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তারা জনগণের সম্পদ লুটপাট করে অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছে এবং দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।”

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা দেশে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ শুরু হয়েছে, যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে। মেট্রোপলিটন এলাকায় পুলিশ কমিশনার এবং জেলা পর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপার এই অভিযানের সমন্বয় করবেন।

তিনি বলেন, “সরকারের পুলিশ, র‍্যাব, সশস্ত্র বাহিনী ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে এবং এ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো সকল অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে তাদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা।”

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, “সরকার ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় আটজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত করেছে, যাতে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। আইনজীবীদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, তারা যেন প্রতিটি মামলার নির্ধারিত তারিখে আদালতে উপস্থিত থাকেন এবং কোনো সন্ত্রাসী যেন জামিন না পায় সে বিষয়ে সতর্ক থাকেন।”

তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্ট, সন্ত্রাসী এবং নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীরা যদি আদালতের ব্যর্থতার কারণে জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, “মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে হবে।”

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, “কাউকে হুট করে জামিন দেওয়া যাবে না এবং যিনি জামিন পাওয়ার যোগ্য, তাকেও বঞ্চিত করা যাবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সঠিকভাবে কাজ করলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হবে।”

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী তার বক্তব্যের শেষে বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, আইনি কাঠামোর মাধ্যমে বিচার বিভাগ, দক্ষ পুলিশ ও আইনজীবীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সন্ত্রাসীদের মূলোৎপাটন সম্ভব। আমরা কোনো অপরাধীকে রাস্তায় দেখতে চাই না এবং দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”